শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২০




সাংবাদিক গুরু ইকরাম চৌধুরী…

চাঁদপুর জেলার অধিকাংশ সাংবাদিকই শিক্ষক ইকরাম চৌধুরীর হাতে গড়া। আজকে অনেক সাংবাদিকই প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বড় সাংবাদিক হয়েছেন। অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকও আছেন ইকরাম চৌধুরীর সান্নিধ্যের মাধ্যমে। তিনি কখনো কারো জন্য তেল মালিশ করেননি, যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। চাঁদপুর জেলায় ইকরাম চৌধুরীর মতো এমন প্রানপ্রিয় সাংবাদিক আমার চোখে আজও পড়েনি, আমিও ধন্য তার শাসন ও আদর সোহাগে একজন সংবাদকর্মী হিসাবে নিজেকে পরিচিত করতে পেরে।
১৯৯৯ সালের জুন মাসের কথাঃ
চাঁদপুর থেকে প্রথম সরাসরি একটি দৈনিক পত্রিকা বের হবে। উপজেলা গুলো থেকে নেয়া হয়েছে অফিস প্রধান, সদর উপজেলা থেকে নেয়া হয়েছে নিজস্ব প্রতিবেদক, ষ্টাফ রির্পোটার,পৌরসভার মাঝ পথ দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদী, পৌরসভার রাজস্বখ্যাত পুরানবাজার থেকে প্রতিনিধি নেয়া হবে। কয়েকজন আবেদন করলেও আমি সে সুযোগটি পাই। আমার হাতের লেখায় মুগ্ধ হয়ে তিনি আমাকে তার পত্রিকা দৈনিক চাঁদপুর দর্পন নামক দৈনিক পত্রিকায় আমাকে স্থান দেয়। আমিও মুগ্ধ তার পাশে থাকার অনুমতি পেয়ে। আমি দেখেছি কিভাবে একজন সংবাদকর্মী হতে হয় তার ছায়াতলে থেকে। শিখেছি সংবাদ লেখা। নিয়মনীতি আর লেখার গঠন। তখন বার্তা সম্পাদক ছিলেন আজকের চাঁদপুর প্রতিদিনের সম্পাদক ও প্রকাশক ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী। সেপ্টেম্বর মাসের ১৯ তারিখ কলবরে ৬৪ পৃষ্ঠা নিয়ে পত্রিকাটি বের হবে। সব আয়োজন শেষ। উপজেলা গুলো থেকে প্রতিদিনই খামে করে সংবাদ আসতো। বিশেষ করে মানুষের মাধ্যমে প্রতিদিনের নিউজ গুলো আসতো।
তৎকালীন সময়ে চাঁদপুর দর্পনে কাজ করেছেন, সাংবাদিক পার্থনাথ চক্রবর্তী, সাংবাদিক সোহেল রূশদী, সাংবাদিক রহিম বাদশা, প্রবাসী এসটি সাহাদাত, কচুয়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ জালাল চৌধুরী, সাংবাদিক ফনী ভুষন চন্দ, সাংবাদিক মরহুম আজিম ফারুকী, মরহুম আলাউদ্দিন আল আজাদ, সাংবাদিক সায়েদ হোসেন রিপন, নাট্যকার লিটন ভুইয়া, নাট্যকার আকরাম খান, সাংবাদিক লক্ষন চন্দ্র সুত্রধর, সাংবাদিক মনির চৌধুরী, সাংবাদিক শরীফ চৌধুরী,সাংবাদিক আনোয়ার হাবিব কাজল, সাংবাদিক শেখ মহিউদ্দিন রাসেল, সাংবাদিক সুজন চৌধুরী,সাংবাদিক সাহাদাত তালুকদার, সাংবাদিক ফারুক আহমেদ এবং আমি এম. আর হারুন। আরো অনেকে আছেন এ মুহুর্তে আমার নাম মনে নেই। উপজেলা গুলো থেকে কচুয়ার অফিস প্রধান আবুল হোসেন, সহকারী মফিজুল ইসলাম বাবুল, হাজীগঞ্জ থেকে অফিস প্রধান জহিরুল ইসলাম লিটন, সহকারী হাবিবুর রহমান, মতলব উত্তর থেকে শামসুজ্জামান ডলার, এইচ এম ফারুক, মতলব দক্ষিন থেকে শ্যামল চন্দ্র দাস, নিমাই ঘোষ, ফরিদগঞ্জ থেকে মোস্তফা কামাল, নাছির পাঠান, হাইমচর থেকে মাহবুবুর রহমান পাটোয়ারী, এম সুমন, শাহরাস্তী থেকে