বুধবার, জানুয়ারি ১৬, ২০১৯




মতলব উত্তরে ধর্মের বোন পাতিয়ে অভিনব কায়দায় তরুণীকে অপহরণ চেষ্টা

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ ধর্মের বোন সম্পর্ক তৈরী করে এক পর্যায়ে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার বাহানায় চেতনানাশক ঔষধ সেবন করিয়ে এক তরুনীকে অপহরণের চেষ্টা করে মতলব উত্তর উপজেলার ব্রাহ্মণচক গ্রামের আবুল কালাম প্রধান ও রহিমা বেগমের ছেলে আল-আমিন। এ ব্যপারে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সোনারগাঁ থানার একটি সূত্র।

মতলব উত্তর উপজেলার ব্রাহ্মণচক গ্রামের জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী গ্রাম নিশ্চিন্তপুর বাজারের প্লাষ্টিক ব্যবসায়ী লিটন প্রধানের মেয়ে সামিয়া আক্তারকে ধর্মের বোন বানিয়ে পারিবারিক সম্পর্ক তৈরী করে ব্রাহ্মণচক গ্রামের আবুল কালামের ছেলে আল-আমিন। দীর্ঘ ৬ মাসের পারিবারিক অভিনব সম্পর্কের কৌশল কাজে লাগিয়ে গত বুধবার সামিয়াকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রাম থেকে চেতনানাশক ঔষধ সেবন করিয়ে অচেতন করে ঢাকায় নিয়ে আসে প্রতারক আল-আমিন।

জানা যায়, সামিয়া দীর্ঘদিন যাবত নারায়ণগঞ্জ এর সোনারগাঁ এলাকার একটি কলেজে পড়াশুনা করছেন এবং একই এলাকায় বসবাস করছেন। এ ব্যপারে ভিকটিম সামিয়ার বাবা লিটন প্রধানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি টুডে টাইমস কে বলেন, সোনারগাঁ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি, তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য মতি মেম্বার সহ কয়েকজন বিষয়টি মিমাংসা করার কথা জানিয়ে থানায় দায়ের করা অভিযোগের ব্যপারে চুপ থাকতে বলেছেন।

মতলব উত্তরে ঘটে যাওয়া ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন কেন? এমন পশ্নের জবাবে তিনি কোন কথা বলেননি। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় একই এলাকার রফিকের ছেলে এস আই আরিফ এর সহযোগীতায় সোনারগাঁ থানায় অভিযোগটি দায়ের করা হয়।

এ ব্যপারে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে কর্মরত এস আই আরিফ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি, ভিকটিমের পরিবার সোনারগাঁ থানায় অভিযোগ করতে গেলে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যকে আমি সহযোগিতা করার অনুরোধ করি। ব্রাহ্মণচক গ্রামের ইউপি সদস্য দুলাল টুডে টামসকে বলেন, ঘটনা পুরোপুরি সত্য বলে আমি জেনেছি, ভিকটিম সামিয়া এই মুহুর্তে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছে।

ঘটনার ব্যপারে তথ্য সংগ্রহ করতে ও সোনারগাঁ থানায় দায়েরকৃত অভিযোগের ব্যপারে জানতে ওসি মোর্শেদ আলমকে তার ব্যবহৃত সরকারি মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন কল ও এসএমএস করেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, তাকে সাংবাদিকরা যে কোন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করার উদ্দেশ্যে ফোন করলে তিনি সচরাচর ফোন রিসিভ করেননা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category