রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২০




মানুষ হতে পারিনি! 

দেশের সংকটময় সময়ে আমরা অবিচল চুরি বিদ্যায় মজবুত। মৃত্যুর মিছিলে অংশ গ্রহন করতে হবে সকলকেই। সামনে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতি অবলোকন করবো। কে বাঁচবে, কে মরবে, এটা মানুষ হিসাবে আমরা ভুলে গেছি হয়তো। মানুষ মরনশীল এটাও মিথ্যা না। তবে মনুষত্ববোধ বলতে আমাদের মগজে যে ধাবমান ছিলো তা উড়াল দিয়েছে অজানা কোনো প্রান্তরে। এখন আর ভয় নেই, ত্রান আসবে, অসহায়দের বাড়ি না পাঠিয়ে বিছানার নীচে মাটিতে পুঁতে ফেলে কিংবা খাটের তলায় তেল রাখার অভিনব ফন্দিটি অসহায়দের কান্নাকেও হার মানিয়েছে। লোপাটের দরজা খোলা আছে। ইচ্ছানুযায়ী যা ইচ্ছা তা করতে পারি, কারন পদবী রয়েছে।
আজকের সমাজ, আজকের অভাব অনটন, আজকের কলুষিত জীবন, আজকের অপকর্মের দালিল একদিন যে আমাদের পরিনতি ভোগ করতে হবে তা নিয়ে ত্রান চোরদের মাঝে কোনো ভারসাম্য নেই বললে ভুল হবে না। এ সব চোর কবরে যাবেনা, তাদের কোনো কৈফিয়ত বিধাতাকে দিতে হবে না, অসহায় মানুষের ত্রান লোপাট করে হয়তো পবিত্র মক্কায় গিয়ে হজ্ব করে দায়িত্ব ছাঁড় পেয়ে যাবেন। এরা হয়তো ভুলে গেছে অসহায়দের মুখের খাবার লোপাট করলে আল্লাহ তায়লা নারাজ হয়। ইউনিয়ন চেয়ারম্যন, মেম্বার বা ইউনিয়নের সরকার দলীয় নেতারা লুটপাট করার দৃশ্য অবলোকন করা হচ্ছে। ধরা পড়ছে, প্রতিনিধিত্ব হারাতে হচ্ছে, জেল খাটবে, জরিমানা দিবে। এটাতো লজ্জার বিষয় নয়, মানুষ হিসাবে জন্ম নেয়া এ সব মানুষ প্রতিনিধিত্ব পায় কিভাবে, তা বোধগম্য নহে।
ভালোকে ভালো বলতে হবে, আর খারাপ থেকে সাবধানতা অবলম্বন করা হবে আমাদের সমাজের একমাত্র কাজ। আমরা এমন একটি সময় পার করছি, যে সময়ে দেশের মানুষ ভয়ানক একটি আতংকে রয়েছে। নাম করোনা ভাইরাস। এ করোনা ভাইরাস একটি মহামারি রোগের লক্ষন। এ রোগ থেকে বাঁচতে আমাদের সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী। তিনি চাননি এ দেশে মহামারিতে হাজার হাজার কিংবা লাখো মানুষের মৃতের মিছিল। তিনি কলকারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন, অসহায় দরিদ্র মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন। বাড়ি বাড়ি প্রশাসনের মাধ্যমে খাদ্য বিতরন করেন। এমনকি ইউনিয়নের মেম্বার চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা করেন। যাতে এ সময়ে কোনো অসহায় নিপীড়িত মানুষ অভাবগ্রস্থ না হয়।
ধন্যবাদ জানাই এ সময়ের সকল চোরদের। তারা আর কোনো সুযোগ পাবেনা চুরি করার। সুযোগ যখন হাতের নাগালে তাহলে হাত ছাড়া করবো এমন বিদ্যা শেখা হয়নি। বিশেষ করে আজকের নিউজ পড়ে জানতে পারলাম, দেশের করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের চেয়ে লুটপাটকারীদের সংখ্যাই বেশি। আমরা কোন দেশে বসবাস করছি, কোথায় আমাদের মানবতা, কোথায় আমাদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব, কোথায় আমাদের আবেগ, কোথায় আমাদের পরেপকারী বাসনা। এটা এখন সংশয়ের বিষয় বলে আমরা বলতে পারি নির্ধিদায়। এখন আমাদের হুঁশ নেই, বেহুঁশ হয়ে রয়েছি মানবতাকে লংঘন করে।
প্রতিদিনই সরকারী চালের বস্তা লোপাট হচ্ছে। ডাল, তেল, খাদ্য সামগ্রী পুলিশ উদ্ধার করছে, এর পিছনে রয়েছে মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকরা। আজ জাতির বিবেক আছে বলেই সরকার এবং প্রশাসন সব জানতে পারছে প্রতিটি মুহুর্তে মুহুর্তে। আমি অত্যান্ত একজন সংবাদকর্মী হয়ে এ দেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, সে সাথে পুলিশ প্রশাসন ও মানবতার ফেরিওয়ালাদের। তারা এ দেশের সাফল্য অর্জনে ধাবমান হউক, এটাই কাম্য। অবশেষে লুটেরাদের কঠিন বিচার, দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি কামনা করছি। এ দেশের জনসাধারন যেনো প্রতিটি ইউনিয়ন কিংবা উপজেলা একজন সৎ প্রার্থী পায়, সে জন্য জনসাধারনকেই বেছে নেয়ার আহবান।
লেখকঃ এম. আর হারুন
সাংবাদিক, চাঁদপুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category