শুক্রবার, আগস্ট ১৪, ২০২০




সম্পাদক ইকরাম চৌধুরীর আচরন ছিল একজন বন্ধুর মতো

শামসুজ্জামান ডলারঃ চাঁদপুর জেলা শহর থেকে সর্বপ্রথম সরাসরি দৈনিক হিসাবে প্রকাশিত দৈনিক চাঁদপুর দর্পনের সম্পাদক ইকরাম চৌধুরী।১৯৯৮ সালে প্রকাশিত এই পত্রিকার শুরুথেকেই মতলব উত্তর উপজেলা প্রতিনিধি হিসাবে আমার কাজ করা শুরু। সেই সুবাধে আজ থেকে ২১ বছর আগে আমি ওনার সাথে কাজ করার সুযোগ পাই। তাঁর আচরনে আমি মুগ্ধ হই এবং সংবাদপত্রে কাজ করার প্রতি আমার আগ্রহটা আরো বৃদ্ধি পায়। তাঁর আচরন ছিল একজন বন্ধুর মতো। একজন সম্পাদকের এরকম বন্ধুর মতো আচরন দেখে আমি রীতিমতো অবাক হই। সাপ্তাহিক ও পাক্ষিক পত্রিকার সম্পাদকের সাথে আমার কাজ করার সুযোগ হলেও কোন দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকের সাথে কাজ করার সুযোগ আমার ইকরাম ভাইয়ের সাথেই প্রথম।

চাঁদপুর জেলা শহর থেকে ৩৫ কিমিঃ দূর আমার কর্ম এলাকা মতলব উত্তর উপজেলা। এখানে এশিয়ার ২য় বৃহৎ মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্প হবার কারনে বহুবার তিনি আমার মোটরসাইকেলে চেপে ঘুরে বেড়িয়েছেন সেচপ্রকল্পের আনাচে কানাচে। কৃষকের পানীয় সেচ সুবিধা আদায় করতে দৈনিক যুগান্তর ও চাঁদপুর দর্পন পত্রিকায় ধারাবাহিক বহু নিউজ করেছেন তিনি। কাজের চাপে অনেকদিন দুপরের খাওয়াও হয়নি, চা-বিস্কুটেই কেটেছে সারাদিন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কৃষি নিউজের উদ্ভাবক চাঁদপুরের কৃতি সন্তান শাইখ সিরাজের মাধ্যমে কৃষি উপদেষ্টা সিএস করিম মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পানির সেচের অবকাঠামো তৈরী করা থাকলেও অদ্যবধি ওখানকার কৃষকরা পানীর সুবিধা থেকে বঞ্চিত এমন এলাকা পরিদর্শনে আসবেন। সেচ প্রকল্পের কোথায় সেই স্পট তা জানেননা সিএস করিম, জানেননা শাইখ সিরাজ, জানেননা চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক। জানেন শুধু আমার সাংবাদিক গুরু চ্যানেল আই এর স্টাফ রিপোর্টার ইকরাম চৌধুরী আর স্থান চিহ্নিত করে দেয়ার কারনে জানি আমি।
আমি আর ইকরাম ভাই মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৎসময়ের মাহফুজ আলম খান এর গাড়িতে সবার সামনে আমাদের গাড়ি। আমরা সিএস করিমকে স্পটে নিয়ে আসি এবং ইকরাম ভাইয়ের কল্যানে মেঘনা ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের পানি না পাওয়া অঞ্চলে পানি আসলে কৃষকের অনেক উপকার হয়।

মতলবে পৈত্রিক ব্যবসা ও মতলবে থাকার নেশাতেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখার পর্ব শেষে আমি চলে আসি মতলবে।সাংবাদিক গুরু ইকরাম চৌধুরী সস্পাদিত দৈনিক চাঁদপুর দর্পন পত্রিকার শুরু থেকেই আমি ওনার সাথে কাজ করার সুযোগ পাই। এই পত্রিকায় কাজ করার পূর্বে আমি সাপ্তাহিত চাঁদপুর সংবাদ ও পাক্ষিক ক্রিড়া জগত পত্রিকায় কাজ করতাম। কিন্তু ইকরাম ভাইয়ের সাথে কাজ করার সুযোগ আমাকে পত্রিকায় কাজ করার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। কেননা উনি ছিলেন বন্ধুর মতো, উনি ছিলেন বড় ভাইয়ের মতো। চাঁদপুর দর্পনে কাজ করার সুবাধে প্রিয় ইকরাম ভাই ও তৎসময়ের চাঁদপুর দর্পনের বার্তা সম্পাদক ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী ভাইয়ের কল্যানে আমি কাজ করার সুযোগ পাই জনবহুল দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায়। ওনারা দৈনিক ইত্তেফাকের চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি গোলাম কিবরিয়া জীবন ভাইয়ের সাথে আমাকে মিট করিয়ে দেন এবং আমাকে মতলব উত্তর উপজেলা প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করার সুযোগ দেয়ার জন্য বলেন। সেই সুবাধে আমি ইত্তেফাকের মতো একটি বড় পত্রিতায় কাজ করার সুযোগ পাই।

২০০১ সালে মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনলে সালাউদ্দিন-২ নামের রাঙ্গাবালীগামী একটি বড় লঞ্চ ঝড়ের কবলে ডুবে যায়। সেখানে আমি সংবাদ সংগ্রহের কাজে যাই। ওখানাে দৈনিক ইত্তেফাকের তৎকালীন চীফ রিপোর্টার আবুল খায়ের ভাই ছিলেন ২ দিন ২ রাত্র। ওনার সহযোগী হিসাবে আমিও সেখানে ছিলাম। ইকরাম ভাই তখন দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি। তিনি লঞ্চ ডুবির ঘটনাস্থলে আসেন। আমরা অনেকেই দাড়িয় দাড়িয়ে কথা বলছি। তৎসময়ে ভোরের কাগজের চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি বর্তমানে সময় টেলিভিশন ও দৈনিক কালেরকন্ঠ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি ফারুক আহম্মেদ ফারুক ভাই ইকরাম ভাইয়ের সামনে বল্লেন ডলার খায়ের ভাইয়ের(আবুল খায়ের) সাথে থেকে শুধু ইত্তেফাকে নিউজ পাঠালেই হবেনা দর্পনেও নিউজ পাঠাতে হবে সেটা ভুলেগেলে হবেনা। কেননা, দর্পন পত্রিকাই কিন্তু তোমার অরজিন।তখন নিউজ লিখে পত্রিকা অফিসে পৌঁছে দিতে হতো। ঠিক তখন প্রিয় ইকরাম ভাই ফারুক ভাইয়ের মুখথেকে কথা টেনে নিয়ে বল্লেন না ডলারের চাঁদপুর যেতে হবেনা ও মাত্র কিছুদিন হয় ইত্তেফাকে কাজ শুরু করছে ওইটা একটু পাকাপোক্ত হোক। লঞ্চ ডুবিটা বড় আইটেম ও খায়ের ভাইয়ের সাথে ইত্তেফাকেই নিউজ পাঠাক দর্পনটা আমিই সামলেনিবো। এরকম অসংখ্য কাজে ইকরাম ভাই আমাকে বন্ধুর মতো হয়ে সহযোগীতা করেছে, ভাইয়ের মতো হয়ে সহযোগীতা করেছেন আমি কি করে ভুলি সেই ইকরাম ভাইকে। সংবাদপত্রে ইকরাম ভাই আমার প্রেরনা, ইকরাম ভাই আমার আদর্শ। ইকরাম ভাইকে ভুলেগেলে আমি যে অকৃতজ্ঞ হয়ে যাবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category