সোমবার, মে ১৮, ২০২০




মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল ক্বদর

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) সহ প্রমূখ সাহাবী থেকে বর্ণিত, পবিত্র কুরআনুল কারীম লাইলাতুল ক্বদরের রাতে লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানের বাইতুল ইয্যাহ নামক স্থানে একসাথে অবতীর্ণ হয়। সেখান থেকে প্রিয়নবী (স) এর নবুয়্যতি ২৩ বৎসর জিন্দেগীতে প্রয়োজনানুসারে ক্রমান্বয়ে অবতীর্ণ হয়েছে। (ইবনে কাসির)

তাই কালামে পাঁকে ইরশাদ হয়েছে, নিশ্চয়ই আমি উহাকে তথা কুরআনুল কারীমকে অবতীর্ণ করেছি ক্বদরের রাতে। (সূরা ক্বদর, আয়াত ১) এই সূরাতুল ক্বদরের শানে নুযূলের দিকে লক্ষ্য করলে উহার তাৎপর্য স্পষ্ট হয়ে যায়।

ইবনে জারির (র) হযরত মুজাহিদ (র) থেকে বর্ণনা করেন, বণী ইসরাঈলের এক লোক (কোন বর্ণনা মতে তাঁর নাম সামউন) তিনি সন্ধ্যা হতে সকাল পর্যন্ত আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত থাকতেন এবং সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত দ্বীন বা ধর্মের শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করতেন। এক হাজার মাস পর্যন্ত এভাবে কাটিয়ে দেন। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা এই সূরাটি অবতীর্ণ করে তাঁর পিয়ারা হাবীব (স)-এর উম্মতকে সুসংবাদ দেন যে, এই উম্মতের কোন ব্যক্তি যদি লাইলাতুল ক্বদরে ইবাদত করে তবে সে বণী ইসরাঈলের ঐ ইবাদতকারীর চেয়েও অধিক পূণ্য লাভ করবে। (ইনবে কাসির)

এ মর্মে সূরাটির অনুবাদ দেখে নেওয়া উচিৎ। আল্লাহ পাঁক বলেন,
(১)নিশ্চয়ই আমি উহাকে (কুরআনকে) নাযিল করেছি ক্বদরের রাতে।
(২) আর আপনি কি জানেন, ক্বদরের রাত কি?
(৩) ক্বদরের রাত হলো সহস্র মাস হতেও উত্তম।
(৪) সেই রাতে ফেরেস্তা রুহুল আমিন (জিবরাইল আঃ) সমভিব্যাহারে অবতরণ করেন; তাঁদের প্রভূ মহান আল্লাহর নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে সকল বিষয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে।
(৫) এ শান্তির ধারা চলতে থাকে উষার উদয় পর্যন্ত। (সূরা ক্বদর, ১-৫)
হাজার মাসের চেয়ে শ্রেয় রাতটি কোন তারিখে সংঘটিত হয় সে সম্পর্কে হাদিসের বর্ণনা হলোঃ হযরত উবাদা ইবনে সামিত (রাঃ) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (স) লাইলাতুল ক্বদরের সংবাদ দেওয়ার জন্য বের হয়ে দু’জন মুসলমানকে জগড়ায় লিপ্ত দেখতে পেলেন। তারপর তিনি বলেন, লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে খবর দেওয়ার জন্য আমি বের হয়েছিলাম। তোমাদের অমুক অমুক জগড়ায় লিপ্ত হলো (আমি তা প্রত্যক্ষ করছিলাম) আর তা আমা থেকে তুলে নেওয়া হলো। সম্ভবত এটাই তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক। এখন তোমরা শেষ দশকের বিজোড় রজনীতে (ক্বদর) তালাশ করো। (বুখারী)

উপরোক্ত হাদিস দ্বারা প্রতীয়মান হলো যে শুধুমাত্র ২৭ রমাদ্বানে ক্বদরের রাত মনে করাটা যথার্থ নয়। যদিও তাতে সম্ভাবনা বেশি। বরং শেষ দশকে বিজোড় রজনীগুলোতে ইবাদতের মাধ্যমে কাটিয়ে আল্লাহর অনুগ্রহ হাসিলের চেষ্টা করা উচিৎ।

এখানে আল্লাহ পাঁক দয়া করেই তাঁর পিয়ারা হাবীব (স)-এর স্মৃতি থেকে ক্বদরের নির্দিষ্ট রাতটি উঠিয়ে নিয়েছেন। সম্ভবত মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এমনটি চেয়েছেন যে, শেষ দশকের বিজোড় রজনী তথা ২১,২৩,২৫,২৭,২৯ রজনীসমুহে বান্দাগণ ইবাদতে লিপ্ত থাকবে আর মহান আল্লাহ প্রত্যেক রজনীতে একেকটি ক্বদরের সমান সওয়াব দ্বারা প্রিয় হাবীব (স)-এর উম্মতের আমলনামা পরিপূর্ণ করবেন। কারন হাদিসের শেষাংশে বলা হয়েছে সম্ভবত এটাই তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক। (এ ব্যাপারে আল্লাহ ই ভাল জানেন)।

মহানবী (স) আরো বলেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় এই রাত ইবাদতে কাটায় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেন।
(বুখারী ও মুসলিম)

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর জন্য লাইলাতুল ক্বদর এক বিরাট নিয়ামত যা তার হাবীব (স)-এর উসিলায় আল্লাহ দান করেছেন। আমাদের উচিৎ হবে শেষ দশকের বিজোড় রজনীসমুহে ইবাদতে মশগুল থেকে লাইলাতুল ক্বদর লুফে নেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করা।

মাওলানা আব্দুল্লাহ আল-মামুন, হেড মৌলভী, চরকালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মতলব উত্তর, চাঁদপুর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category