আজকের তারিখঃ | বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
রাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষ না হলে কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে, প্রশ্ন আনু মুহাম্মদের মুক্তমত প্রকাশ–সংক্রান্ত ও গায়েবি মামলা ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রত্যাহারের আশা আইন উপদেষ্টার প্রধান উপদেষ্টাকে মার্চে বেইজিং সফরে নিতে আগ্রহী চীন রমজান উপলক্ষে আরটিভির হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার সিলেকশন রাউন্ড শেষ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের আহ্বান ডিআরইউয়ের সাংবাদিকদের দ্রুত অ্যাক্রিডিটেশন প্রদানের আহ্বান অনলাইন এডিটরস অ্যালায়েন্সের অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ অগ্নিকাণ্ডের ৫ দিন পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশ ‘বিটিভি নিউজ’র যাত্রা শুরু বিশ্বকাপ নিয়ে রিভালদোর সঙ্গে তর্কে জড়ালেন নেইমার ৪৮ রানে ৭ উইকেট হারাল পাকিস্তান, ওয়ারিকানের স্পিন–ঘূর্ণি রান নেই–উইকেট নেই, তবু ম্যাচসেরা এটা স্কুল নয়, শাস্তিও নয়—বললেন ভারতের প্রধান নির্বাচক আমি চুয়েটের শিক্ষার্থী, তাই আবেগ ও দায়বদ্ধতাও বেশি : চুয়েটের উপাচার্য এআইইউবিতে চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত বদলে যাওয়া ক্যাম্পাস বৃহত্তর খুলনার প্রথম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি ব্রজলাল কলেজ কোনো সভ্য দেশে কূটনৈতিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা হতে পারে না ভারতের সঙ্গে কথা হবে চোখে চোখ রেখে বাড়ির দোতলায়ও পানি, ভাই–বোনের খোঁজ পাচ্ছেন না গায়িকা পুতুল
ad728

মতলবে এক বাগানেই ১৫০ জাতের আঙুর

রিপোর্টারের নাম: চাঁদপুর২৪ ll ডেস্ক নিউজ
  • সংবাদ প্রকাশের তারিখ : May 9, 2026 ইং
  • ৭৮১ বার
ছবির ক্যাপশন:

মোল্লা হাবিবুর রহমানঃ
চাকুরির পিছনে আর নয় ছুটো ছুটি। এমন কিছু করতে হবে যা করে নিজের অর্থনৈতিক সফলতার পাশাপাশি অন্য তরুণরাও হবে উৎসাহিত। বেকারত্বের অভিশাপকে পাশ কাটিয়ে অল্প পুঁজিতে তারাও হবে স্বাবলম্বী। এমন চিন্তা থেকেই চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছোট হলদিয়া গ্রামের ইকরাম খান করলেন আঙ্গুরের বাগান। প্রবাসী ভাইয়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা একটি আঙ্গুরের চারা দিয়ে শুরু করা সেই আগুরের বাগানে এখন ১৫০ জাতের আঙ্গুর গাছ। এক বাগানে একসাথে এতো জাতের আঙ্গুল খবরটি চারদিকে জানাজানি হওয়ার পর অনেক অনেক মানুষ এই আঙ্গুরের বাগানটি দেখতে আসে। এক মৌসুমী চারা এবং আঙ্গুর বিক্রিও করেছে ৯ লক্ষাধিক টাকা। 

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর সাবেক উপ-প্রকৌশলী সায়েদুল ইসলাম খানের ছেলে এই ইকরাম খান । ২৬ বছর বয়সী ইকরাম খান ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের ছোট হলদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তার সংসার।

