সোমবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৯




যৌবনে গেছেন মুক্তিযুদ্ধে, বৃদ্ধ বয়সে সেই মুক্তিযোদ্ধা এখন জেলে !

এস.এম ইকবাল: মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বর্তমানে ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ১নং সদস্য রব শেখ (৮০)। বর্তমানে বয়সের ভারে নুইয়ে পড়া রব শেখকে কেউ চেনেন মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক কিংবা স্বনাম ধন্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে। জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীনের যুদ্ধে অংশ নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি তিনি। পরে স্বাধীন এই দেশ ও  মানুষের কল্যানের স্বার্থে শিক্ষকতা , জনসেবা ও সমাজ সেবা মূলক বিভিন্ন কাজে অংশ গ্রহন করে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন।
মুক্তিযোদ্ধা রব শেখ বর্তমানে তার বৃদ্ধ বয়সে চাচাত ভাইয়ের একটি মামলার আসামী হিসেবে জেলে আটক রয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই মামলায় রব শেখের বৃদ্ধা স্ত্রী ও দুই সন্তানকে আসামী করার পর  মঞ্জু ষ্ট্রোক করে মারা যায় । এ নিয়ে ওই পরিবারটির মাঝে চরম আকারে হতাশা বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীরা জানায়, হিন্দ্রু সম্প্রদায়ের কাছ থেকে ক্রয় করা জায়গার মালিকানা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধকে কেন্দ্র করে আপন চাচাত অ্যাড শেখ জহিরের  দায়ের করা একটি মামলার প্রধান আসামী হিসেবে তিনি এখন জেল্ ে।  ক্ষমতা আর ষড়যন্ত্রের রোষানলে পড়ে  রব শেখকে বর্তমানে অন্যায় ভাবে জেল হাজতে আটক রাখা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি । এদিকে মুক্তিযোদ্ধা রব শেখের আটকের খবর শুনে তার মুক্তির দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ ও নিজ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিক্ষুদ্ধরা।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পাইকপাড়া এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা  রব শেখ ও তার চাচাত ভাই এড. জহিুরুল ইসলামের সাথে জায়গার মালিকানা নিয়ে দীর্ঘ দিনের বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধ মীমাংসার জন্য এক পর্যায়ে দুই পক্ষই সিদ্ধান্ত নেয়। এরই মধ্যে এড. জহিরুল ইসলামের সাথে সম্প্রতি রব শেখের ছেলে  স্কুল শিক্ষক হাজ্জাজের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এতে করে দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ ভেস্তে যায়। গত ২৩ সেপ্টম্বর  মুক্তিযোদ্ধা রব শেখ আদালতে হাজিরা দিতে যায়। কিন্তু বিজ্ঞ আদালত মুুক্তিযোদ্ধা রব শেখের জামিন মঞ্জুর না করে তাকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়।  মুক্তিযোদ্ধা রব শেখের বিরুদ্ধে জাল জালিয়াতি ও প্রতারনা অভিযোগ এনে চলতি বছরের ১১ ফেব্রুয়ারী চাঁদপুরের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন তারই চাচাত ভাই এড. জহিুরুল ইসলাম।
সরেজমিনে গেলে এলাকার বেশ কয়জন জানায়, রব শেখ শুধু মুক্তিযোদ্ধাই  নন। তিনি শিক্ষক ও জনসেবার যার রয়েছে অনন্য অবদান । সেই স্বনামধন্য রব শেখ কি এমন গুরুতর অপরাধ করেছে ? এমন প্রশ্ন তুলে ক্ষুদ্ধরা বলেন মূলত প্রতিপক্ষের ক্ষমতার দাপট আর প্রভাবের বলে ষড়যন্ত্র মূলক মামলায় আসামী করে রব শেখকে তার বৃদ্ধ বয়সে  চাচাত ভাই জেলে পাঠাবো এটা ভাবতে কষ্ট লাগে।
এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা রব শেখের ছেলে মোঃ হাজ্জাজ বলেন, আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও দীর্ঘ ৬০ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভাবে জড়িত থাকার পাশাপাশি ১৭ বছর যাবত সততার মধ্যে থেকে ইউ পি চেয়ারম্যান হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোনদিন বাবার সুনাম ছাড়া দুর্নাম ছিল না। আমি যদি আমার চাচা এড. জহিরুল ইসলামের সাথে কোন বেয়াদবি করেই থাকি সেই জন্য আমাকে চাচার কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ না দিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ষড়যন্ত্র করে আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা রব শেখকে জেলে পাঠাবো তা কখনো কল্পনা করিনি।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী তার বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা রব শেখের মুক্তি দাবি করে বলেন, নিজেদের পারিবারি দ্বন্ধের কারনে স্বনামধন্য রব শেখকে অপমান করা কোন  শুভলক্ষন  নয় বলে আমি মনে করি। একই বক্তব্যে দিয়েছেন উপজেলা সেক্টর কমান্ডার ফোরামের সদস্য সচিব প্রফেসর তবিবুল্লা।
মুক্তিযোদ্ধা রব শেখের বিরুদ্ধে  তারই চাচাত ভাইয়ের দায়ের করা মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রব শেখ নাকি দলিল ঘষামাজা করে জাল জালিয়াতি ও প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে ৯ শতাংশ জায়গা ভোগদখল করে আসছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category