বৃহস্পতিবার, মার্চ ২৫, ২০২১




সিরাজগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যান যখন শত কোটি টাকার মালিক

 নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নামেই তিনি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। এ পুঁজি ব্যবহার করে গত দশ বছরে তিনি শতকোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। সুদের ব্যবসা দিয়ে শুরু, এরপর কি করেননি তিনি। নানা ধরনের প্রতারণা, নদী দখল করে সেখান থেকে বালু উত্তোলন,সরকারী বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, সরকারি এবং বেসরকারি মালিকানার জমি দখলসহ নানা অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার গাঁড়দাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তিনি। দুর্নীতি দমন কমিশন ইতিমধ্যে বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের পাবনা আঞ্চলিক অফিসের সহকারী পরিচালক আতিকুর রহমান ইতিমধ্যে বিষয়টি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জানিয়েছেন। দুদকের অভিযোগপত্রে দেখা যায়, গাঁড়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম মক্তবে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে পুরোদস্তুর মাদক ব্যবসায়ী বনে যান। এতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথে তার উঠাবসা শুরু হয়।

প্রভাবশালীরাই তাকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বানিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে থাকেন। চেয়ারম্যান হবার পর সাইফুল ইসলাম এলাকায় প্রতিরাতে জুয়ার আসর বসিয়ে বিপুল অর্থ ভাগিয়ে নেন। এছাড়া মাদক ব্যবসা, সুদের ব্যবসা, নানান ধরনের ঠিকাদারি, ভূমি দখলের মতো কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িয়ে পড়েন। তাঁর দৃশ্যমান বিভিন্ন ব্যবসায় শত শত কোটির মালিকানা মিললেও আয়কর বিবরণীতে তাঁর প্রমাণ পাওয়া যায় না।

দুদকে পাওয়া অভিযোগপত্রে দেখা যায়, সাইফুল ইসলাম মাদক ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত। ২০১৮ সালে তাঁর গ্রাম মশিপুর মাদকের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থান অর্জন করে। প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন প্রকল্প একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প থেকে তিনি প্রতিঘর প্রতি ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন। এছাড়া তিনি করতোয়া নদীর তালগাছি, নরিনা এবং গাড়াদহ প্রান্ত থেকে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও সাইফুল ইসলাম আবারো তার অপকর্ম বজায় রাখেন।

দুদকের অভিযোগপত্রে সাইফুল ইসলামের সম্পদের বিশদ বিবরণ দেয়া হয়। এতে বলা হয়, উত্তরবঙ্গের নামকরা গরুর হাট তালগাছিতে বাজারের জায়গা দখল করে তিনি মার্কেট বানিয়েছেন। এর ফলে হাটটি একেবারে সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। মনিপুর এবং পুরাণ টেপরিতে তাঁর নিজের নামে চারটি ইটভাটা রয়েছে। অন্যান্য অঞ্চলেও তার নামে রয়েছে একাধিক ইটের ভাটা। সাইফুল ইসলাম পরিবহন ঠিকাদারি ব্যবসার সাথেও জড়িত। নামে বেনামে তার অন্তত: ৪০টি ট্রাক রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category