মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০২০




মতলব দক্ষিণে জেলে কার্ডধারীদের চাউল না পাওয়ার অভিযোগ

মতলব প্রতিনিধি: মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়নে নিবন্ধিত ৩শত ৫ জন জেলেদের মধ্যে ৭৯ জনের চাউল না পাওয়ার অভিযোগ করা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। অভিযোগে ইলিশ রক্ষার প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত ২০২০ সালের মার্চ মাসের চাউল
উল্লেখিত সংখ্যক জেলেকে না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জাটকা আহরণ নিষিদ্ধ সময়ে বিরত থাকা জেলেদের জন্য প্রতিমাসে ৪০ কেজি করে চাউল দেওয়া হয়। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে মার্চ মাসের জন্য মতলব দক্ষিণ উপজেলার নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়নে নিবন্ধিত ৩শত ৫ জন জেলে কার্ডধারীর বিপরীতে ২শত ২৬ জনের চাউল বরাদ্ধ আসে। আর এই বরাদ্দকৃত চাউল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মার্চ মাসের ১৭ তালিখের মধ্যে বিতরণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। সেই অনুসারে নায়েরগাঁও উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সেলিম ওনার ইউনিয়নে চাউল বিতরণ ১৬ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন করেন।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, ৩শত ৫ জন জেলের মধ্যে যারা মার্চ মাসের চাউল পায়নি সেই ৭৯ জনকে এপ্রিল মাসে বিতরণকৃত চাউলের সাথে দেওয়া হয়। কিন্তু ৭৯ জনকে শুধুমাত্র এপ্রিল মাসের চাউল ছাড়া মার্চ মাসের পাওনা চাউল না দিয়েই ইউপি চেয়ারম্যান জেলেদের ঠকিয়েছেন বলে জেলে কার্ডধারী মতিনসহ ১০ জন অভিযোগ করেন।

অভিযোগে তারা বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান তাদের মার্চ মাসের চাউল না দিয়ে শুধুমাত্র এপ্রিল মাসের চাউল দিয়েছেন। কিন্তু এপ্রিল মাসের চাউলের সাথে মার্চ মাসের ৪০ কেজি চাউল তাদের জন্য বরাদ্দ ছিলো। যা চেয়ারম্যান সাহেব তাদের না দিয়ে ঠকিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জানা যায়, মতিনসহ যে দশ ব্যক্তি মার্চ মাসের চাউল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তা সত্য নয়। ৩শত ৫ জনের বিপরীতে মার্চ মাসের বরাদ্দকৃত ২শত ২৬ জন জেলেদের মধ্যে অভিযোগকারী সকলেই চাউল পেয়েছেন এবং মাস্টালরোল কাগজে তাদের চিপসই রয়েছে। মার্চ মাসে যে ৭৯ জন চাউল পাননি তাদেরকে এপ্রিল মাসের চাউলের সাথে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। চাউল বিতরণের সময় ইউপি চেয়ারম্যান উপস্থিত থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্যদের সনাক্তকরণের ভিত্তিতে সকলকে চাউল দেওয়া হয়েছে। চাউল নেওয়ার সময় জেলে
কার্ডধারীদের পক্ষে অধিকাংশ সময়ে তাদের স্ত্রী বা সন্তানরা এসে চাউল নিয়ে যায়।

এদিকে মাস্টাররোল নথি অনুসারে অভিযোগকারী মতিন, জিতুমিয়া, ইদ্রিস, খোরশেদ, কাউছারের কাছে মার্চ মাসের চাউল নিয়েছেন বলে জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘আমরা
কোনো টিপসই দেই নাই, চাউলও পাই নাই, এই টিপসই ভুয়া। আমরা শুধুমাত্র এপ্রিল মাসের চাউল পাইছি।’

এই নিয়ে ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান মোল্লা বলেন, চেয়ারম্যান
সাহেব আমাদের দলীয় প্রতীক নিয়েই জয়ী হয়েছেন। আমরা চাই না ওনাকে কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করুক। তবে একথা সত্য যে, তিনি (চেয়ারম্যান) কিছু ত্রæটি করেছেন এবং আমার জানা
মতে জেলে কার্ডধারী মৃত ব্যক্তির নামেও চাউল দেওয়া হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সেলিম বলেন, চাউল বিতরণের সময় টেগ অফিসার ও ইউপি সদস্যদের উপস্থিতি ও সনাক্তাকরণের ভিত্তিতে জেলে কার্ডধারীদের সঠিকভাবেই চাউল দেওয়া হয়েছে। যারা ফেইজবুকে অপপ্রচার করে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করতে চাইছে তারাই মিথ্যা অভিযোগ করে বেড়াচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category