শনিবার, জানুয়ারি ১৯, ২০১৯




১০ বছরে হাজার কোটি টাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, রংপুর এলজিইডি

অর্থনীতি প্রতিবেদকঃ রংপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ১ দশকে (২০০৯-১৮) পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে। বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৪৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। যা আগের কয়েক দশকের কাজের সঙ্গে তুলনা করলে তা কয়েকগুণ বেশি।

সবচেয়ে বেশি সাফল্য এসেছে পল্লী সড়ক উন্নয়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজ, বৃহৎ সেতু-কালভার্ট নির্মাণ এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণে। এছাড়াও দশ বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে সোস্যাল সেফটিনেসসহ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নানা কল্যাণকর প্রকল্প।

এদিকে এলজিইডি’র কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলেও বাড়েনি লোকবল। তবুও নির্দিষ্ট মেয়াদে সম্পন্ন হচ্ছে প্রতিটি প্রকল্প। এজন্য এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আখতার হোসেন সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য, তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সবার আন্তরিকতায় এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, অনেক উন্নয়নমূলক কাজ চলমান রয়েছে এবং নতুন বছরেও আরো অনেক কাজের পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন।

স্থানীয় এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুরু থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৩৭ বছরে ৪৩৪ কিলোমিটার পল্লী সড়কের উন্নয়ন হয়েছে। গড় করলে দেখা যায়, প্রতি বছরে কাজ হয়েছে ১১ দশমিক ৭২ কিলোমিটার করে। ১শ মিটারের উপরে বৃহৎ সেতু নির্মিত হয়েছে ৭টি (৭৪০ মিটার)। প্রতি বছরে নির্মিত হয়েছে ২০ মিটার করে। সেতু ও কালভার্ট নির্মিত হয়েছে ১ হাজার ৩২ মিটার। গড় করলে প্রতিবছরে নির্মিত হয়েছে ২৭ দশমিক ৮৯ মিটার। ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে ৩১টি। প্রতি বছরে হয়েছে ০ দশমিক ৮৩ টি। গ্রোথ সেন্টার হাটবাজার নির্মিত হয়েছে ১৬টি। প্রতিবছরের গড় দাঁড়ায় ০ দশমিক ৪৩টি। প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষা অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে ২৫৩টি। প্রতি বছরে হয়েছে ৬ দশমিক ৮৩টি।

এছাড়াও ওই সময়ে সড়কের রক্ষাণাবেক্ষণের কাজ হয়েছে ৮৮ কিলোমিটার। গড়ে প্রতি বছরে হয়েছে ২ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার করে।

এদিকে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে পল্লী সড়কের উন্নয়ন হয়েছে ৮৭২ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। যা বিগত ৩৭ বছরের চেয়ে শতকরা ৭ দশমিক ৪৪ গুণ বেশি। ১শ মিটারের উপরে বৃহৎ সেতু নির্মিত হয়েছে ৯টি (১৭১৫ মিটার)। যা বিগত বছরের চেয়ে শতকরা ৮ দশমিক ৫৮ গুণ বেশি। সেতু ও কালভার্ট নির্মিত হয়েছে ২ হাজার ৭৫৩ মিটার। যা বিগত দিনের চেয়ে শতকরা ৯ দশমিক ৮৭ গুণ বেশি। ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মিত হয়েছে ৪০টি। যা আগের চেয়ে শতকরা ৪ দশমিক ৮২ গুণ বেশি। গ্রোথ সেন্টার হাটবাজার নির্মিত হয়েছে ৪১টি। যা বিগত ৩৭ বছরের চেয়ে শতকরা ৯ দশমিক ৫৩ গুণ বেশি। প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষা অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে ৪৮৩টি। যা আগের চেয়ে শতকরা ৭ দশমিক ০৭ গুণ বেশি। সড়কের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হয়েছে ১ হাজার ৩৩২ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার। যা বিগত সময়ের চেয়ে শতকরা ৫৬ দশমিক ২৪ গুণ বেশি। এই সময়ে যোগ হয়েছে নতুন নতুন প্রকল্প। এগুলোর আওতায় নির্মিত হয়েছে ৪টি উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স, ৫টি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এবং ২৩টি অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা নিবাস। এছাড়াও ক্ষুদ্রাকার পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জেলার ৮ হাজার কৃষিজমি পানি সেচের আওতায় আনা হয়েছে। মাছ চাষ এবং খরা মৌসুমে সম্পূরক সেচের জন্য ৪২টি খাল খনন করা হয়েছে। আবাদি জমি রক্ষায় বাঁধ নির্মিত হয়েছে ২২টি এবং স্লুইস-রেগুলেটর-রাবার ড্যাম নির্মিত হয়েছে ১২টি। এই প্রকল্পগুলোর অনেক কাজ এখনও চলমান আছে বলে জানা গেছে।

রংপুর এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আখতার হোসেন বলেন, পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নে আরো অনেক বেশি কাজ করার সুযোগ আছে। তারপরও ১০ বছরে রংপুরে যে পরিমাণ কাজ হয়েছে তা গ্রামীণ জনগোষ্ঠী জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মনে করেন।

আগামীতে আরো ব্যাপক কাজ শুরু হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে শুধু রংপুর বিভাগ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৫শ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। যা আগামী ৫ বছর চলবে। এছাড়া তিনি আরও বলেন, অগ্রাধিকারভিত্তিক গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পটি শেষ হয়ে গেছে। তা আবার চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। এটি মূলত সংসদ সদস্যদের বরাদ্দ প্রাপ্তিসাপেক্ষে পরিচালিত হয়। গতবার ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল একজন সংসদ সদস্যের। ফলে রংপুরে ৬টি সংসদীয় এলাকায় ১২০ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। এবার এই টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category