শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২০




রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির সাত বছর 

মো. নাছির উদ্দীন : ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকাল আনুমানিক নয়টার সময় সাভার বাসস্ট্যান্ডের পাশে রানা প্লাজা নামের একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে। ভবনের কয়েকটি তলা নিচে দেবে যায়। কিছু অংশ পাশের একটি ভবনের ওপর পড়ে। এ দূর্ঘটনায় এক হাজার ১৭৫ জন শ্রমিক নিহত এবং দুই হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়। বিশ্বের ইতিহাসে যা তৃতীয় বৃহত্তম শিল্প দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। এই দূর্ঘটনায় সাধারণ জনগণ, সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিরলসভাবে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করে। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির আজ সাত বছর পূর্ণ হলো।
রানা প্লাজায় পোশাক কারখানা, একটি ব্যাংক এবং একাধিক দোকান ছিল, সকালে ব্যস্ত সময়ে এই ধসের ঘটনাটি ঘটে। ভবনটিতে ফাটল চিহ্নিত এবং ব্যবহার না করার সতর্কবার্তা থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছিল। রানা প্লাজা ধসের মাত্র পাঁচ মাস আগে ঢাকায় অন্য একটি পোশাক কারখানায় একটি বড় অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি বাংলাদেশে ঘটা সবচেয়ে বড় ইন্ডাস্ট্রিয়াল দুর্ঘটনা।
সাভার ভবন ভাঙ্গার অবস্থান (লাল চিহ্নিত)
ভবনটি রানা প্লাজা হিসেবে পরিচিত এবং ভবনের মালিক সোহেল রানা তখনকার সাভার পৌর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশেই নয়তলা রানা প্লাজা ভবনটির অবস্থান। এতে ভূগর্ভস্থ তলায় গাড়ি রাখার জায়গা। দ্বিতীয় তলার বিপণিকেন্দ্রে বহু দোকান ছিল। তৃতীয় থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত পোশাক কারখানা। আর ওপরের দুটি তলা খালি ছিল। ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ছিল প্রথম তলায়।
গার্মেন্টস কারখানায় প্রায় ৫ হাজারের মতো কর্মী কাজ করত। ২০০৭ সালে রানা প্লাজা নির্মাণ করার আগে জায়গাটি ছিল পরিত্যক্ত ডোবা। ভবন নির্মাণ করার আগে বালু ফেলে এটি ভরাট করা হয়। জানা যায়, ভবনের উপরের চার তলা অনুমতি ছাড়াই নির্মাণ করা হয়েছিল।
২০১৩ সালের ২৩ এপ্রিল ফাটল নিশ্চিত হওয়ার পর ভবন ছেড়ে চলে যেতে বলা সত্ত্বেও, অনেক গার্মেন্টস শ্রমিকদের পরের দিন কাজে ফিরতে বলা হয়, তাদের সুপারভাইজার ভবনটিকে নিরাপদ ঘোষণা করে। ফাটল সম্পর্কে বিভিন্ন চ্যানেলে সংবাদ প্রচার করা  হয়েছিল। রানা প্লাজা ভবনটির প্রথম তলা বাদে বাকি সবগুলি তলা আনুমানিক সকাল নয়টার দিকে ধসে পড়ে। ধসে পড়ার সময় ভবনটিকে প্রায় ৩ হাজার কর্মী কর্মরত ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল নয়টার দিকে হঠাৎ করে বিকট শব্দ এবং কাঁপনে তারা ভূমিকম্পের আশঙ্কা করেন। পরে বেরিয়ে দেখেন পুরো এলাকাটি ধুলা বলিতে ধোঁয়াটে হয়ে পড়ে।
সেই সময় ভবনে কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে বেশিরভাগ ছিল নারী যাদের সাথে তাদের শিশু সন্তানও সেখানে নার্সারী সুবিধায় ছিল।
এই ঘটনায় রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া গভীর শোক প্রকাশ করেন। ঘটনার পরদিন ২৫ এপ্রিল একদিনের জাতীয় শোক পালন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category