বৃহস্পতিবার, মে ২৩, ২০১৯




যানবাহন চলাচলের জন্য প্রস্তুত দ্বিতীয় মেঘনা সেতু, ২৫ মে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

 মহিউদ্দিন আহম্মেদঃ যানবাহন চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে দ্বিতীয় মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু। ২৫ মে শনিবার খুলে দেয়া হচ্ছে দ্বিতীয় মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সেতু দুটির উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন্ন ঈদে এ পথে যাত্রীদের ঈদ যাত্রা হবে ভোগান্তি মুক্ত। সেতু দুটি খুলে দেবার খবরে উচ্ছ্বাস জানিয়েছেন চালক ও যাত্রীরা।
ক্রমবর্ধমান যানবহনের চাপে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করার পর পুরাতন দুই লেনের সেতুর পাশে নতুন করে চার লেনের তিনটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার।
কাঁচপুর, মেঘনা আর গোমতী সেতুর পাশে নতুন এই সেতু তিনটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ৩ জানুয়ারি। নতুন সেতু নির্মাণ আর পুরাতন সেতুর পুনর্বাসন কাজ শেষ হবার কথা ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর নাগাদ। তবে নতুন সেতু তিনটির নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়েছে নির্ধারিত সময়ের আগেই আর পুরাতন সেতু পুনর্বাসন কাজও যথাসময়ে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার ও জাইকার অর্থায়নে এই সেতু তিনটি নির্মাণে খরচ হয় ৪৬৫০ কোটি টাকা। তার মধ্যে ৩৯৭.৩ মিটার দীর্ঘ কাঁচপুর সেতু নির্মাণে খরচ হয় ৯৫০ কোটি টাকা, ৯৩০ মিটার দীর্ঘ মেঘনা সেতু নির্মাণে খরচ হয় ১৭৫০ কোট টাকা আর ১৪১০ মিটার দীর্ঘ গোমতী সেতু নির্মাণে খরচ হয় ১৯৫০ কোটি টাকা। নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় ইতোমধ্যে ২০১৯ সালের ১৬ মার্চ যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয় ২য় কাঁচপুর সেতু আর এবার ২য় ধাপে আগামী ২৫ মে খুলে দেয়া হচ্ছে দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতী সেতু।
সেতু প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প ব্যবস্থাপক রফিউল ইসলাম জানান, সেতু দুটির নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ। শেষ মুহূর্তে বাতি, রং ও ডিভাইডার লাগানোর কাজ চলছে। আসন্ন ঈদে এ রুটে ঈদ যাত্রা যানজট মুক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরো বলেন, এই সেতুতে আগের মত প্রতিটি পিয়ারে এক্সপানশন জয়েন্ট না থাকায় সেতু অতিক্রমের সময় অন্যরকম অভিজ্ঞতা লাভ করবে যাত্রীরা। নতুন সেতুর চালু হবার পর শুরু হবে পুরাতন দুই লেন সেতুটির পুনর্বাসনের কাজ, আগামী ডিসেম্বর মাসে পুরাতন সেতুর পুনর্বাসন কাজ শেষ হলে মোট ছয় লেন সেতু ব্যবহার করা যাবে।
তিনটি সেতুর মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ৮৪৮৬ কোটি টাকা। প্রকল্পটির প্রকৌশলী শেখ জহির উদ্দিন মাহমুদ জানান, সেতু তিনটি নির্মাণে বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। উন্নত বিশ্বের এই প্রযুক্তি বাংলাদেশে একেবারেই নতুন। উচ্চ মাত্রার ভূমিকম্প সহ যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে এই সেতু টিকে থাকতে পারবে অন্তত ১০০ বছর।
তিনি আরো জানান, সেতু তিনটির উপরিভাগ নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে কন্টিনিউয়াস ন্যারো স্টিল বক্স গার্ডার এর উপর কন্টিনিউয়াস আর.সি.সি ডেক পদ্ধতি আর নিচের কাঠামোতে ব্যবহার করা হয়েছে, আর.সি.সি পিলার ও দুই প্রান্তে ইনভার্টেট টি-প্রকৃতির এবাটমেন্ট যা সেতুগুলোতে অধিক মজবুত করেছে।
এদিকে সেতু দুইটি খুলে দেবার খবরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে চালক ও যাত্রীরা। নির্ধারিত সময়ের আগে সেতু দুইটির কাজ সমাপ্ত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে ধন্যবাদ জানান তারা।
যাত্রীরা জানান, চার লেন মহাসড়কে দুই লেনের সেতু আর যানবাহনের অত্যাধিক চাপে গত প্রায় এক বছর মহাসড়কের যানজট প্রতিদিনকার চিত্র ছিল মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া আর কুমিল্লার দাউদকান্দি অংশে। যানজটে আটকে নাভিশ্বাস উঠতো যাত্রীদের আর নষ্ট হতো হাজারো কর্মঘণ্টা। সেতু দুটি খুলে দেয়ায় যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ লাগব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category