নূরে আলম নূরীঃ ২ মাসের নিষেধাজ্ঞার পর আজ শুক্রবার (২ মে) থেকে চাঁদপুরের মতলবে পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা শুরু হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্র জানা যায়, ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জাটকা (২৫ সেন্টিমিটারের কম দৈর্ঘ্যের ইলিশ) সংরক্ষণের লক্ষ্যে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকায় সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। এ সময়ের অভিযানে ৬৫ জন জেলে ও ৩৬ টি নৌকা আটক করা হয়। ৩ লক্ষ মিটার কারেন্ট জাল, ২৫ মিটার বেহুন্দি জাল জব্দ করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। ৩ মেট্রিকটন জাটকা ইলিশ মাছ জব্দ করে স্থানীয় এতিমখানা ও দুস্থ্যদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আটক জেলেদের থেকে ৫২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
উপজেলা মৎস্যজীবী নেতা ফুলচান বর্মন জানান, জেলেদের নৌকা ও জাল মেরামত করা হয়ে গেছে। ইলিশ পাওয়ার আশায় এই জেলেরা নদীতে নামার জন্য সম্পূর্ন প্রস্তুত। নিষেধাজ্ঞার সময় পার হওয়া মাত্রই তারা মাছ ধরতে নদীতে নেমে পড়বে। দু'মাস নদীতে মাছ ধরতে না পেরে তারা এখন নদীতে মাছ ধরার জন্য মুখিয়ে আছে।
উপজেলার ২য় বৃহৎ মাছের আড়ৎ আমিরাবাদ বাজারের আড়তদার মিঠুন বেপারী জানায়, গত দু'মাস নদীতে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞার কারণে আড়তের স্টাফদের বেতন ঘর থেকে দেয়া লাগছে। আজ গভীর রাত থেকে জেলেরা আবারও নদীতে মাছ ধরতে নামবে। তাদের মাছ বিক্রি করার মাধ্যমে এখানকার মাছের আড়তগুলোতে আবারো প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসবে বলে তারা আশা প্রকাশ করছে।
মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী জানান, দুই মাসের অভিযানে উপজেলাে ষাটনল থেকে আমিরাবাদ পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার অঞ্চলে অভিযানে পরিচালনা করে মৎস্য সম্পদ রক্ষা করার মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের কিছুটা ভূমিকা রাখতে পেরেছি ভেবে আমরা খুবই আনন্দিত।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য বিজয় কুমার দাশ জানান, দুই মাস পর বৃহস্পতিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে চাঁদপুরের মতলবে পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ ধরা শুরু করবে। অভিযানকালে জেলেদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে জনপ্রতি ৪০ কেজি করে ৪ কিস্তিতে মোট ১৬০ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে।
দু'মাসের অভিযানের ফলে এবার নদীতে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ জাতীয় আরো খবর..