শুক্রবার, মে ২২, ২০২০




সদাকাতুল ফিতর রোজা ত্রুটিমুক্ত করে…

আল্লাহ তাআলার অন্যতম নির্দেশ মাহে রমজানের রোজা পালনে আমাদের কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকে৷ যেমন রোজা রেখে মিথ্যা, গীবত, চোগলখোরিসহ অনেক পাপ রোজাবস্থায় নফসের প্ররোচনায় সংঘটিত হয়ে থাকে৷ এ সকল পাপ থেকে রোজাকে ত্রুটিমুক্ত করার অন্যতম উপায় হলো সদাকাতুল ফিতর তথা ফিতরা প্রদান করা৷ পাশাপাশি আমাদের দরিদ্র প্রতিবেশিগণ যেন ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে মহৎ লক্ষ্য সামনে রেখেই সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব করা হয়েছে৷ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত৷ তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) রোজাকে অনর্থক ও অশালীন কথা হতে পবিত্র করার জন্য এবং মিসকিনদের খাদ্য দেওয়ার জন্য সদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ করেন৷ (আবু দাউদ ১ম খণ্ড, পৃ. ২২৭, হা. ন. ১৬০৯)৷

ওয়াকী ইবনুল জাররাহ (রহ.) বলেন, রমজানের জন্য সদকাতুল ফিতর হলো নামাজে সাহু সিজদার ন্যায়৷ নামাজের ত্রুটি যেমনিভাবে সাহু সিজদা দ্বারা পূর্ণ হয়, তেমনি রমজানের রোজার মিথ্যা, গীবত, চোগলখোরি ইত্যাদি গুনাহের কারণে যে ত্রুটি হয় তা সদাকাতুল ফিতর দ্বারা পূর্ণ হয়৷ (গুনিয়াতুত তালেবীন, উর্দু, পৃ. ৩৭১)৷

★সদাকাতুল ফিতর কারা দিবেন:
ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের পর মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত যারা নিসাব পরিমাণ (সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা তার মূল্য পরিমাণ সম্পদের মালিক) সম্পদের মালিক হবেন, সে সকল নারী-পুরুষের উপর সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব৷ যাদের উপর ফিতরা ওয়াজিব তাঁরা নিজেদের, নাবালেগ সন্তান এবং ক্রীত দাসের পক্ষ হতে আদায় করবেন৷ বালেগ সন্তান এবং স্ত্রী নিজে আদায় করবেন, তবে পিতা বালেগ সন্তানের এবং স্বামী স্ত্রীর পক্ষ হতে ফিতরা আদায় করলে তা আদায় হয়ে যাবে৷

★সদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ:
প্রত্যেক স্বাধীন অথবা ক্রীতদাস মুসলিম নারী, পুরুষ, বালেগ-নাবালেগের পক্ষ থেকে এক সা’ (৪ কেজি ১০০ গ্রাম) পরিমাণ খেজুর, যব বা কিসমিস অথবা অর্ধ সা’ (২ কেজি ৫০ গ্রাম) পরিমাণ গম বা আটা বা ছাতু দিয়ে সদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব৷ দুর্ভিক্ষের সময় খাদ্য দ্রব্য এবং সাধারণ অবস্থায় এগুলোর মূল্য দিয়ে সদাকাতুল ফিতর আদায় করা উত্তম৷
★ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর পক্ষ থেকে এ বছর বাজার দর বিশ্লেষণপূর্বক ফিতরার সর্বনিম্ন পরিমাণ জনপ্রতি ৭০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে৷

★সদাকাতুল ফিতর প্রদানের সময়:
ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদেকের সময় সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব হয় এবং ঐ দিন ঈদের নামাজের পূর্বে আদায় করা মুস্তাহাব৷ হাদীস শরীফে এসেছে, যে ব্যক্তি (ফিতরা) ঈদের নামাজের পূর্বে আদায় করবে, তা মাকবুল (গ্রহণযোগ্য দান হিসেবে হবে৷ আর যে ব্যক্তি নামাজের পর আদায় করবে তা অন্যান্য (নফল) দানের মত হবে৷
সুতরাং ফিতরা ঈদের নামাজের আগে দেয়া উচিত৷ কোন দূরবর্তী আত্নীয়কে দেয়ার ইচ্ছা করলে ঈদের নামাজের আগে ফিতরার টাকা আলাদা করে রাখা যেতে পারে৷
★এক ব্যক্তির ফিতরা এক মিসকিনকে দেয়া উত্তম৷ তবে একাধিক ব্যক্তিকেও দেয়া যায়৷ আবার একাধিক ব্যক্তির ফিতরা একজন মিসকিনকে দেয়া যায়৷

আসুন, আমরা বর্তমান সংকটকালীন সময়ে আমাদের রোজাকে ত্রুটিমুক্তভাবে আল্লাহ পাকের দরবারে পৌঁছানো এবং দরিদ্র আত্নীয় ও প্রতিবেশির প্রতি সহায়তার হাত বাড়ানোর লক্ষ্যে যথাযথভাবে ফিতরা প্রদান করি৷

মো. জাফর আলী,
আরবি প্রভাষক,
রামপুর আদর্শ আলিম মাদরাসা, চাঁদপুর৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category