সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০




ভাষা আন্দোলনে অনন্য ভূমিকা রাখেন মতলবের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম

শামসুজ্জামান ডলারঃ মতলবের ৪ ভাষা সৈনিকদের মধ্যে অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম অন্যতম। ভাষা সৈনিক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম ১ জানুয়ারি ১৯৩৪ সালে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ীতে জন্মগ্রহন করেন। তিনি একজন বাংলাদেশি লেখক এবং দেশের প্রথম নজরুল গবেষক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রথম নজরুল অধ্যাপক ও অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নজরুল-গবেষণা কেন্দ্রের প্রথম পরিচালক।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে লেখাপড়া করেন। ভাষাতত্ত্বে উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন ও গবেষণা সম্পাদনা করেন আমেরিকার কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়, মিশিগান-অ্যান আরবর বিশ্ববিদ্যালয় এবং হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইস্ট ওয়েস্ট সেন্টারে।

১৯৫৮ সাল থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা ও নজরুল গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন।

তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বন্দীশিবিরে নির্যাতিত হন।

বর্তমানে আমরা ভাষা আন্দোলনের যে আলোকচিত্র বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় দেখি তার অধিকাংশই তুলেছেন ড. রফিকুল ইসলাম৷ সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তিনি। ভাষা শহীদ আবুল বরকতকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে আনতে তিনিই সহায়তা করেছিলেন।

মুঠোফোনে কথাহলে তিনি বলেন, বরকতকে যখন মেডিকেল কলেজের জরুরী বিভাগে নিয়ে যাই, তখন দেখি অসংখ্য বুুলেটবিদ্ধ, তাদের মধ্যে কে মৃত কে জীবিত বোঝা কঠিন ছিল৷ আবুল বরকত সেদিন রাতেই অপারেশন থিয়েটারে মারা যায়৷দেশভাগের পর ভাষা আন্দোলনের শুরুটা শিক্ষার্থীরা করলেও ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী সেই আন্দোলনে যোগ দেয় আপামর জনতা৷

ঢাকায় ছাত্রদের উপর যখন পুলিশ গুলি ছোঁড়ে, তখন মেডিকেল কলেজের আশপাশ দিয়ে এগিয়ে আসে সাধারণ মানুষ৷ সামিল হয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে৷ সেদিন পুলিশের গুলিতে নিহতদের মধ্যে সাধারণ জনতাও ছিল৷ একুশে ফেব্রুয়ারী ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার ঘন্টাখানেকের মধ্যেই সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়৷

সেসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ থেকে জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল মারতে শুরু করে৷ কাজেই ২১ তারিখে যখন থেকেই ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা হয়, ভঙ্গকারীদের উপর পুলিশ যখন লাঠি, টিয়ার গ্যাস ছুঁড়তে শুরু করে, তখনই সাধারণ জনতা এই আন্দোলনে শরীক হয়৷

সাহিত্য চর্চা ও গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও অসাধারণ অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলাদেশের “সর্বোচ্য বেসামরিক পুরস্কার” হিসাবে পরিচিত “স্বাধীনতা পুরস্কার” প্রদান করা হয় তাকে। এছাড়াও তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং নজরুল একাডেমি পুরস্কার লাভ করেছেন। ২০১৮ সালের ১৯ জুন বাংলাদেশ সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে পুরুস্কৃত করে। ২০০৩ সালে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ বছর’ বই লিখে লেখক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পান।
ব্যাক্তি জীবনে তিনি ১ পুত্র ও ১ কন্যা সন্তানের জনক। পুত্রের নাম বর্ষন আর কন্যার নাম মেঘলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category