বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ৬, ২০১৮




স্কুলশিক্ষার্থী বিভিন্ন ব্যাংকে জমিয়েছে এক হাজার ৪২৮ কোটি টাকা

অর্থনীতি ডেস্কঃ স্কুলশিক্ষার্থীরা এখন ব্যাংকের গ্রাহক। বিভিন্ন ব্যাংকে স্কুল শিক্ষার্থীদের একাউন্ট বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে অর্থ জমার পরিমাণ। গত একবছরে ২ লাখ ২২ হাজার ৩৪৪ জন স্কুলশিক্ষার্থী নতুন করে ব্যাংক হিসাব খুলেছে। বর্তমানে ১৬ লাখ ৯ হাজার ৯৬১ জন শিক্ষার্থীর টাকা জমা রয়েছে ব্যাংকে। আর স্কুলশিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ব্যাংকে জমিয়েছে এক হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। একাউন্ট ও টাকা জমার পরিমাণে সরকারি ব্যাংকগুলো অনেক পিছিয়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের তথ্য নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন ডিপার্টমেন্ট। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকে স্কুলের ১৩ লাখ ৮৭ হাজার ৬১৭ জন শিক্ষার্থীর অ্যাকাউন্ট ছিল। গত মার্চে ছিল ১৪ লাখ ৬১ হাজার ৮৬০ জন শিক্ষার্থীর অ্যাকাউন্ট।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুলশিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ব্যাংকে জমিয়েছে এক হাজার ৪২৮ কোটি টাকা। গত বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা বিভিন্ন ব্যাংকে জমিয়ে ছিল এক হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। জুন পর্যন্ত স্কুলশিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ব্যাংকে এক হাজার ৪১৯ কোটি টাকা জমিয়ে ছিল। মার্চে শিক্ষার্থীদের জমানো টাকার পরিমাণ ছিল একহাজার ৪৪১ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের ব্যাংকে শিক্ষার্থীদের হিসাব ও টাকা জমার পরিমাণ অনেক কম। ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরাও পিছিয়ে রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গ্রামাঞ্চলের ব্যাংক শাখার মাধ্যমে খোলা স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের তুলনায় শহরাঞ্চলের ব্যাংক শাখার মাধ্যমে খোলা স্কুল ব্যাকিং হিসাবের সংখ্যা প্রায় ৫৯.০৬ শতাংশ বেশি। ব্যাংকে জমার ক্ষেত্রে গ্রামাঞ্চলের তুলনায় শহরাঞ্চলের জমার পরিমাণ ১৯৫ শতাংশ বেশি। এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ লাখ ৩৭ হাজার ৩১ জন স্কুলছাত্র তাদের ব্যাংক হিসাবে ৮২১ কোটি ৩২ লাখ টাকা জমিয়েছে। আর ৬ লাখ ৭২ হাজার ৯৩০ জন স্কুলছাত্রী জমিয়েছে ৬০৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রামের ছয় লাখ ২১ হাজার ৪৫৬ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন ব্যাংকে ৩৬১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা জমা রেখেছে। শহরের ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৫০৫ জন শিক্ষার্থী জমা করেছে এক হাজার ৬৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
১১ থেকে ১৮ বছর বয়সী অর্থাৎ ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির আগ্রহী ছাত্রছাত্রীরা তাদের বাবা-মা অথবা বৈধ অভিভাবকের সঙ্গে যৌথ নামে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারে। মাত্র ১০০ টাকা প্রাথমিক জমা দিয়ে বাংলাদেশের বেশিরভাগ ব্যাংকের শাখায় এই হিসাব খোলা যায়। এই হিসাবে কোনও ফি বা চার্জ আরোপ করা হয় না। এমনকি ন্যূনতম স্থিতি রাখার বাধ্যবাধকতাও নেই।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান ২০১০ সালে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে ‘স্কুল ব্যাংকিং’ কার্যক্রমের উদ্যোগ নেন। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালের ২ নভেম্বর স্কুল ব্যাংকিং বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করে। এরপর থেকেই স্কুলপড়ুয়াদের সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করতে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আকর্ষণীয় মুনাফার নানা স্কিম চালু করে। প্রথম বছরে (২০১১ সালে) স্কুল ব্যাংকিং হিসাব খোলা হয় ২৯ হাজার ৮০টি। ওই বছর বিভিন্ন স্কুলশিক্ষার্থীরা দেশের ব্যাংকগুলোতে ৩০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আমানত রাখে। শুরুতে ১০ টাকা দিয়ে হিসাব খোলা হলেও পরে হিসাব খুলতে ১০০ টাকা জমা রাখতে বলা হয়। এসব হিসাব সাধারণ চলতি হিসাবে রূপান্তরের সুযোগও আছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, সংখ্যা ও স্থিতির দিক থেকে বেসরকারি ব্যাংকের অবদান সবচেয়ে বেশি। বেসরকারি ব্যাংকগুলো ১০ লাখ ৩১ হাজার ৩৮৩টি ব্যাংক হিসাব খুলেছে যা মোট স্কুল ব্যাংকিং হিসাবের ৬৪ দশমিক ০৬ শতাংশ। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে স্কুলের শিক্ষার্থীদের আমানত রয়েছে ১ হাজার ১৯৬ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ডাচ-বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category