বুধবার, এপ্রিল ২৯, ২০২০




রমাদ্বানের মাহাত্ম্য ও ফজীলত

****************************
মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কালামে পাঁকে ইরশাদ করেছেন, হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর সিয়াম তথা রোজা ফরজ করা হল; যেমনি ভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যেন তোমরা (তাক্বওয়া) আল্লাহভীতি অর্জন করতে পার। (সূরা আল বাক্বারাঃ১৮৩)
আল্লাহ পাঁকের ভয় অন্তকরণে সদা জাগ্রত রাখতে রোজা এক অনন্য মহৌষধ তা উপরোক্ত আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান। রোজার মাহাত্ম্য বর্ণনায় হাদীসে কুদসীতে
মহান আল্লাহ পাঁকের সুমহান ঘোষণা, রোজা কেবলমাত্র আমারই জন্য আর আমি এর প্রতিদান নিজ (কুদরতি) হাতে প্রদান করব। তাহলে কি রোজা ব্যতিত অন্যান্য ইবাদত আল্লাহর জন্য নয়? হ্যাঁ অবশ্যই আল্লাহর জন্য। নামাজ, হজ্ব, যাকাত, কুরবানী, দান-সাদাকা যত প্রকার ইবাদত রয়েছে সবই দৃশ্যমান ইবাদত। এসব ইবাদত কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করে আবার কেউ লৌকিকতার জন্য। যাতে মানুষ তাকে আবেদ তথা ইবাদতকারী বলে। কিন্তু রোজা এমন একটি ইবাদত যা দেখা যায়না। এটি অভ্যন্তরীণ ইবাদত। কে রোজাদার আর কে রোজাদার না তা কিন্তু বাহ্যিক ভাবে বুঝার কোন উপায় নেই । এর দ্বারা বান্দা শুধুই আল্লাহর রেজা-মন্দি চায়; অন্য কিছু চায় না। এজন্যই আল্লাহ পাঁক বলেছেন, রোজা কেবলমাত্র আমারই জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব।

একই হাদীসের একটু নিচে আসলেই আরও সু-মহান বানী দেখতে পাই, “রোজা ঢাল স্বরূপ”। এই হাদীসাংশে রোজাকে ঢালের সাথে তুলনা করা হয়েছে, আর ঢাল হচ্ছে যুদ্ধে ব্যবহৃত এমন অস্ত্র যা দ্বারা শত্রু পক্ষের তীর সহ অন্যান্য আঘাতের প্রতিরোধক। রোজাদার যখন অপরাধে পা বাড়ায় ঠিক তখনি তার মনে পরে আমি তো রোজাদার! আর রোজা এভাবে যে কোন অপরাধ থেকে রোজাদারকে আত্মরক্ষা দিয়ে থাকে। তাই রোজাকে ঢাল স্বরূপ বলা হয়েছে।
একই হাদীসের অন্য অংশে ইরশাদ হয়েছে, রোজাদারদের জন্য দুটি পুরষ্কার ; একটি হলো ইফতারের সময় এবং অপরটি হলো মহান প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ লাভের সময়।

আরো বলা হয়েছে, রোজাদারদের মুখের গন্ধ মিশকের চেয়েও সুগন্ধময়। উপরোক্ত হাদীসাংশ সমুহ বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত।
রোজার ফযিলত বর্ণনায় রাসুলে করিম (স) আরও ইরশাদ করেন, জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে, তন্মধ্যে একটি দরজার নাম রাইয়ান। ঐ দরজা দিয়ে শুধু মাত্র রোজাদারগণ ই প্রবেশের অনুমতি পাবেন। (বুখারী ও মুসলিম)
রাসুলুল্লাহ (স) আরও ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমাদ্বান মাসে রোজা রাখে, আল্লাহ পাঁক তার পূর্বের গুনাহসমূহ মাফ করে দেন। (বুখারী ও মুসলিম)
মহান আল্লাহ পাঁক আমাদেরকে রমাদ্বানের সিয়াম সাধনায় ব্রতী হয়ে তাক্বওয়া তথা আল্লাহভীতি অর্জনে তাওফিক ইনায়াত করুন এবং রমাদ্বানের মাহাত্ম্য ও ফজীলত আমাদের নসিব করুন।

সংগ্রহে-আব্দুল্লাহ আল-মামুন উয়েসী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category