বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮, ২০১৯




মতলব উত্তর এখলাছপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরই বিক্রি হয়ে গেছে

শামসুজ্জামান ডলারঃ সরকারী নিয়মানুযায়ী আশ্রয়ন প্রকল্পের বসতঘর বিক্রির নিয়ম না থাকলেও বিক্রি হয়েগেছে মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের অধিকাংশ ঘর। কিন্তু প্রশাসনিক কোন নজরদারী না থাকার কারনেই এমনটা সম্ভব হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

উপজেলার এখলাছপুর লঞ্চঘাট সংলগ্ন এখলাছপুর আশ্রয়ন প্রকল্পটি নির্মিত হয় ২০০১সালে। এখলাছপুর মৌজার ০.৬৫ একর জমির মধ্যে ১৩টি ব্যারাকে বসতী পরিবার সংখ্যা বা ছোট ঘর সংখ্যা ১৩০টি। ঘরগুলো যাদের নামে বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে তাদের অধিকাংশরাই বসতী ঘরটি বিক্রি করে চলে গেছে অন্যত্র।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কোন কোন ঘর বিক্রির মাধ্যমে একাধিক হাতবদল হয়েগেছে। কোন ক্ষেত্রে মৌখিক বিক্রির মাধ্যমে দখল বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। কেউ কেউ আবার দখল বুঝিয়ে দেয়ার পাশাপাশি লিখিত চুক্তিনামা করে হস্তান্তর করেছে।

অনুসন্ধানে গিয়ে আরো দেখা গেছে, এখলাছপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের ৮ ও ৯ নম্বর ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন মধ্যবয়সী জোসনা বেগম। কথাহলে তিনি জানান, মফিজ ও রফিক ছিলেন এই ঘর দু’টিতে। তাদের কাছ থেকে তিনি ১লক্ষ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘরদুটি ক্রয় করলে তারা ঘরদুটির দখল বুঝিয়ে দেন। ৫নম্বর ঘরটিতে ছিলেন হালান্না তার কাছ থেকে ৫৫হাজার টাকার বিনিময়ে ক্রয় করে দখল বুঝেনেন রানু বেগম। ৪২নম্বর ঘরটি গিয়াস উদ্দিনের কাছ থেকে ৪০হাজার টাকার বিনিময়ে দখল বুঝেনেন সেলিম প্রধান। ৬নম্বর ঘরটি বাবর আলী প্রধানিয়ার কাছ থেকে ২৮হাজার টাকার বিনিময়ে দখল বুঝেনেন বাবর প্রধান। ২৬নম্বর ঘরটি রবি মোল্লার কাছ থেকে ২০হাজার টাকার বিনিময়ে দখল বুঝেনেন মাজেদা বেগম। ৩৮নম্বর ঘরটি সালাউদ্দিন খা’র কাছ থেকে ১৮হাজার টাকার বিনিময়ে দখল বুঝেনেন আসমা বেগম। ৩৯নম্বর ঘরটি জুলহাস প্রধানের কাছথেকে ১৮হাজার টাকার বিনিময়ে দখল বুঝেনেন নয়ন তারা।

এছাড়াও ২নম্বর ঘরটি মনির প্রধানিয়ার কাছ থেকে নগদ টাকার বিনিময়ে দখল বুঝেনেন জাফর ছৈয়াল, ৩৩নম্বর ঘরটি জোসনার কাছ থেকে নগদ টাকার বিনিময়ে দখল বুঝেনেন আবুল কালাম প্রধান, ১০ ও ১১ নম্বর ঘরটি শফিক ও সোহাগের কাছ থেকে নগদ টাকার বিনিময়ে দখল বুঝেনেন আঃ সাত্তর, ৬০নম্বর ঘরটি নরহরির কাছ থেকে নগদ টাকার বিনিময়ে দখল বুঝেনেন সঞ্জিত। এই আশ্রয়ন প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরের বসতীদের সাথে কথাবলে ঘরগুলো যে বেচা-কিনি হয়েগেছে তার প্রমান পাওয়া যায়।

প্রশাসনিক তদারকি না থাকায় এই আশ্রয়ন প্রকল্পে জুয়া ও মাদক বানিজ্যসহ বিভিন্ন অনৈতিক কার্যকলাপ হয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বিক্রি করে আসা এমন দুজনের সাথে কথাহলে তারা জানায়, ঘর আমাগো নামে বরাদ্ধ পাইতেও ৫/৬হাজার টাকা ঘুষ দিতে হইছে। টাকা দেওয়ার পরে আমরা দখল বুইজা পাইছি হেরও অনেক পরে আমগো নামে দলিল হইছে। পরিবার লইয়া ঢাকা আইয়া পড়ছি, অহন এনই কাম কইরাখাই। আশ্রয়নের ঘর রাইখা লাভ কি হেলিগাই বেইচা দিছি।

এ ব্যাপারে কথাহলে স্থানীয় এখলাছপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন মুরাদ এখলাছপুর আশ্রয়ন প্রকল্পের অধিকাংশ ঘরগুলো বিক্রি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন বলে জানান।

উপজেলা আশ্রয়ন প্রকল্পের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার জানান, এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category