বুধবার, জানুয়ারি ১৩, ২০২১




শাহরাস্তি থানার এসআই সৈকত ১ বছরেও তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ না করায় বাদীর হয়রানি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ শাহরাস্তি থানার এসআই সৈকত দাস গুপ্ত ১ বছরেও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ না করায় বাদীকে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বাদী শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউনিয়নের শোরসাক গ্রামের আবুল কালামের ছেলে মোঃ আল আমিন মারধরের স্বীকার হয়ে একই গ্রামের মোঃ শাকিল খানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ বিচারক আমলী শাহরাস্তি চাঁদপুর আদালতে মামলা দায়ের করে। যাহার দরখাস্ত- ৮৯৭/১৯।

প্রতিবেদন দেয়ার জন্য আদালত শাহরাস্তি থানাকে প্রেরণ করলে ওই এসআই তদন্ত ভার পায়। আল আমিন জানান, আমাকে দীর্ঘদিন থেকে এসআই সৈকত একাধিকবার থানায় খবর দিয়ে এনে বিভিন্ন অজুহাতে আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা উৎকোচ নেয় এবং মামলার সাক্ষীদেরকে থানায় হাজির করার কথা বললে ৩ জন কে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের স্বাক্ষ্য নেয়। কিন্তু তিনি অদ্যাবধি আদালতে প্রতিবেদন না প্রেরণ করে পাঠাবো বলে আরও উৎকোচের জন্য আমাকে হয়রানি করে আসছে। এ ব্যাপারে এ প্রতিবেদক এসআই সৈকতের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করেন এবং মামলার স্বাক্ষী প্রমান পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানান।

ঘটনার বিভিন্ন মামলা ও তথ্য সংগ্রহ সুত্রে প্রকাশ বাংলাদেশ ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচী (৬ষ্ঠ পর্ব) আওতাধীন শাহরাস্তি উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও সদস্য সচিবের ৩০ জুন ২০১৯ইং তারিখের এক স্বাক্ষ্যরিত পত্রে আল আমিন ০১/০৭/২০১৯ইং তারিখে শাহরাস্তি থানায় অস্থায়ীভাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে কর্মস্থলে যোগদান করেন। যাহার ন্যাশনাল সার্ভিসের নিবন্ধন নং- ৩৬৮। থানায় যোগদানের পর অল্প ক”দিন দায়িত্ব পালনের মধ্যে পুলিশ আল আমিন কে দিয়ে পলাতক আসামী ধরা বা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সে বিভিন্ন কলাকৌশলে তাদেরকে স্থানপাত্রে এনে তথ্য এবং দেখিয়ে দিয়ে সহযোগিতা করতো। এ দায়িত্ব পালনে আল আমিন জানান,শোরসাক গ্রামের সেলিম খানের ছেলে শাকিল খানের বিরুদ্ধে মামলা আছে বলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক পুলিশের কথা মতে গত ০৩/০৮/২০২০ইং তারিখের সকালে এবং দুপুরের দিকে দু”দফায় বিভিন্ন কলাকৌশলে শোরসাক বাজারে আসার জন্য আল আমিন তার ব্যবহারিত মোবাইল থেকে শাকিল কে ফোন দেয়। এসময়ে না আসায় একইদিন সন্ধ্যার দিকে পুনঃরায় শোরসাক বাজারস্ত মহসিন মার্কেটের সামনে আসার জন্য তাকে ফোন দিলে সে এলাকার কতিপয় দুষ্ট প্রকৃতির লোকজন নিয়ে এসে আমাকে দেখামাত্র মারধর করার পর পুলিশে সোর্পদ করে এবং শাকিল আমার বিরুদ্ধে শাহরাস্তি থানায় মামলা দায়ের করে। যাহার মামলা নং- ৪, তারিখ ০৩/০৮/২০১৯ইং,ধারা ৪২০/১৭০/৫০৬।

 

শাকিল খান জানান, আল আমিন আমার মোবাইল ফোনে কল দিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরের লোক বলে ভয়ভীতির মধ্যে প্রতারনার চেষ্টা করে ছিলো। আমি ঘটনাটি স্থানীয় লোকজনকে জানিয়ে তাদেরকে সাথে নিয়ে ওই মার্কেটের সামনে যাই এবং তাকে দেখতে পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদে সে সঠিক কোনো উত্তর দিতে না পারায় পালাবার চেষ্টা করলে লোকজন তাকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে এবং আমি মামলা দায়ের করি। আল আমিন এই মামলায় ২৯ দিন জেল খেটে জামিনে আসার পর শাকিল গং আল আমিন কে মারধর, খুন যখমের ষড়যন্ত্র এবং হুমকি প্রদর্শন করলে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১০৭/১১৭(সি) ধারায় চাঁদপুর বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করে এবং ওই উল্লেখিত ৮৯৭/১৯ মামলা প্রায় ১ বছরেও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি।

এদিকে শাকিল খানের দেয়া মামলার ফাইনাল প্রতিবেদন (সার্জশীট) আদালতে দাখিলের তদন্ত অফিসারও ওই এসআই সৈকত ছিলেন। যাহা আদালতে দাখিলের পত্র নং- ২১৩, তারিখ ২৩/০৯/২০১৯ইং। এ প্রসঙ্গে আল আমিন জানান, শাকিলের দেয়া মামলার ফাইনাল প্রতিবেদনে আমি ন্যাশনাল সার্ভিসের একজন কর্মী হিসেবে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পক্ষ থেকে থানায় যোগদানের পর পুলিশকে সহযোগিতা করার কথাটি উল্লেখ করেনি। প্রতিবেদনে তা উল্লেখ করার জন্য আমি তাকে কাগজপত্র দিয়েছি। এছাড়াও তিনি আরও বহু অপ্রাসঙ্গিক কথা উল্লেখ করছেন সার্জশীটে। এ বিষয়ে এসআই সৈকত জানান, আল আমিন এই কথা আমাকে বলেনি এবং আমার জানা ছিল না। আল আমিন ও তার পরিবারের সদস্যরা আদালতে ন্যায় বিচার পাওয়ার প্রার্থনা করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category