ছোটহলদিয়া গ্রামে স্থানীয় একটি কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশে ১৮ শতক পৈতৃক জমিতে তাঁর এই ব্যতিক্রমী আঙুর বাগান। মালচিং পদ্ধতিতে গড়ে তোলা বাগানে সারি সারি গাছে ঝুলছে লাল, সবুজ, হলুদ সহ নানা রঙ্গের আধাপাকা ও পাকা আঙুরের থোকা। দূর থেকেই যে কারোরই নজর কাড়ে নানা রঙের আঙ্গুর ফলের দিকে ।
ব্যতিক্রমী এই আঙ্গুর চাষী ইকরাম খানের সাথে তার বাগান নিয়ে কথা হলে তিনি জানায়, ২০১৯ সালে এইচএসসি পাস করার পর আর পড়াশোনা এগোয়নি। চাকুরির জন্য এদিক সেদিক চেষ্টা করেও কাঙ্খিত সুফল পাওয়া যায়নি। চাকরির জন্য অপেক্ষা না করে নিজেই ভিন্ন কিছু করার চিন্তা থেকেই মাঠে নামা। ২০২১ সালে সিঙ্গাপুরে থাকা বড় ভাইয়ের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া থেকে একটি আঙুরের চারা সংগ্রহ করি। সেটি বাড়ির ছাদে লাগানোর এক বছর পর গাছে ফল আসে। থোকায় থোকায় আঙুর দেখে আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। স্থানীয় তরুণরা উৎসাহিত হয়ে তারও চারা সংগ্রহ করে বাগান করার চেষ্টা করছে। 
সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদেশ থেকে অনলাইন ও লোক মারফত ১৫০টি উন্নত জাতের আঙুরের চারা সংগ্রহ করি। পরে পৈতৃক ১৮ শতক জমিতে গড়ে তোলা হয় পূর্ণাঙ্গ একটি আঙুর বাগান। বর্তমানে এই বাগানে ব্ল্যাক ম্যাজিক, গ্রিনলন, ভ্যালেজ, সুপারনোভা, এঞ্জেলিকাসহ প্রায় ১৫০ জাতের আঙুরগাছ আছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বাগানে আঙুর পাকা শুরু হয়। এখন পর্যন্ত সাড়ে ৬০০ কেজির বেশি পাকা ও আধাপাকা বিষমুক্ত আঙুর উৎপাদন হয়েছে বলে জানা যায়। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকার আঙুর বিক্রি করা হয়েছে। পাশাপাশি আঙ্গুরের আকর্ষণীয় ও নানা জাতে চারা বিক্রি করে আয় করেছেন আরও প্রায় ৬ লাক্ষাধিক টাকা। সব মিলিয়ে বছরে তার মোট আয় প্রায় হয়েছে ৯ লক্ষাধিক টাকা। তার এই উদ্যোগ দেখে স্থানীয় অনেক তরুণরাই উৎসাহিত হয়ে তার বাগান থেকে চা নিয়ে বাগান করছে।

খোজ নিয়ে জানা যায়, তার বাগানে মূলত মিষ্টি জাতের বিভিন্ন আঙুরের চারা বেশি বিক্রি হচ্ছে। ৩০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের চারা রয়েছে তার বাগানে।
উদ্যোক্তা ইকরানের সাথে কথা বলে আরও জানা যায় , এই বাগানের আঙুর বাজারে নিয়ে যেতে হয় না। ফলগুলো অতি মিষ্টি, রসালো ও বিষমুক্ত হওয়ায় মানুষ সরাসরি বাগানে এসেই কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, অনলাইনেও চারা এবং ফলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তিনি সেভাবেও বিক্রি করছেন।
এ বিষয়ে কথা হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম জানান, পরিশ্রম আর ধৈর্য থাকলে সফলতা আসবেই এবং ইকরাম তার অন্যতম উদাহরণ। একটি চারা থেকে আজ সে একটি বড় আঙুর বাগান গড়ে তুলেছে। আমরা চাই স্থানীয় তরুণরা উৎসাহিত হয়ে তারাও এরকম বাগান গড়ে তুলুক। 
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, ইকরামের বাগান কয়েকবার পরিদর্শন করেছি। বিষমুক্ত ও সুস্বাদু আঙুর চাষ করে ইকরাম এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমার বিশ্বাস স্থানীয় তরুণরাও এখান থেকে উৎসাহিত হয়ে তারাও আঙ্গুরের বাগান গড়ে তুলতে। আমরা প্রত্যেকেই পরামর্শ ও সাধ্যমত সহযোগিতা করব। 

ad728
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
ad300