বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৪, ২০২১




হাজীগঞ্জে ৪ জন নিহত, আহত অধ্যশত, ১৪৪ ধারা জারি, ৮ মন্দির ভাংচুর, আটক ৭, বিজিবি মোতায়ন

বিশেষ প্রতিবেদক : কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে পবিত্র কুরআন শরীফ অবমাননার ঘটনায় চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়দের মধ্যে চলা এ সংঘর্ষে ৪ জনের মৃত্যু ও কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়ার ঘটনা ঘটেছে। উক্ত সংঘর্ষে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পুলিশ-প্রসাশন বিষয়টি নিয়ে চুপ থাকার একদিন পর বৃহস্পতিবার চট্রগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন চার জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন, হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল ইউনিয়নের রায়চোঁ গ্রামের আলআমিন (১৮), উপজেলার রান্ধুনীমুড়া সেকান্দার আলী বেপারী বাড়ির ফজলুল হকের একমাত্র ছেলে ইয়াছিন হোসেন হৃদয় (১৫), চাপাইনবাবগঞ্জ এলাকার বাবলু (২৮) ও পরের দিন বৃহস্পতিবার চিকিৎসারত অবস্থায় পৌরসভার রান্ধুনীমুড়া গ্রামের আব্বাস মিয়ার ছেলে শামীম হোসেন (১৮) মৃত্যুবরণ করেন।

১৩ অক্টোবর বৃধবার রাত ১২ টার দিকে এ ঘটনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হাজীগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোমেনা আক্তার।
পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি ও ম্যাজিস্ট্রেট ।

১৩ অক্টোবর বুধবার এশার নামাজের পর হাজীগঞ্জে পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ জনতার মাঝে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল ছোড়ে। এ সময় নিহত হয় ৪ জন। সংঘর্ষে ২১ জন পুলিশ, ২ জন সাংবাদিক ও বিক্ষুব্ধ জনতাসহ প্রায় ৫০ জন কমবেশি আহত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী মানিক হোসেন, জনি ও দেলোয়ার জানায়, বুধবার এশার নামাজের পর হাজীগঞ্জ বিশ্বরোড চৌরাস্তা এলাকা থেকে স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বিক্ষোভ মিছিলটি হাজীগঞ্জ বাজারের প্রধান সড়কে দু’বার প্রদক্ষিণ শেষে ৩য় বার বাজারের পূর্ব দিকে যাওয়ার পথে হঠাৎ মিছিল থেকে লক্ষ্মী নারায়ণ জিউর আখড়া (ত্রীনয়নী) পূজামণ্ডপে হামলা চালানো হয়। পরে পুলিশ ও মুসল্লিদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়।

বিক্ষোভকারীরা পরে প্রায় ৮ টি মন্দিরে হামলা চালায়। জিউর আখড়া, নবদূর্গা, ত্রিশুল, ত্রী নয়নী, জমিদার বাড়ি মন্দির এবং বলাখাল ও রামপুর এলাকার মন্দিরে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।

হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, আমাদের ২১ জন পুলিশ আহত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা রাতে থানায় হামলা চালায়। এ ঘটনায় ৭ জনকে আটক করা হয়েছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা নগরীর নানুয়ার দিঘিরপাড়ের একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপে হনুমান মূর্তির কোলে পবিত্র কোরআন শরিফ রাখার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। যার সৃত্রে হাজীগঞ্জে এমন ঘটনা ঘটেছে।

হাজীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার বলেন, বিষয়টি জটিল আকার সৃষ্টি হওয়ায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর নির্দশনা অনুযায়ী ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।

চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিলন মাহমুদ জানান, আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ১৫-২০ জন পুলিশ আহত হয়েছে। তবে মৃত্যুর বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেননি।

চট্রগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন চার জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের সামনে এর ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।

এদিকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও থানার সামনে হতাহতদের স্বজনরা বিড় করতে দেখা যায়। পরের দিন বৃহস্পতিবার নিহতদের বাড়িতে পুলিশ লাশ বুঝিয়ে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category