বুধবার, জানুয়ারি ২৯, ২০২০




মতলবে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ বানিজ্য

মতলব প্রতিনিধি: এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষা উপলক্ষে মতলব দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলছে অর্থ বানিজ্য। ফরম পূরণ, কোচিং ফি, প্রবেশপত্র এবং নির্বাচনী পরীক্ষায় এক/দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করা নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও ম্যানেজিং কমিটির যোগসাজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে মোটা অংকের টাকা।

জানা যায়, ২০২০ সনের এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের জন্য কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ১৯শত ৭০ টাকা এবং মানবিক ও বানিজ্য বিভাগের জন্য ১৮শত ৫০ টাকা নির্ধারণ করে। সেই সাথে নির্বাচনী পরীক্ষায় এক বা
একাধিক বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ না করার বিষয়ে সতর্কতাজারি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। শিক্ষা বোর্ডের এই নির্দেশনা মেনে না নিয়ে উপজেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে
আদায় করেছে মোটা অংকের টাকা। এছাড়া কোচিং করানোর কথা বলে টাকা আদায় করে কোনো কোচিং না করিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বোয়ালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫৪ জন এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোচিং ও ছাত্রবাসে থাকাসহ (খাবার খরচ ছাড়া) জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে আদায় করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সেই সাথে ফরম পূরণে ২১শত টাকা, প্রবেশপত্র সংগ্রহের জন্য ৫শত টাকা এবং মিলাদের জন্য ২শত টাকা করে আদায় করা হয় প্রতিটি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। এদিকে
এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ১৫দিন কোচিং করানো পর তা বন্ধ করে দিয়ে পুরো টাকাই আদায় করে নেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

অপরদিকে হযরত শাহজালাল উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি ফমর পূরণে ২১শত থেকে ২২শত টাকা, নিয়মিত ও অনিয়মিত মোট ১শত ৬১ জন পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে
কোচিং ফি বাবাদ ২ হাজার টাকা, প্রবেশপত্র বাবাদ ৫শত টাকা এবং মিলাদের জন্য ২০০ টাকা করে আদায় করে। এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক উজ্বল মিয়া ক্ষোভ
প্রকাশ করে বলেন, আমার সন্তানের পরীক্ষার জন্য বিভিন্ন অজুহাতে তারা ৪৯শত টাকা নিয়েছে।

এছাড়া নায়েরগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়, নারায়নপুর পপুলার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, লামছরী উচ্চ বিদ্যালয়, কাশিমপুর পূরন উচ্চ বিদ্যালয়, পয়ালী কেবিএম উচ্চ বিদ্যালয়,
ধলাইতলী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির যোগসাজে শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণে কোথাও ২২শত থেকে ৩ হাজার টাকা, কোচিং বাবাদ ১৫শত টাকা এবং প্রবেশপত্র বিতরণে ৫শত থেকে ৭শত টাকা আদায় করেছে।

এদিকে দাখিল পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকেও আদায় করা হয়েছে অতিরিক্ত টাকা। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা না মেনে ফরম পূরণে ২ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। সেই সাথে কোচিং ফি বাবদ ১ হাজার থেকে ১৫শত টাকা এবং প্রবেশপত্র ফি বাবাদ ৭শত থেকে ১ হাজার আদায় করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলার কালিয়াইশ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, মতলব দারুল উলুম ফাজিল মাদ্রাসা, কাচিয়ারা জামালিয়া আলিম মাদ্রাসা, পূর্ব ধলাইতলী এজেআইডি মাদ্রাসা, কালিকাপুর আর্দশ দাখিল মাদ্রাসা,
ঘোড়াধানী ইসলামিয়া এবং দিঘলদী ইসলামিয়া মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে এসব টাকা আদায় করা হয়েছে এবং প্রবেশপত্রের জন্য টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছেন তারা।

দাখিল পরীক্ষার প্রবেশপত্র বিতরণে বিষয়ে পূর্ব ধলাইতলী এজেআইডি মাদ্রাসা সুপার মাওলানা জয়নাল বলেন,আমাদের মতলব মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র
সচিব আলাউদ্দিন মিয়া ৭শত টাকা করে আদায় করতে বলে দিয়েছেন বলেই আমরা নিচ্ছি।

এই নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুর রহিম খান বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেএসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় কোন কাজে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কোন সুযোগ নেই। কোনো অনয়িমের বিষয় নজরে
আসলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category