শুক্রবার, আগস্ট ২৩, ২০১৯




মতলব উত্তরে চারা গাছ বিক্রির হাট জমজমাট

মোল্লা হাবিবুর রহমানঃ চলতি বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্রকরে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় জমে উঠেছে চারা গাছ কেনা-বেচার হাট। এখানে বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। উপজেলার বেশীরভাগ অংশ জুড়ে সেচ প্রকল্পের বেড়িবাঁধ থাকার কারনে এখানে বর্ষার পানি উঠেনা তাই এখানে গাছের চারা লাগানো খুবই সহজ।

১পৌরসভা ও ১৪ইউনিয়নের মতলব উত্তর উপজেলায় ছোট বড় ৪৩টির মতো বাজার রয়েছে যার প্রতিটিতেই ফলজ,বনজ, ওষুধি ও ফুল গাছের চারা বিক্রি হয়ে থাকে। বিভিন্ন বাজারের আবার হাটের বিভিন্ন দিন নির্দিষ্ট করা আছে। এসকল বাজারে বিদেশি প্রজাতির আকাশমনি, আকাশিয়া ক্রস, ইউক্যালিপটার্স, বেলজিয়াম, মেহগনি এ ধরণের চারার সংখ্যাই বেশী। এগুলোর সাথে সাথে দেশি জাতের আম, জাম, কাঁঠাল, লেবু, পেয়ারা, জলপাই, পেঁপে এবং নিম ও আগরসহ কিছু কিছু ওষুধি গাছের চারা রয়েছে। তবে অল্প সময়ে বেড়ে উঠে বলে এখন সর্বত্র আকাশমনি, বেলজিয়াম জাতীয় গাছের চাহিদা থাকার কারণে অধিকহারে এসব গাছের চারাই বেশী বিক্রি হচ্ছে।

উপজেলার হাট বাজারগুলোতে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষরা বিভিন্ন জাতের চারা গাছ কেনার জন্য হাটে আসেন। সকাল ১২ টার পর থেকেই চারা গাছ বিক্রির তোড়জোড় শুরু হয়ে থাকে। শেষ বিকেলের আগেই আগত ক্রেতা সাধারণ তাদের পছন্দের ও সখের গাছ কিনে বাড়ি ফিরে যান। আকাশমনি, আকাশিয়া ক্রস, ইউক্যালিপটার্স, বেলজিয়াম, মেহগনিসহ অন্যান্য বনজ গাছের চারা ১৮/২০ টাকা দরে বিক্রি হলেও ফলদ গাছের চারা বিক্রি হচ্ছে ৫০/১০০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা দরে। তবে এ বছর চারা গাছের দাম অন্য বছরের তুলনায় বেশি। স্থানীয় নার্সারীর মালিকরা তাদের উৎপাদিত চারা গাছ হাটে বেচাকেনা করছে। এ ছাড়া বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠিসহ অন্যান্য জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা নৌকায় করে বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ এনে এ উপজেরার বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করছে। তবে, এ উপজেলায় প্রচুর সংখ্যক নার্সারী রয়েছে এবং নার্সারীগুলো মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পের ভিতরে থাকায় চারা উৎপাদনে চাষীদের কোন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়না।

স্থানীয় আনন্দ বাজারের চারা ব্যবসায়ী আলী আজগর জানায়, সে সপ্তাহে মঙ্গলবার আর বৃহস্পতিবার আনন্দ বাজার এবং বুধবার আর শনিবার আমিরাবাদ বাজারে চারা বিক্রি করে। প্রচুর সংখ্যক ক্রেতা আছে বেচাবিক্রি ভাল।

আমিরাবাদ বাজার, এখলাছপুর বাজার, মোহনপুর বাজার ও চরকাশিম মুরাদ মিয়ার বাজারে চরাঞ্চলের ক্রেতারা বেশী আসে। তাই এসকল বাজারের কয়েকজন চারা ব্যবসায়ীর সাথে কথা হলে তারা জানায়, মতলবের চরাঞ্চলের লোকজন বনজ জাতের চারা গাছ লাগানো ব্যপারে খুবই উৎসাহী। তাই তারা এবার বনজ গাছের চারাই বেশী লাগাচ্ছে।

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চারা গাছ ব্যবসায়ী অলী ব্যপারী ও ফজলে আলীর সাথে আলাপকালে তারা জানান, প্রতি বর্ষা বছর বর্ষা মৌসুমের সময় নৌকায় করে বিভিন্ন প্রজাতির চারা গাছ বিক্রির জন্য তারা মতলব উত্তর উপজেলার নদী তীরবর্তী বাজারগুলোতে আসেন। এখানে চারা গাছ কেনাবেচা বেশ ভালো।

মতলব উত্তর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাউদ্দিন জানান, জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে বনজ সম্পদের পরিমান দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। এজন্য বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। পরিবেশ বান্ধব গাছ থেকে আমরা অক্সিজেন এবং ফল থেকে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি পেয়ে থাকি। রাস্তার পাশে ও বাড়ীর আঙ্গিনায় বনজ, ফলজ ও ওষুদী গাছের চারা লাগানো ভাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category