মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৩, ২০২১




১৪-২১ এপ্রিল লকডাউন : বিধিনিষেধ জারি

মো. নাছির উদ্দীন : দেশে উদ্বেগজনক হারে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ৫ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া নিষেধাজ্ঞা চলমান আছে। যা চলবে ১৪ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত। ওই দিন থেকেই এক সপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউন শুরু হয়ে চলবে ২১ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত।মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ আজ সোমবার (১২ এপ্রিল) জারি করা হয়েছে।

👀 বিধিনিষেধগুলো হলো-

# সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস এবং সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন প্রতিষ্ঠানের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী। তবে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল বন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিসগুলো।

# আদালতগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।

# সব ধরনের পরিবহন তথা সড়ক, নৌ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকবে। তবে এ আদেশ পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

# স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শিল্প-কারখানাগুলো চালু থাকবে। সেক্ষেত্রে স্ব স্বপ্রতিষ্ঠান থেকে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শ্রমিকদের আনা-নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে

# এই নিষেধাজ্ঞার আওতা বর্হিভূত থাকবে আইন-শৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন- কৃষি উপকরণ- সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি এবং খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ। এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বন্দরগুলোর (স্থল, নদী ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য এবং সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহনও নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না।

# অতি জরুরি প্রয়োজন যেমন-ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন বা সৎকার ইত্যাদি ছাড়া বাড়ির বাইরে কোনোভাবেই বের হওয়া যাবে না। তবে করোনার টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়ত করা যাবে।

# দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয় বা সরবরাহ্হ করা ঘাবে। শপিংমলসহ অন্যান্য সব ধরনের দোকান বন্ধ থাকবে।

# সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি নিশ্চিত করবে বাজার কর্তৃপক্ষ।

# সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন বোরো ধান কাটার জরুরি প্রয়োজনে কৃষি শ্রমিক পরিবহনে সমন্বয় করবে।

# সারাদেশে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদপেক্ষ গ্রহণ করবে জেলা ও মাঠ প্রশাসন। এ জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত টহল জোরদার করবে।

# স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তার পক্ষে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করবেন।

# ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুমা ও তারাবির নামাজে জমায়েত বিষয়ে নির্দেশনা জারি করবে।

# সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ উপরোক্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনে সম্পূরক নির্দেশনা জারি করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category