শনিবার, মার্চ ৭, ২০২০




৫০তম জয়ে শেষ অধিনায়ক মাশরাফির অধ্যায়

মো. নাছির উদ্দীন : ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গিয়েছিল প্রথম ইনিংসেই। বাংলাদেশের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের জোড়া সেঞ্চুরিতে ৪৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৩২২ রানের বিশাল স্কোর সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে এ রান টপকানো যে কোনো দলের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। জিম্বাবুয়ের জন্য তো প্রায় অসম্ভবই। সেটি আরও কঠিন হয়ে যায় বৃষ্টি আইনে যখন তাদের নতুন লক্ষ্য দেয়া হয় ৪৩ ওভারে ৩৪২ রান।

এই রান তাড়া করতে নেমে কখনই জয়ের পথে ছিলো না জিম্বাবুয়ে। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তাইজুল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমানদের বোলিং তোপে আফ্রিকার দেশটি অলআউট হয়ে গেছে মাত্র ২১৮ রানে। বাংলাদেশ জয় করায়ত্ব ১২৩ রানের বড় ব্যবধানে। সেই সাথে ৩-০ ব্যবধানে জিম্বাবুয়েকে ধবলধোলাই করেই শেষ হল মাশরাফি বিন মুর্তজার অধিনায়ক অধ্যায়ের।

জিম্বাবুয়ের শিবিরে প্রথম ওভারেই আঘাত আনেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। তারপর মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তাইজুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান ও অভিষিক্ত আফিফ হোসেন ধ্রুবর বোলিংয়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ।

যার ফলশ্রুতিতে অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি বিন মর্তুজার শেষ ম্যাচে ১২৩ রানের বড় ব্যবধানের জয়ে সিরিজটি স্মরণীয় করে রাখলো লিটন-সাইফুদ্দিনরা। ওয়ানডেতে এটি বাংলাদেশের ১৩তম হোয়াইটওয়াশের রেকর্ড। যার মধ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশের স্বাদ পাওয়া গেলো পঞ্চমবারের মতো।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটিতে জিম্বাবুয়ের পক্ষে লড়েছেন কেবল একশতম ওয়ানডে খেলতে নামা সিকান্দার রাজা। তিনি খেলেছেন ৬১ রানের ইনিংস। এছাড়া ওয়েসলে মাধেভের ৪২, শন উইলিয়ামস ৩০ ও রেগিস চাকাভা করেছেন ৩৪ রান।

এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রূপকথার জন্ম দেন বাংলাদেশের দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। ওয়ানডেতে দেশের ইতিহাসের রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে দলকে এনে দেন পাহাড়সমান পুঁজি। এই যুগলের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ভর করেই কার্টেল ওভারে (৪৩ ওভার) নেমে আসা ম্যাচে ৩ উইকেটে ৩২২ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় স্বাগতিক বাংলাদেশ।

ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাস দু’জনই আগের দুই ম্যাচে খেলেছেন দুর্দান্ত দুটি সেঞ্চুরির ইনিংস। প্রথম ম্যাচে লিটন অপরাজিত ১২৬ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে তামিম খেলেন ১৫৮ রানের অনবদ্য ইনিংস।

সাবধানী শুরু করার পর মাত্র ৫২ বলে ৫০ রানের জুটি গড়েন তামিম-লিটন। এরপর ১১০ বলে ছুঁয়ে ফেলেন ১০০ রান। পরের ৫০ পার করতে একটু সময় নিয়েছেন তারা। ১৭৮ বলে ১৫০ রান করেন এই তামিম-লিটন জুটি। ৩৩.২ ওভারে বিনা উইকেটে দলীয় সংগ্রহ ১৮২ রানে পৌঁছার পর বৃষ্টির আগমন।

প্রায় আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় খেলা বন্ধ থাকার পর দ্বিতীয়বার যখন লেখা শুরু হয়, তখন ওভার কমিয়ে ৪৩ করা হয়। বাংলাদেশ পায় আর ৯.৪ ওভার ব্যাটিং করার সুযোগ।

ওভার কমে যাওয়ায় রীতিমত মারমুখী হয়ে ওঠেন তামিম-লিটন। চার-ছক্কার ফুলঝুরি ছোটাতে থাকেন মাঠ জুড়ে। এরই ফাঁকে যে কোনো উইকেটে বাংলাদেশের সেরা জুটির রেকর্ডটিও নিজেদের করে নেন এই যুগল। এই সময়ে মাত্র ৫৮ বলে ১৪০ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানেরা।

২০১৭ সালে কার্ডিফে সাকিব আল হাসান আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মিলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পঞ্চম উইকেটে ২২৪ রানের জুটি গড়েছিলেন। সেটি ছিল এতদিন ওয়ানডে ক্রিকেটে যে কোনো উইকেটে বাংলাদেশের সেরা জুটি। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল তামিম-লিটনের ২৯২ রানের জুটি পেছনে ফেলে দেয় সাকিব-রিয়াদের জুটিকে।

লিটনের পর সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিমও। ৯৮ বলে তিন অংকের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন দেশসেরা ওপেনার। একটা সময় দুই সেঞ্চুরিয়ান বেধড়ক পেটাতে থাকেন জিম্বাবুইয়ান বোলারদের। একটু বেশিই বিধ্বংসী ছিলেন লিটন। ১৩৫ বলে ১৫০ রান স্পর্শ করেন মারকুটে এই ব্যাটসম্যান।

যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, লিটন দুই’শ কি করে ফেলেন কি না এমন পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল একটা পর্যায়ে। শেষতক লিটনের চোখ ধাঁধানো ইনিংসটা থামে ১৭৬ রানে। ১৪৩ বলের বিধ্বংসী ইনিংসে ১৬টি চারের সঙ্গে ৮টি ছক্কা হাঁকান এই ডানহাতি ওপেনার। গড়েন দেশের ইতিহাসের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের রেকর্ডও।

এরপর মাহমুদউল্লাহ (৩) সুবিধা করতে পারেননি। মাম্বার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান। ৩ বলে ৭ রানে ফিরে যান আফিফ হোসেন ধ্রুবও। তবে তামিম শেষ পর্যন্ত অপরাজিতই ছিলেন। ১০৯ বলে ৭ চার আর ৬ ছক্কায় দেশসেরা এই ওপেনার খেলেন ১২৮ রানের ইনিংস। এটি তার টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

অনবদ্য ইনিংস খেলা লিটন দাস ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়া টুর্নামেন্ট জুড়ে ব্যাটে দ্যুতি ছড়ানো দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল ও লিটন দাস যৌথভাবে সিরিজ সেরার পুরস্কার লাভ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category