শুক্রবার, নভেম্বর ১, ২০১৯




হাজীগঞ্জে জেএসসি পরীক্ষা দিতে পারছে না দুই শিক্ষার্থী

স্টাফ রিপোর্টারঃ শিক্ষকের গাফিলতিতে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই শিক্ষার্থী এবার জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা দিতে পারছে না। প্রবেশপত্র আনতে গিয়েই এরা জানতে পারে তাদের প্রবেশপত্র আসেনি, তাই এ বছর তারা পরীক্ষা দিতে পারছে না।
এদিকে শনিবার অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষায় এরা অংশ নিতে পারবে না জেনে শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারে অনেকটা শোকের মাতম চলছে। ঘটনাটি ঘটে হাজীগঞ্জ উপজেলার রামচন্দ্রপুর ফাযিল মাদ্রাসা ও টঙ্গিরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ে। শিক্ষার্থীরা হলেন রামচন্দ্রপুর ফাযিল মাদ্রাসার রাকিব হোসেন ও টঙ্গিরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের মোঃ রাব্বী। রামচন্দ্রপুর ফাজিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণীর এই শিক্ষার্থীর ক্লাসে রোল নং ৩৩। তার গ্রামের বাড়ি উপজেলার ৭নং বড়কুল ইউনিয়নের জাকনী গ্রামে। সে ওই গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

রাকিব হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি ফরম ফিলাপের জন্যে আমাদের শ্রেণী শিক্ষক বরকত উল্যাহ হুজুরকে ১শ’ টাকা দিয়েছি। ফরম পূরণের পর থেকে কেউ আমাকে কিছুই জানায়নি। আমি মূল্যায়ন পরীক্ষা দিয়েছি, বিদায়ের চাঁদা দিয়েছি। গত বুধবার প্রবেশপত্র নিতে আসলে হুজুরারা জানান আমার নাকি ফরম পূরণ হয়নি, তাই আমার প্রবেশপত্র আসেনি। আমি পরীক্ষা দিতে পারবো না।

এ বিষয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক মোহম্মদ বরকত উল্লাহ মুঠোফোনে বলেন, আমার কাছে কোনো টাকা দেয়নি। সে ফরম ফিলাপ করেনি, তাই প্রবেশপত্র আসেনি। মূল্যায়ন পরীক্ষা ও বিদায়ের চাঁদার নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, রাকিবের ফরম ফিলাপ হয়েছে কিনা তা জানা ছিল না। আমারও খেয়াল ছিল না। তবে সর্বশেষ এই শিক্ষক তার দোষ হয়েছে বলে স্বীকার করেন।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সফিকুর রহমান বলেন, পরীক্ষার সময় রাকিব অসুস্থ ছিল। ওই সময় সে ফরম ফিলাপ করতে আসেনি। শিক্ষকের কাছে কোনো টাকাও দেয়নি। এই মাদ্রাসা থেকে ৩২ জন জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।

অপরদিকে হাটিলা টঙ্গীরপাড় উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী (রোল-১১৭) রাবি্বর ফরম পূরণ না হওয়ায় তার প্রবেশপত্র আসেনি। বিষয়টি রাবি্ব ও তার পরিবার জানতে পেরেছে গতকাল বৃহস্পতিবার। মূল্যায়ন পরীক্ষা, বিদায়ের চাঁদা এবং এমনকি প্রবেশপত্রের জন্যেও ৪০০ টাকা দিয়েছে রাবি্ব। এখন শিক্ষকরা বলছেন তার প্রবেশপত্র আসেনি। বিষয়টি চাঁদপুর কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন রাবি্বর চাচা মোঃ রাসেল ও বাবা বাচ্চু মিয়া।

রাবি্বর চাচা রাসেল মজুমদার বলেন, রাবি্ব আমার ভাতিজা। আমি একসাথে ৫ জনের ফরম ফিলাপ করেছি। তাদের মধ্যে রাবি্ব একজন। প্রধান শিক্ষকের কাছে টাকাগুলো পৃথকভাবে দিয়েছি। শিক্ষকদের গাফিলতিতে রাব্বীর প্রবেশপত্র আসেনি। এই দায় প্রধান শিক্ষকের।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাফাজ্জল হোসেন বলেন, রাব্বীর ফরম ফিলাপের টাকা জমা হয়নি, তাই প্রবেশপত্র আসেনি। এখানে আমাদের কিছু করার নাই।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যাদের প্রবেশপত্র আসেনি তাদের পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে আরো কয়েকদিন আগে বিষয়টি জানা গেলে হয়তো কিছু একটা করা যেতো। এখন আর কিছুই করার নেই। বিষয়টি দায়িত্বহীনতার মধ্যে পড়ে কিনা তা নিয়ে আমরা খবর নিচ্ছি। অপর এক প্রশ্নে এই কর্মকর্তা বলেন, প্রবেশপত্র আরো কয়েকদিন আগে এসেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরো আগে প্রবেশপত্র বিতরণ করলে আমাদের নজরে আসতো বিষয়টি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category