রবিবার, এপ্রিল ৭, ২০১৯




রূপগঞ্জে ভূপাতিত শক্তিশালী ঢাকা আবাহনী

স্পোর্টস রিপোর্টার :

কাগজে-কলমে, শক্তিমত্তায় এই মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সবচেয়ে শক্তিশালী দল আবাহনী ক্রীড়াচক্র। খালেদ মাহমুদ সুজনের ভাষায়, প্রায় জাতীয় দলই এটি। গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে সেই দলটাকেই রীতিমতো গুঁড়িয়ে দিয়েছে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। শুভাশীষ রায়, মোহাম্মদ শহীদদের বোলিং তোপে শেরেবাংলায় ভূপাতিত শক্তিধর আবাহনী। গতকাল প্রিমিয়ার লিগের দশম রাউন্ডের ম্যাচে আবাহনীকে ছয় উইকেটে পরাজিত করেছে রূপগঞ্জ।

এই জয়ে শীর্ষে উঠে গেল রূপগঞ্জ। ১০ ম্যাচে তাদের জয় নয়টি। সমান ম্যাচে আবাহনীর জয় আটটি। লিগের শুরু থেকেই সমান তালে এগোচ্ছিল দুই দল। গতকাল মুখোমুখি সাক্ষাতে রূপগঞ্জের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করল লিগের গত আসরের চ্যাম্পিয়নরা। মিরপুরে প্রথমে ব্যাট করে ৩৯.১ ওভারে ১২২ রানে অলআউট হয় আবাহনী। জবাবে ২৬.৫ ওভারে চার উইকেটে ১২৫ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় রূপগঞ্জ। ৩৭ রানে তিন উইকেট নিয়ে আবাহনীর টপ-অর্ডার ভেঙে দেয়া রূপগঞ্জের পেসার শুভাশীষ রায় ম্যাচ সেরা হন।

অনেক চড়াই-উতরাইয়ের পরও প্রিমিয়ার লিগে ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ জিতে আসছিল আবাহনী। গত ২২ মার্চ প্রাইম ব্যাংকের কাছে ১৬ রানে হেরেছিল দলটি। তবে সেই ম্যাচে প্রাইম ব্যাংকের ৩০২ রানের জবাবে আবাহনীও ২৮৬ রান করেছিল। কিন্তু গতকাল যেন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় আবাহনীর ব্যাটিং লাইন। ৪০ ওভারও ব্যাটিং করতে পারেনি জহুরুল ইসলাম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, মিঠুন, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেনকে নিয়ে গড়া দলটি।

যা হতাশ করেছে দলটির কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনকে। গতকাল ম্যাচ শেষে তিনি বলেছেন, ‘আবাহনী যেই রকম ব্যাটিং দল, সেই হিসেবে আরো ভালো হওয়া উচিত ছিল। আমরা হয়তো আজ (গতকাল) ২৮০ করতে পারতাম। ২২০-২৩০ হলেও লড়াই করা যেত। সবচেয়ে বড় দুঃখ হলো, আমরা এই ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে ৫০ ওভার ব্যাট করতে না পারা।’

গতকাল সকালে টসে হেরে আগে ব্যাট করে আবাহনী। শুভাশীষ-শহীদের তোপে ২৯ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। ইনিংসের প্রথম বলেই জহুরুলকে (০) বোল্ড করেন শুভাশীষ। অভিজ্ঞ এই ওপেনার লিগ জুড়েই একপ্রান্ত আগলে দলকে টেনেছেন। তৃতীয় ওভারে শান্ত (৬) ফিরেন শুভাশীষের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে। নবম ওভারে এই পেসারের তৃতীয় শিকার হন সৌম্য (১৪)। বিপদটা আরও ঘনীভূত হয় পাঞ্চাল (১) ও সাব্বির (০) শহীদের শিকার হলে। ষষ্ঠ উইকেটে মিঠুন-মোসাদ্দেক ৪৩ রানের জুটিতে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছেন। মিঠুনকে ফিরিয়ে নাবিল সামাদ ভাঙেন সেই জুটি। মিঠুন ৩৮ রান করেন। সাইফউদ্দিন (১), মিরাজরাও (৫) থিতু হতে পারেননি। মাশরাফি ১৫ রান করেন। নাজমুল অপু (১) রান আউট হলে শেষ হয় আবাহনীর ইনিংস। মোসাদ্দেক ৪০ রানে অপরাজিত ছিলেন। রূপগঞ্জের শহীদ, নাবিল সামাদ দুটি করে উইকেট নেন। রান তাড়া করতে খুব বেগ পেতে হয়নি রূপগঞ্জকে। মেহেদী মারুফ ৫৯, মোহাম্মদ নাঈম ২২, মুমিনুল ১৭ রান করেন। পরে অধিনায়ক নাঈম ইসলামের অপরাজিত ৩ ও শাহরিয়ার নাফিসের অপরাজিত ১২ রানে জয় নিশ্চিত হয় রূপগঞ্জের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আবাহনী: ৩৯.১ ওভারে ১২২ (মোসাদ্দেক ৪০*, মিঠুন ৩৮, মাশরাফি ১৫, সৌম্য ১৪; শুভাশীষ ৩/৩৭, শহীদ ২/১১, নাবিল সামাদ ২/১৫, রিশি ধাওয়ান ১/১৭, মুক্তার আলী ১/৪২)।

রূপগঞ্জ: ২৬.৫ ওভারে ১২৫/৪ (মেহেদী মারুফ ৫৯, নাঈম ২২, মুমিনুল ১৭, শাহরিয়ার নাফিস ১২*, নাঈম ইসলাম ৩*; সাব্বির রহমান ১/১৩, সাইফউদ্দিন ১/১৬,

নাজমুল অপু ১/৩৩)।

ফলাফল: রুপগঞ্জ ছয় উইকেটে জয়ী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category