বুধবার, মে ৮, ২০১৯




চলুন, জেনে নিই রোজা রাখার কতিপয় শারীরিক উপকারিতা…..

******************************************** শুরু হয়েছে মুসলমানদের সবচেয়ে নেয়ামতপূর্ণ মাস মাহে রমযান৷

পবিত্র কুরআন শরীফে আল্লাহপাক বলেনঃ
‘হে ঈমানদারগণ ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে,যেরূপ ফরজ করা হয়েছিলো তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের উপর,যেন তোমরা পরহেজগারী অর্জন করতে পারো ।’ (সূরাবাকারাঃ১৮৩)

রোজা Detoxification উন্নত করেঃ
Processed খাদ্যে অনেক additive মিশ্রিত থাকে । সেইadditive শরীরে চর্বি হিসেবে হিসেবে রূপ নেয় এবং চর্বি হিসেবেজমা হয় । দীর্ঘ রমজান মাসে রোজার কারণে সেই চর্বি দগ্ধ হয় এবংতাতে নিস্বরণ হয় । লিভার, কিডনী এবং অন্যান্য অর্গান এই সম্পন্নDetoxification করে ।

২.রোজা পরিপাকতন্ত্রকে বিশ্রাম দেয়ঃ
রোজার কারণে সারাদিন যেহেতু পরিপাকতন্ত্রের পরিপাককরতে হয় না এবং কোন পরিপাক এনজাইম ক্ষরণ হয় না এবং দীর্ঘসময় পর্যন্ত পরিপাকতন্ত্র বিশ্রাম পায় । ইফতারীর পর পুনরায়পুরদমে পরিপাক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে । তাই কাজেরমান বেড়ে যায় এবং হজমও ভাল হয় ।

৩. রোজা রক্তচাপ কমায়ঃ
রোজাই একমাত্র পদ্ধতি যা ওষূধ বিহিন রক্তচাপ কমায় ।রোজা থাকা কালীন শরীরে জমানো চর্বি দগ্ধ হয় এবং শক্তিসরবরাহ করে । চর্বি কমলে রক্তের ঘনত্ব কমে এবং রক্তচাপও কমে।

৪. রক্তের সুগার কমায়ঃ
রোজা থাকলে শরীরে জমাকৃত গ্লোকোজ দগ্ধ হয়ে শক্তিতেরপান্তরিত হয় । তাতে ইনসুলিন হরমোন কম নিঃসৃত হয় ।Pancreas তাতে বিশ্রাম নিতে পারে । ইফতারের পর কার্বোহাইড্রেট(ভাত, রুটি, আলু, সবজি ) খেলে Pancreas থেকে ইনসুলিন নিঃসৃতহয় এবং ইনসুলিন ভালোভাবে কাজ করতে পারে । তার ফলে ব্লাডসুগার কমে ।

৫. রোজা ওজন কমায়ঃ
রোজা থাকলে অতি তাড়াতাড়ি ওজন কমে । কারণ রোজাথাকলে শরীরে জমাকৃত চর্বি শক্তিতে রূপান্তরিত হয় । তাতেজমাকৃত চর্বি কমে যায় । তাই ওজনও কমে ।

৬. রোজা স্বাস্থ্য সম্মত খাদ্যের প্রেরণাঃ
সুন্নত হিসাবে খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙা হয় । খেজুর একটিউত্তম স্বাস্থ্য সম্মত খাদ্য । প্রতিটি খেজুরে ৩১ গ্রাম শর্করা, সুগার,পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন বি আছে, যা শরীরের জন্যঅনেক উপকারী । যেমনঃ পটাশিয়াম হার্টবিট কমায় । তাছাড়াখেজুরে আছে Natural Fibre যা পেটের জন্য খুবই ভালো এবংকোষ্ঠ কাঠিন্য রোধ করে । এমনিতেই রোজা রাখলে কোষ্ঠ কাঠিন্যহয়, তাই খেজুর তার প্রতিরোধ করে । তাই এই সুন্নত পালন করেযেমন পূণ্য অর্জন করতে পারি তেমনি সুস্বাস্থ্য ও অর্জন করতে পারি।

৭. রোজা Inflammation এবং Allergy কমায়ঃ
Rheumatoid Arthritis, Psoriasis ভালো হয় । Healing Process ত্বরান্বিত করে । তাই Inflammatory Bowel Diseases ভাল হয় ।

৮. রোজা নেশা প্রশমিত করেঃ
কেহ ধুমপান করে, কেহ চা বা কফি পান করে । রোজারকারণে এইসব বদ অভ্যাস দূর হয় । যা স্বাস্থ্যর পক্ষে খুবই ভালো।

৯. রোজা মেদ কমায়ঃ
রোজা রাখলে প্রথমে Energy তৈরী করতে Glucose ব্যবহারহয় । যখন শেষ হয়ে যায়, তখন শরীরে জমাকৃত চর্বি এনার্জিতৈরীতে ব্যবহার হয় । এমনিভাবে চর্বি কমে যায় । তাই রোজা রাখলেকোলেস্টরেল সহ অন্যান্য চর্বি কমে যায় এবং সুস্বাস্হ্যের অধিকারীহওয়া যায় ।

তবে রোজা রেখে ইফতারীর সময় ভাজা-পুড়া ডালের বরা, ছোলাভাজি খাওয়া ঠিক নয় । তাতে বদ হজম হয় ও ঢেকুর উঠে ।তারাবির নামাজে ঢেকুর উঠে এবং অন্য নামাজির বিরক্তির কারণহতে হয় । রোজার অর্থ এই নয় যে সারাদিন না খেয়ে ইফতারিরসময় ২/৩ বেলার খাবার একসাথে খাওয়া । তাই পরিপাকতন্ত্র এইখাবার এক সাথে হজম করতে পারেনা । তাই বদহজম হয় । অতএবইফতারীর সময় পরিমিত ও স্বাস্হ্য সম্মত খাবার খেতে হবে । তবেইরোজার সুফল পাওয়া যাবে ।

আল্লাহপাক আমাদেরকে রোজা রাখার মাধ্যমে দৈহিক ও আধ্যাত্বিকউন্নতি দান করুন । আমিন ।

সংগ্রহে-আব্দুল্লাহ আল-মামুন ওয়েসী, ধর্মীয় শিক্ষক

চরকালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়,মতলব উত্তর, চাঁদপুর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category