স্বপন কর্মকার মিঠুন, মাসুদ রানাসহ আরো অনেকে। দর্পন শুরুতেই এসব সাংবাদিকরা কাজ করেছেন ইকরাম চৌধুরীর সান্নিধ্যে থেকে। ১৯৯৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর দৈনিক চাঁদপুর দর্পন পাঠকদের হাতে পৌছে। তখন সম্পাদক সাহেবসহ আমরা কয়েকজন মিলে হকার হয়ে গেলাম, প্রিয় পাঠকের হাতে পত্রিতা পৌছে দিলাম। সংবাদের পরিধি পরিছন্ন থাকায় বেশ সুনাম সুখ্যাতি অর্জন করতে লাগলো এ পত্রিকাটি। এক সময় প্রথম সারিতে পা রাখলো।
আমিই ছিলাম সাংবাদিক ইকরাম চৌধুরীর খুব সান্নিধ্যে। আমি তাকে খুব কাছ থেকে দেখেছি, একটু শাসন করলেও আদরের ভাগটা ছিলো তার হৃদয়ে বেশি। তিনি সব সময় লেখনি নিয়ে উপদেশ দিতেন। তিনি চ্যানেল আইতে চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি হওয়ার পর থেকে আমি ভিডিও ক্যামেরা চালাতাম। তিনি বেশির ভাগ পত্রিকা অফিসেই রাত কাটাতেন, চেয়ারে হেলান দিয়ে ঘুমাতেন। অনেক সময় রাতে বাড়িও ফিরতেন না। সংবাদ সংগ্রহে সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত মাঠ চষে বেরিয়েছি। সন্ধা হলেই নিউজ লেখার ভীড় হতো মিনি সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় অফিসে। তখন দেখেছি ইকরাম চৌধুরীর মন মানসিকতা। আমাকে সব সময় শাসনের মাঝেই রেখেছেন, আমার একটু ভুল হলেই তিনি ক্ষেপে আসতেন আমার কাছে, এসেই ঠান্ডা মাথায় বলতেন তুর নিউজ লেখা ভুল হয় কেনো। আমি ভয়ে কোনো কথা বলতাম না, শিক্ষনীয় ব্যাপার ছিলো তাই আমিও মাথা নিচু করে চুপচাপ থাকতাম। পত্রিকার সম্পাদকীয় লেখার দায়িত্বে ছিলেন ইকবাল পাটোয়ারী, তিনি যখন লিখতে বসতেন তখন তাকে কেউ যেনো ডির্স্টাব না করে। এক ধ্যানে তিনি লিখতেন। উপজেলা থেকে যে সব নিউজ গুলো আসতো সে সব নিউজ তিনি নিজেই এডিট করতেন, মাঝে মধ্যে এডিট করার বা পুনরায় নিউজটি লিখতে আমিও সুযোগ পেয়েছিলাম।
আমি শিখেছি সাংবাদিকতা, আমি শিখেছি পরকে ভালবাসতে, আমি শিখেছি রাগ অভিমান হলে কিভাবে মানুষকে আপন করতে হয়। তিনি আমার সাংবাদিক গুরু, যার হাতের ছোয়ায় আমার জীবন পরিবর্তন হয়েছে। না খেয়েও আমি অফিসে তিন মাস দায়িত্ব পালন করেছি। কখনো সিঙ্গারা কিংবা চা খেয়ে জীবনপাত করেছি, তাকে বুজতে দেইনি, তারপরও আমার লক্ষ্য ছিলো মহান এ সাংবাদিক থেকে আমি শিখবো, তখন ভাবতাম আমার শিখা হয়নি। আজ আমার পিতৃতুল্য গুরু ডায়াবেটিস কিডনী রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের বিছানায় রয়েছে। আমি মহান বিধাতাকে আকুল আবেদন করি হাসি খুশি এ মানুষ, যার মনের ভিতর বিন্দু পরিমান অহংকার নেই, “আল্লাহ এ মহান পুরুষকে তুমি সুস্থ্য করে দাও। তুমি মহান বিধাতা জীবনদানকারী, তুমিই পারো তোমার ঈশারায় এক মুহুর্তে তাকে সুস্থ্য করে দিতে। তিনি আমার প্রিয়জন, আমিও তোমার কাছে হাত তুলে প্রার্থনা করি, আমার গুরু ইকরাম চৌধুরীকে তুমি সুস্থ্য করে দাও, আমিন, আমিন, আমিন।
                                            লেখকঃ এম. আর হারুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category