সোমবার, জানুয়ারি ১০, ২০২২




আজ মতলব উত্তরের ক্রীড়া সংগঠক ও রাজনীতিবিদ আলমগীর হায়দারের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী

শামসুজ্জামান ডলারঃ আজ১০ জানুয়ারী মতলব উত্তর উপজোলার ক্রীড়া সংগঠক ও রাজনীতিবিদ আলমগীর হায়দারের ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১১ সালের আজকেই এইদিনে তিনি সকলকে কাঁদিয়ে চলেযান নাফেরার দেশে।

আলমগীর হায়দারের জন্ম মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের তপাদারপাড়া গ্রামে। সর্বোপরি এই ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের প্রানকেন্দ্র চরকালিয়া এলাকাতেই তার রেড়েউঠা।

ছাত্রজীবন থেকেই সে ছিল মেধাবী, মিশুক, ক্রীড়াপ্রেমী, পরোপকারী ও সদা হাস্যজ্জল একজন মানুষ। বিএসসি পাশ করেই সাংসারিক তাগিদে যোগদেয় স্বাস্থ্য সহকারীর সরকারী চাকুরীতে। নিজ এলাকাতেই কর্মস্থল, মানবসেবার অভ্যাস ও পেশাগত তাগিদের কারনেই সাধারন মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে এলাকায় সে হয়েউঠে খুবই হনপ্রিয়। গরীব কারো বিয়ে-সাধি, পরীক্ষার ফরম ফিলাপ কিংবা চিকিৎসা যেটাই হোক না কেন সে এগিয়ে আসবে সবার আগে। সে সীমিত আয়ের লোক হলেও নিজে কিছু দিয়ে বাকীটাকা যোগান দিতে সে দিতো নেতৃত্ব। তার প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকায় স্থানীয় অনেক বড়ভাই-ই তার কথায় দিতো হাত বাড়িয়ে। ফলে কোন সমস্যাই হতো না। এটাই ছিল আলমগীর হায়দারের স্বভাব।

মরহুম আলমগীর হায়দার যে এলাকায় কতো জনপ্রিয় ছিল তার জানাযায় চরকালিয়া ঈদগাঁ মাঠে যারা না এসেছেন তারা হয়তো সেভাবে অনুভব নাও করতে পারেন। জানাযার পূর্বমুহুর্তে তার লাশের কফিন ধরে অঝোরে কাঁদলেন মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনজুর আহমদও। কেঁদেছে আত্মীয়-স্বজন, সহপাঠী, সহকর্মী, সমবয়সীসহ ছোটবড় সকল বয়সের মানুষরা। তাইতো, উপস্থিত সকলের কান্না দেখে তৎসময়ের চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. শাহ নেওয়াজ সাহেবতো তার বক্তব্যে অপোকটে বল্লেন, আলমগীর হায়দার যে এ এলাকায় কতো জনপ্রিয় ছিল তা আমি এই জানাযায় না আসলে বুঝতামই না। সে যে কার নিকটাত্মীয় তাও বুঝতে পাড়ছিনা। কেননা, সবাইকেই দেখছি কাঁদছে।

মরহুম আলমগীর হায়দার তার বাড়ী সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী চরকালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৫ ব্যাচের ছাত্র। সে উপজোলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহবায়ক ও ১২নং ফরাজীকান্দী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলো। সে ছিল একজন ক্রীড়াবিদ ও একজন ক্রীড়া সংগঠক। স্থানীয় যুবসমাজ যেনো মাদকমুখী না হয় সে জন্য আলমগীর হায়দার স্থানীয় যুবকদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করে রাখতেন। স্থানীয় ঈদগাঁমাঠে যুবসমাজের উদ্যোগে মাহফিলের আয়োজনের উদ্যাক্তাদের মধ্যে সে অন্যতম। যে মাহফিলটা আজো চলমান রয়েছে। চরকালিয়া এলাকার মানুষরা আজো আলমগীর হায়দারের শূন্যতাটা অনুভব করে। সাংসারিক জীবনে আলমগীর হয়দারের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। নাম মাহী আলম। সে ১০ শ্রেনীতে পড়ে।

আজ মরহুমের বাড় স্থানীয়দের দোয়া ও প্রত্যাশা আল্লাহ তায়ালা যেনো মরহুম আলমগীর হায়দারকে বেহেস্তবাসী করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category