মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৩, ২০১৯




মতলবের বিজয় ভাস্কর ‘দীপ্ত বাংলা’ সারা বছর অবহেলায়, দিবস এলেই ঝকঝকে

মতলব প্রতিনিধিঃ মহান মুক্তিযোদ্ধে শহিদদের স্মৃতি ও গৌরব গাঁথা ইতহাস মতলবের ‘দীপ্ত বাংলা’ সারা বছর থাকে অবহেলায়। শুধুমাত্র মতলব মুক্ত দিবস, বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে ঝকঝকে হয়ে ওঠে এই বিজয় ভাস্কর। ভাস্করটির সীমানা প্রাচীর ও সঠিক রক্ষণা বেক্ষণ না থাকায় সন্ধ্যার পর বাড়ে বখাটে যুবকদের আড্ডা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীপ্ত বাংলার মূল বেদিতে পায়ে জুতা নিয়ে স্থানীয়রা উঠে পড়েন, যেভাবে ইচ্ছা ঘুরে বেড়ান, সেলফি তোলেন। এছাড়া বছর জুড়েই দীপ্ত বাংলার চারপাশে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকে। পাদদেশে বসে অনেকে প্রকাশ্যে ধূমপান করে, বাদামের খোসাসহ নানা ধরনের খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলা হয়। সেই সাথে এটি যেন গো-চরণ ভূমি। দিনে বা রাতে দীপ্ত বাংলায় রাত যাপন করছে ভবঘুরেরা, কিন্তু এসব অব্যবস্থাপনা ও অবহেলা রোধে তেমন কোনও কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেয় না উপজেলা প্রশাসন।
এদিকে মতলবের বিজয় ভাস্কর দীপ্ত বাংলার ম্যুরালে ঐত্যিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের শেষ অংশ, একুশে ফেব্রুয়ারির গান থাকার কথা থাকলেও তা নেই।

তথ্য সূত্র বলছে, ১৯৯৬ সালে মতলবে অনুষ্ঠিত বিজয় মেলায় মতলববাসীর মুখে একটি দাবি উচ্চারিত হয়। সেটি হলো মতলবে একটি বিজয় ভাস্কর নির্মাণ। যার প্রেক্ষিতে ১৯৯৭ সালের ২রা নভেম্বর বাংলাদেশের তিন গুণীব্যক্তিত্ব শিল্পী হাসেম খান, সদ্য প্রয়াত স্থপতি রবিউল হোসাইন ও ইতিহাসবিদ ড. মুনতাসির মামুন মতলবে এসে সম্ভাব্য স্থানগুলো পরীক্ষা করে এর ডিজাইন তৈরি করেন। অবশেষে ১৯৯৭ সালের ৪ ডিসেম্বর দীপ্ত বাংলার ভিত্তি প্রস্তর করেন তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী ও বিজয় স্তম্ভ বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম। বিজয় ভাস্করটির নির্মাণ কাজ শেষে ১৯৯৯ সালে মতলব মুক্ত দিবসে শুভ উদ্বোধন তৎকালীন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category