শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৯




মতলব উত্তরে এসএসসিতে এবারও অতিরিক্ত কেন্দ্র ফি উত্তোলন, অভিভাবকদের ক্ষোভ

শামসুজ্জামান ডলারঃ চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় বরাবরের মতো এবারও এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ফি অতিরিক্ত হারে উত্তোলন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ প্রকাশ করলেও কে শুনে কার কথা। উপজেলা প্রশাসন কিংবা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে বক্তব্য জানতে চাইলে বরাবরের মতো লিখিত অভিযোগ আসলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলে জানানো পর্যন্তই। গত কয়েক বছর যাবৎ এরকম বক্তব্য লিখে আসলেও কোন রকমের ব্যাবস্থা না নেয়ার কারনে অনিয়মটা এখানে নিয়মে পরিনত হয়েগেছে।

মতলব উত্তর উপজেলা এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৫হাজার ১৬৮জন পরীক্ষার্থী এবং কেন্দ্র রয়েছে ৮টি। এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র ফি সরকার নির্ধারিত বিভাগানুযায়ী ২৫০ থেকে ৩০০টাকা হলেও এ উপজেলার মাধ্যমিক স্তরের ৫১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেউই তা মানছেনা। সকলেই অতিরিক্ত হারে কেন্দ্র ফি উত্তোলন করেছে। এমন কি সরকার নির্ধারিত কেন্দ্র ফি কত উপজেরা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সে বিষয়টিই জানেন না। মুঠোফোনে কথা হলে তিনি একবার বলছেন ৩০০ একবার বলছেন ৩৫০টাকা। উল্লেখ্য, মতলব উত্তর উপজেলায় ব্যবহারীক পরীক্ষার ফি কেন্দ্র ফি’র সাথে উত্তোলন করা হয়না, ব্যবহারীর পরীক্ষার সময়ই এ ফি উত্তোলন করা হয়ে থাকে তাও অতিরিক্ত হারে।

উপজেলায় এসএসসি ও সমমানের কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিবের সাথে মুঠোফোনে কথাহলে তারা অপকটেই অতিরিক্ত হারে কেন্দ্র ফি উত্তোলনের কথা অবলিলায় স্বীকার করেন। তাদের বক্তব্য মতে, জমিলাখাতুন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, বাগানবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, সুজাতপুর নেছারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, দশানী-মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়, নাউরী আহম্মদীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬০০টাকা হারে কেন্দ্র ফি উত্তোলনের কথা স্বীকার করেন। এই কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৩হাজার ৬৯জন। নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষর্থী সংখ্যা ৪৬২জন এবং এ কেন্দ্রে ফি উত্তোলনের হার ৬৫০টাকা। ফরাজীকান্দি কামিল মাদ্রাসা পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ৩৬২জন ফি উত্তোলিত হয়েছে ৭০০টাকা হারে। এ উপজেলার একমাত্র সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ছেংগারচর সরকারী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ১হাজার ৫৫জন এবং এখানে কেন্দ্র ফি উত্তোলিত হয়েছে ৫০০টাকা হারে। এ হারে স্বীকার করলেও কোন কোন কেন্দ্রে এর চেয়ে অধিক হারে কেন্দ্র ফি উত্তোলনের খবর রয়েছে।

উপজেলায় এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া কয়েজন পরীক্ষার্থীর অভিভাবক অতিরিক্ত কেন্দ্র ফি নেয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলেও তারা লিখিতভাবে অভিযোগ করতে নারাজ। তাদের মধ্যে ভয় কাজ করছে স্যারেরা বিষয়টি জানতে পারলে তার সন্তানের পরীক্ষায় ক্ষতি হবে।

অতিরিক্ত কেন্দ্র ফি’র বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল কাইয়ূম খানের সাথে কথা হলে তাঁদের বক্তব্যে একটা মিল পাওয়া যায়, তাঁরা জানান এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category