শনিবার, ডিসেম্বর ২২, ২০১৮




হারের আক্ষেপে শেষ হলো বছর

ক্রীড়া প্রতিবেদক: ছিল ইতিহাসের হাতছানি। ছিল জিতলেই টানা তিন ট্রফি ঘরে তুলে ১৮ বছরের আক্ষেপ মেটানোর সুযোগ। কিন্তু হলো না! জয়ের রং নয়, হারের বেদনা নিয়ে শেষ হলো বছর। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচে গতকাল ৫০ রানে হার দেখে বাংলাদেশ। মিরপুরে টসে জিতেও ক্যারিবীয়দের ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তার সেই সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণ করেন প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানরা। ৭.১ ওভারে তুলে নিয়েছিলেন ১০০ রান। তবে সেখান থেকে মাহমুদুল্লাহ তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুুরিয়ে দেন।

শেষ পর্যন্ত ১৯০ রানে থামে সফরকারীরা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দারুণ শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন কুমার দাস। লিটনের ঝড়ে এগিয়ে যেতে থাকে দল। কিন্তু ঠিক সেই সময় ক্যারিবীয় পেসার ওশান থমাসের এক ওভারে দুটি ‘নো’ বল ডাকেন আম্পায়ার তানভীর আহমেদ। প্রথম ফ্রি-হিটে ছয় হাঁকান লিটন। কিন্তু দ্বিতীয় ‘নো’ তেই বাধে বিপত্তি। ক্যাচ দিলেও বেঁচে যান এই ওপেনার। কিন্তু টিভি রিপ্লেতে দেখায় সেটি ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। ‘নো’ বলই ছিল না। এতে বেঁকে বসে ক্যারিবীয়রা। নানা বিতর্কে খেলা বন্ধ থাকে ৮ মিনিট। কিন্তু সেই বিতর্কে মাঠে নেমে আসা আঁধার ঘিরে ধরে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। শুরু হয় আসা যাওয়ার মিছিল। শেষ পর্যন্ত বাজে শটের খেসারত দিয়ে গুটিয়ে যায় ১৪০ রানে। ২-১এ সিরিজ জিতে নেয় ওয়েস্ট উন্ডিজ। তবে বাংলাদেশই তাদের হাতে তুলে দিয়েছে বড় দিনে সিরিজ জয়ের উপহার। সেই সঙ্গে ক্যারিবীয়দের জুটেছে শূন্য হাতে না ফেরার আনন্দ।
১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সাবধানী শুরু করেছিলেন তামিম ইকবাল ও লিটন দাস। তবে ঝড় তুলতে লিটন খুব বেশি সময় নেননি। তার ব্যাটিংয়ে ৪ ওভারে স্কোর বোর্ডে যোগ হয় ৫০ রান এক উইকেট হারিয়ে। এই ম্যাচেও দেশসেরা ওপেনার তামিম ছিলেন দারুণভাবে ব্যর্থ। ভালো শুরুর পরও ব্যক্তিগত ৮ রানে অদ্ভুতভাবে রান আউট হন। ব্যাটসম্যান-ফিল্ডার সবাই ভেবেছিলেন রানটি হয়ে গেছে। কিন্তু তৃতীয় আম্পায়ার টিভি রিপ্লেতে দেখে আউট ঘোষণা করেন। তাতেই ভাঙে টাইগারদের ২২ রানের ওপেনিং জুটি। এরপর দলের হাল ধরেন লিটন ও সৌম্য। তাদের ৪৩ রানের জুটিতে দলও জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। কিন্তু আম্পায়ার বিতর্কে ৮ মিনিট খেলা বন্ধ থাকার পর যেন ঘটে ছন্দ পতন। সৌম্য সরকার বাজে এক শটে আউট হন ক্যাচ দিয়ে মাত্র ৯ রান করে। সেখান থেকেই দলে নেমে আসে দারুণ বিপর্যয়। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যাটে বলে ছিলেন জয়ের নায়ক। দলকে সমতায় ফিরিয়ে দেখিয়েছিলেন সিরিজ জয়ের স্বপ্নও। কিন্তু সেই সাকিবও দেখালেন বাজে শটের নমুনা। একইভাবে অ্যালেনকে উড়িয়ে উপহার দিলেন দ্বিতীয় উইকেট। এরপর টিকলেন না ব্যাটিং ভরসা মুশফিকও। তৃতীয় ম্যাচেও বাজে এক শটে আউট হয়ে ফিরলেন সাজঘরে। কিমো পলের বলে পুশ করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ৫ বলে ১ রান বিদায় নেন এই উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান।
২ উইকেটে ৬৫ রান। এরপর একের পর এক আউটে দলের স্কোর বোর্ডে ৮৯ রান উঠতেই নেই ৭ উইকেট। মুশফিকের পর দলের হাল কিছুটা ধরার চেষ্টা করেন সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ। কিন্তু ১১ রানেই বিদায় নিলেন। এরপর ৪৩ রান করা লিটনও হাল ছাড়লেন। কিমো পলের বলে আউট হওয়ার আগে ২৫ বলে ৩ চার ও সমান ছক্কা হাঁকান তিনি। তার বিদায়ে দলের ভরসা হতে পারেননি সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপে পুড়তে থাকা আরিফুল হক। তিনি ক্রিজে এলেন আর গেলেন। ৮৯ রানে ৭ উইকেটের পতন। এরপর অলরাউন্ডার হিসেবে দলে জায়গা পাওয়া আরেক পেসার সাইফউদ্দিনও একইভাবে ব্যর্থ। ব্যক্তিগত ৫ রানে তিনি বাজে শটে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন সাজঘরে। ৯৬ রানে নেই ৮ উইকেট। শঙ্কা দেখা দেয় ১০০’র আগেই গুটিয়ে যাওয়ার। কিন্তু মান বাঁচানোর লড়াই শুরু করলেন দুই বোলার। মেহেদী হাসান মিরাজ ও আবু হায়দার রনি ৯ম উইকেটে গড়ে তোলেন ৩৩ রানের জুটি। তাদের লড়াইয়ে পরাজয়ের ব্যবধানটা কমে। দলের ১২৯ রানের সময় মিরাজ আউট হন ১৯ রানে। একই সমান বলে একটি করে চার ও ছয়ের মার হাঁকিয়ে। এরপর ৮ রানে মোস্তাফিজকে ফিরিয়ে ম্যাচে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে উইন্ডিজ। রনি অপরাজিত থাকেন ব্যক্তিগত ২২ রানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category