বুধবার, এপ্রিল ১০, ২০১৯




হাজীগঞ্জে ১২ ইউনিয়ন পরিষদের ৯ টিতেই কমপ্লেক্স ভবন নেই !

স্টাফ রিপোর্টার:   চাঁদপুর জেলার অন্যতম উপজেলা হচ্ছে হাজীগঞ্জ। স্বাধীনতার পর থেকে যখন ইউনিয়ন পরিষদ চালু হয় তখন থেকে পর্যাক্রমে বাড়তে বাড়তে বর্তমানে ১২টি ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে উঠে। দেশ উন্নয়নের চোঁয়া শহর থেকে গ্রাম পর্যায় পৌছে গেলেও ততকালীন চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সরকারের অধিনস্ত কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় আধুনিক ভবনের মূখ দেখেনি ইউনিয়নবাসী।

হাজীগঞ্জ উপজেলার বর্তমানে ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে মাত্র ৩টি ইউপি কার্যালয়ে নতুন সরকারী আধুনিক ভবনের মূখ দেখলেও বাকী ৯ টি ইউনিয়ন পরিষদ এখনো পুরানো ঝরাজ্জীন্ন কার্যালয়ে চালিয়ে আসছে পরিষদের কার্যক্রম।

জানা যায়, ২০০৮ সালে হাজীগঞ্জ উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়ন পরিষদে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের অধিনে নতুন আধুনিক ভবন নির্মানের জন্য ৩৫ লক্ষ টাকা করে বরাদ্ধ আসে। কিন্তু সে সময় পরিষদের নিজস্ব প্রায় ৪২ শতাংশ সম্পত্তি দেখাতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে ১১নং হাটিলা পশ্চিম, ৩নং কালচোঁ উত্তর ও ১নং রাজারগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগন নানা কৌশলে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে ভবনের বরাদ্ধ আটকাতে সক্ষম হয়। আর বাকী ৯টি ইউনিনের ৩৫ লক্ষ টাকা করে বরাদ্ধকৃত প্রায় ৩ কোটি ১৫ লক্ষ টাকা স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে পেরত যায় ।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় সৃত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের সরকারী আধুনিক ভবনের জন্য বরাদ্ধ চলমান রয়েছে। সেই সাথে বর্তমানে প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ৪২ শতাংশ যায়গা কমিয়ে ২৫ শতাংশ যায়গা দেখাতে পারলে নতুন আধুনিক ভবনের বরাদ্ধ নিতে পারবে। যার ব্যয় বর্তমান মালামালের খরচের উপর প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক ভবন নির্মানের সুযোগ রয়েছে।

সরকারী আধুনিক ভবন থেকে বঞ্চিত উপজেলার এ ৯ টি ইউনিয়ন পরিষদগুলো হচ্ছে ২নং বাকিলা ইউনিয়ন পরিষদ, ৪নং কালচোঁ ইউনিয়ন পরিষদ, ৫নং সদর ইউনিয়ন পরিষদ, ৬নং বড়কূল পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ, ৭নং বড়কূল পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ, ৮নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদ, ৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ, ১০নং গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ ও ১২নং দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ। এর মধ্যে গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম নিজ অর্থ খরচ করে নানা কৌশলে ২৫ শতাংশ যায়গা দেখিয়ে নতুন আধুনিক ভবনের জন্য বরাদ্ধ পাশ করান। যা চলতি বছরের শুরুতে প্রায় ১ কোটি ৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে উক্ত ভবনের নির্মান কাজ চলমান রয়েছে বলে দেখা যায়।

হাজীগঞ্জ ৫নং সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মীর বলেন, আমার পরিষদের নতুন ভবনের জন্য ইতিপূর্বে কাজীরগাঁও এলাকায় ৫৫ শতাংশ যায়গা দেখানো হয়েছে। জটিলতার কারনে ভবনের কাজ ঐ সময় আর হয়নি তবে বর্তমানে নতুন বরাদ্ধে উক্ত স্থানে নতুন ভবন আমার আমলে নির্মান কাজ সম্পন্ন করবো।

অন্যান্য চেয়ারম্যানগনের সাথে আলাপ করলে তারা বিষয়টিকে জটিল বলে দাবি করে বলেন, মন্ত্রনালয়ে দৌড়াদোড়ী করেও অনেকে নতুন ভবনের কাজ পাওয়াকে স্বপ্ন বলে মনে করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়–য়া বলেন, যেসকল পরিষদের ভবন নেই সেইসব পরিষদের যায়গার কাগজপত্রসহ মন্ত্রনালয়ে আবেদন পত্র রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category