শুক্রবার, মে ১৫, ২০২০




যাকাত কারা, কাদেরকে এবং কখন দিবেন…

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে যাকাত অন্যতম৷ পালন করার স্বার্থে ইসলামের পাঁচটি ভিত্তিকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা যায়৷ প্রথম ভাগে তিনটি: ঈমান (কালেমা), নামাজ এবং রোজা আর দ্বিতীয় ভাগে দুটি: হজ্জ ও যাকাত৷ প্রথম ভাগের তিনটি বালেগ হবার পর থেকে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকল মুসলমানের জন্য পালন করা ফরজ৷ দ্বিতীয় ভাগের দুটি বিধান ঢালাওভাবে সকল মুসলমানের জন্য পালন করা ফরজ নয়; বরং কিছু শর্ত সাপেক্ষে পালন করা আবশ্যক তথা ফরজ৷ তবে ইসলামের এ সকল ভিত্তির উপর নির্দ্ধিধায় বিশ্বাস স্থাপন করা মুমিন হবার অন্যতম শর্ত৷ এগুলোর একটিকে অস্বীকার করলেও ঈমানদার হওয়া যাবে না৷

যাকাত কারা দিবেন:
যাকাত দাতার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে৷ এ সকল শর্তাধীন লোকদের উপর যাকাত ফরজ৷
শর্তগুলো হলো:
১৷ মুসলমান হওয়া,
২৷ স্বাধীন হওয়া,
৩৷ বালেগ বা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া,
৪৷ আকেল বা জ্ঞানী হওয়া,
৫৷ সাহিবে নিসাব তথা নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হওয়া (সাড়ে সাত তোলা স্বর্ণ অথবা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রূপা বা এর সমপরিমাণ সম্পদের মালিককে সাহিবে নিসাব বলে),
৬৷ নিসাব পরিমাণ মাল এক বছর পর্যন্ত মালিকানায় থাকা,
৭৷ ঋণমুক্ত হওয়া,
৮৷ সম্পদের উপর পূর্ণ মালিকানা থাকা৷
স্বর্ণ অথবা রূপার হিসাবের ক্ষেত্রে যেটা হিসাব করলে দরিদ্রদের উপকার হবে সেটাকে নিসাব ধরে যাকাত দেয়া উচিত৷ অর্থাৎ কারো নিকট ৭.৫০ তোলা স্বর্ণ নেই, কিন্তু যে পরিমাণ রয়েছে তা যদি ৫২.৫০ তোলা রূপার সমপরিমাণ হয়, তবে তার যাকাত দেয়া আবশ্যক৷

যাকাত কাদেরকে দিবেন:
যাকাত বণ্টনের খাত আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারীমে নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন৷ এর কোন রকম ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না৷ আট শ্রেণির লোককে যাকাত দেয়া যাবে৷ যথা:
১৷ ফকির তথা যার সামান্য সম্পদ রয়েছে, কিন্তু সেটা তার প্রয়োজন পূরণে যথেষ্ট নয়,
২৷ মিসকীন তথা যার কোন সম্পদ নেই,
৩৷ যাকাত আদায়ে নিয়োজিত কর্মচারী,
৪৷ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট ব্যক্তি তথা নও মুসলিম,
৫৷ ক্রীতদাস বা বন্দিমুক্তি
৬৷ ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি,
৭৷ আল্লাহর পথে (মুজাহিদ বা তালিবে ইলম , শিক্ষার্থী) এবং
৮৷ অসহায় মুসাফির ব্যক্তি৷

যাকাত কখন দিবেন:
নিসাব পরিমাণ সম্পদ এক বছর পর্যন্ত কারো মালিকানায় থাকলে তিনি বছরের নির্দিষ্ট সময়ে যাকাত দিবেন৷ কারো কাছে বছরের শুরুতে মাল ছিল, মাঝে ছিল না, কিন্তু বছরের শেষ ভাগে হস্তগত হয়েছে; তবে তাকেও যাকাত দিতে হবে৷ যাকাত প্রদানের ক্ষেত্রে আমরা রমজান মাসকে বেছে নিই৷ নিঃসন্দেহে এটি প্রশংসনীয় কাজ৷ হাদীসের আলোকে, এ মাসের একটি নফল কাজ অন্য মাসের ফরজের সমান আর এ মাসের একটি ফরজ অন্য মাসের সত্তরটি ফরজের সমান৷ সেই হিসেবে রমজান মাসে ফরজ যাকাত প্রদান করলে অন্য মাসের চেয়ে বেশি সওয়াবের আশা করা অমূলক নয়৷ আর এ বছর করোনা মহামারির কারণে যাকাত পাবার হকদারগণ আরো মুখিয়ে রয়েছেন, এতে সন্দেহ থাকার কথা নয়৷ তাই যাকাত দাতাদের জন্য যাকাত প্রদানের এখনই মোক্ষম সময়৷

স্মর্তব্য যে, যাকাত প্রবর্তনের উদ্দেশ্য হলো, ধনী-গরিবের মাঝে বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণ৷ তাছাড়া যাকাত দরিদ্রদের অধিকার, তাদের প্রতি অনুগ্রহ নয়৷ যাকাত দিলে দাতার সম্পদ পবিত্র হয় এবং বৃদ্ধি পায়৷ সুতরাং নিজেদের ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির লক্ষ্যে সম্পদের পূর্ণ হিসাব করে যথাযথভাবে যাকাত প্রদান করা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব৷

মো. জাফর আলী,
আরবি প্রভাষক,
রামপুর আদর্শ আলিম মাদরাসা, চাঁদপুর৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category