শনিবার, নভেম্বর ১০, ২০১৮




ভোটে আসার ঘোষণা অপেক্ষায় রাখল বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট: দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করলেও ভোটে আসার ব্যাপারে এবার মত জোরাল বিএনপিতে। তবে তারা একক সিদ্ধান্ত নিতে চান না। ২০ দলীয় জোটের শরিক এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকদের মতও নিতে চায়।

ওদিকে খবর হচ্ছে ভোটে আসতে ঐক্যফ্রন্টেরও আপত্তি নেই। তবে তারা ভোটে আসার ক্ষেত্রে কিছু সুযোগ-সুবিধা বা হয়রানি না করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায়।

বিএনপির শরিক দল এলডিপি নেতা অলি আহমেদ জানিয়েছেন, আরও একটি দিন অপেক্ষা করতে হবে এই সিদ্ধান্ত জানাতে।

আবার ঐক্যফ্রন্ট গঠনে মধ্যস্থতাকারী গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিশ্চয় নির্বাচন করবে। আমরা নির্বাচনমুখী দল, আমরা নির্বাচন করতে চাই। তবে সরকার ‘ফাইজলামো’ করলে নির্বাচন করব কীভাবে?’

নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারসহ নানা দাবিতে সরকারকে চাপ দিতে ২০ দলীয় জোটের পাশাপাশি শক্তি বৃদ্ধি করতে এবার বিএনপি গঠন করেছে নতুন জোট। ১৩ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করা জোটের নাম রাখা হয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

এই ফ্রন্ট গঠনের পর দাবি না মানলে আন্দোলনের হুমকি ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে মানা হয়নি জোটের প্রধান দাবি, আবার তাদের আপত্তিতেও পেছানো হয়নি তফসিল। কিন্তু ঘোষিত আন্দোলনের পথে যায়নি ফ্রন্ট।

বরং তফসিল ঘোষণার পর দুইবার নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে নির্বাচনে আসার বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আর গতকাল সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আবার কেন্দ্রীয় নেতারা বসেন বৈঠকে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, জমিরউদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, রফিকুল ইসলাম মিয়া, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ।

এই বৈঠকের পর বিএনপি নেতারা বসেন জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল হালিম, এলডিপি নেতা অলি আহমদ, খেলাফত মজলিস নেতা মোহাম্মদ ইসহাক, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মাদ ইবরাহিম, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থসহ ২০ দলীয় জোটের শরিক দলের নেতারা।

বৈঠক শেষে অলি আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়ে বলেন, ‘সারাদেশে যেভাবে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে তাতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হয়নি। তবে দুই দিনের মধ্যে আমরা নির্বাচনে যাব কি যাব না, এই বিষয়টি সুস্পষ্ট করে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।’

এরপর একই কার্যালয়ে বৈঠক শুরু হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। অংশ নেন আ স ম আবদুর রব, ….

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির এবং তার শরিকদের অবস্থান এবার যে নমনীয় সেটা স্পষ্ট। ২০১৩ সালে তফসিল ঘোষণার পর তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হয় ভাঙচুর, যানবাহনে হামলা। ডাকা হয় ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ, পরে যা ঠেকে ৭২ ঘণ্টায়। আর এই তিন দিনে প্রাণ হারায় ২১ জন।

এবার তফসিল ঘোষণার পর নেতারা নমনীয় কণ্ঠে বলছেন, এটা পিছিয়ে দিলে কিছু এমন ক্ষতি হতো না।

ঐক্যফ্রন্ট কী ভাবছে-জানতে যোগাযোগ করা হয় জাফরুল্লাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সরকার চায় না কি আমরা নির্বাচন করি? তাদেরই আগে মনঃস্থির করতে হবে। সারাদেশ আমাদের পক্ষে, গতকালের রাজশাহীতে জনসভায় লক্ষ লোক তার প্রমাণ। আগে সরকারকে ফয়সালা করতে হবে, আমাদের নির্বাচন করতে দেবে কি না? আর যদি আমাদের নির্বাচন করতে না দেয়, তবে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে। তবে আমরা ভোটে যেতে চাই।’

ঐক্যফ্রন্ট ভোটে এলে আসন বণ্টন কীভাবে হবে? এমন প্রশ্নে জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আমরা নির্বাচনে যাওয়ার আগে সব কিছু ফয়সালা করতে হবে। তখন আসন বণ্টন নিয়ে সবার সঙ্গে বসে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। এখনো আসন বণ্টন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয় নাই।’

ফ্রন্টের শরিক গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘আমরা এই তফসিলে নির্বাচনে যাব কি না, গেলেও কাদের মনোনয়ন দেয়া হবে সেটা নিয়ে আমরা বসব, আমরা আলোচনা করে ঠিক করব।’

ফ্রন্টের আরেক নেতা সুলতান মোহম্মদ মনসুর আহমেদ অবশ্য কিছু বলতে চাননি। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নাই। ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেবের বক্তব্যই আমার বক্তব্য। এর বাইরে আর কোনো কথা নাই।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category