শুক্রবার, অক্টোবর ১৬, ২০২০




হাইমচরে দুই পরিবারের দ্বন্দ্বে বাড়ির পথে প্রতিপক্ষের বেড়া, ভোগান্তি ৪ পরিবারের

হাইমচর প্রতিনিধিঃ হাইমচর উপজেলাধীন চরভৈরবী ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে নিরীহ পরিবারের উপর হামলা ও বাড়ির পথে প্রতিপক্ষের বেড়া নির্মাণে ভোগান্তির সম্মুখীন অসহায় ৪ পরিবার।
গত ১৪ অক্টোবর বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার সময় দক্ষিণ চরভৈরবী গ্রামের আলমগীর পাজলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষদের হামলায় ২জন গুরুতর আহত হয়েছে। আহত আলমগীর পাজলের স্ত্রী সাথী বেগম ও শেফালী বেগম হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলমগীর পাজালের ছেলে সুমন মিয়া হাইমচর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আলমগীর পাজল সহ নিরীহ ৪ পরিবারের বসতবাড়িতে চলাচলের রাস্তায় একই এলাকার কালা চাঁন মিয়ার ছেলে রফিক সর্দার তার লোকজন নিয়ে কোনোরকম পূর্ব নোটিশ ছাড়াই জোর পূর্বক রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। আলমগীর পাজলের ছেলে সুমন মিয়া বেড়া দেয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তাকে তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। সুমন মিয়া তার প্রতিবাদ করলে রফিক সর্দার ও তার স্ত্রী নারগিছ বেগম, মেয়ে শিউলি আক্তার, লাবনী আক্তার ও নাহিদ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের উপর বর্বর হামলা চালিয়ে সাথী বেগম ও শেফালী বেগমকে গুরুতর আহত করে। স্থানীয় লোকজন তাদের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহতদর হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। তারা বর্তমানে হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগকারী সুমন মিয়া জানান, আমাদের দীর্ঘ দিনের বাড়ির চলাচলের রাস্তাটি রফিক সর্দার জোরপূর্বক বন্ধ করে দেয়। আমি প্রতিবাদ করায় তারা আমার ও আমার পরিবারের উপর হামলা চালিয়ে পরিবারের লোকজনদের গুরুতর আহত করে। আমি যদি এ বিষয়টি কাউকে জানাই তাহলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। আমি ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা জন্য এ ঘটনার বিচার চেয়ে হাইমচর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।
স্থানীয় সর্বসাধারণ জানান, সুমন মিয়ার পরিবার সহ একই মালিক থেকে ক্রয়কৃত জমিতে বসবাসকারী ৪টি পরিবার দীর্ঘদিন যাবৎ এ রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে কোনোকিছু না বলেই হঠাৎ করে চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। এতে ভোগান্তির শিকার হয় ৪টি অসহায় পরিবার।
হাইমচর থানা এএসআই আব্দুল খালেক জানান, বিরোধ সংক্রান্ত উভয় পক্ষের অভিযোগ পত্র আমার কাছে জমা রয়েছে। মিমাংসার লক্ষে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও সাবেক উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান সহ স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় আপাতত বন্ধ রেখেছি। আজকালের মধ্যেই উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে বিষয়টি সমাধান করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category