বুধবার, আগস্ট ২৮, ২০১৯




হাজীগঞ্জে এক মাসে ডেঙ্গু রোগী ৬৩ জন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  গত এক মাসে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬৩ জন ডেঙ্গু রোগী। বতর্মানে চিকিৎসাধীন আছেন ৩ জন। ৬৩ জনের মধ্যে ২৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং ৩৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এর মধ্যে ডেঙ্গুতে হাজীগঞ্জে ১৪ জন, পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে ২৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। বাকি ২০ জন ঢাকা থেকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জানা গেছে, ডেঙ্গু এখন মানুষের মনে আতঙ্কে রূপ নিয়েছে। গত জুলাই থেকে জ্বর হলেই লোকজন হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে আসছেন। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ৯ আগস্ট থেকে ডেঙ্গু সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। সে হিসাবে ৯ আগস্ট থেকে গতকাল (মঙ্গলবার) পর্যন্ত ১০৫ রোগী ডেঙ্গু পরীক্ষা করিয়েছেন। এছাড়া শতাধিক রোগী বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করিয়েছেন। এর মধ্যে ৬৩ জনকে ডেঙ্গু রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রায় প্রতিদিন হাসপাতালে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে ডেঙ্গু রোগী হিসাবে শনাক্ত করা হচ্ছে। গত এক সপ্তাহের মধ্যে ১৯ (আগস্ট) তারিখে ১ জন, ২০ তারিখে ৩ জন, ২১ তারিখে ২ জন, ২২ তারিখে ১ জন, ২৪ তারিখে ১ জন, ২৫ তারিখে ২ জন, ২৬ তারিখে ৪ জনকে ডেঙ্গু রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

২৬ তারিখে ডেঙ্গু শনাক্তকৃত ৪ জন রোগীর মধ্যে ৩ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং সামছুন্নাহার নামের (২০) একজন রোগীকে আজ (মঙ্গলবার) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। ভর্তিকৃত ৩ জনের মধ্যে হাসিব (২০) ঢাকা থেকে এবং ইব্রাহিম (৯) ফরিদগঞ্জ থেকে এবং আলমগীর (৪৬) হাজীগঞ্জে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিসংখ্যানবিদ মো. মোশারফ হোসেন জানান, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৩৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজসহ ঢাকায় নিয়ে রেফার করা হয়েছে। ২৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এবং বর্তমানে ৩ জন চিকিৎসাধীন আছেন। তিনি বলেন, আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ১৪ জন হাজীগঞ্জের, ২৯ জন পার্শ্ববর্তী উপজেলাসমূহের এবং ২০ জন ঢাকা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাজীগঞ্জে এসেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. আনোয়ারুল আজিম জানান, ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে ভয়ের কোনও কারণ নেই। ইতিমধ্যে সারাদেশে রোগীর সংখ্যা অনেকটা কমে এসেছে। তবে আমাদের আরো বেশি সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। যাতে করে এর প্রভাব বৃদ্ধি না পায়।

সচেতনতার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পেতে হলে নিজেকেই উদ্যোগী হতে হবে। অ্যাডিস মশা সাধারণত স্বচ্ছ পানিতে প্রজনন করে থাকে। তাই এর প্রধান প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হলো, অ্যাডিস মশার আবাসস্থল সমূলে ধ্বংস করা। এজন্য বাসা-বাড়ি কিংবা বাড়ির ছাদে, টবে থাকা পানি তিনদিন পরপর পরিষ্কার করতে হবে। এছাড়া বাসা-বাড়ির আঙিনা ঝোপঝাড়মুক্ত রাখতে হবে। প্রয়োজনে লোশন, ক্রিম, নারিকেল তেল, স্প্রে কিংবা মশার কয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

শরীরের বেশিরভাগ অংশ ঢেকে রাখা যায় এমন কাপড় পরিধান করা উত্তম উল্লেখ করে ডা. আনোয়ারুল আজিম বলেন, জ্বর হলে দেরি না করেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হবে। প্রচুর পানি পান করতে হবে এবং তরল জাতীয় খাবার ও টক জাতীয় ফলমূল বেশি করে খেতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category