শুক্রবার, এপ্রিল ৫, ২০১৯




বিতর্কের এই আন্দোলন যেনো কোনোদিন থেমে না যায়——— আব্দুল্লাহ আল নোমান

স্টাফ রিপোর্টার:  আল নোমান সাবেক চ্যাম্পিয়ন বিতার্কিক। বর্তমানে বিতর্কের নিষ্ঠাবান দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক। কর্মরত আছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল বাবুরহাট শাখায়।

গণিতের ছাত্র হলেও বিতর্কের ব্যাকরণ তথা কলাকৌশল ভালোই বুঝেন। তার বিদ্যালয়টি পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্কের এবারকার একাদশ আসরে প্রাথমিক পর্যায়ে যোগদান করেই সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ‘বিতর্কায়নে’র মুখোমুখি হয়ে তিনি বিতর্ক নিয়ে তার যুদ্ধ ও স্বপ্নের কথা বলেছেন। নিম্নে হুবহু তা তুলে ধরা হলো-

বিতর্কায়ন : বিতর্কের জন্যে আপনার দলকে নিয়ে এতোটা পথ পাড়ি দিয়ে কি আপনি ক্লান্ত, না উজ্জীবিত?

আব্দুল্লাহ আল নোমান : ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে যে বিজয়ের ঘোষণা দিতে পারে সে-ই প্রকৃত যোদ্ধা। আমিও একজন দক্ষ যোদ্ধা হতে চাই। সেজন্যে ক্লান্তি কথাটি কখনো আমার জীবন ডায়েরিতে রাখিনি। বরং আমি শতভাগ উজ্জীবিত এবং আনন্দিত ও প্রফুল্ল। যেহেতু আমি বিতার্কিক ছিলাম, বিতর্কে চ্যাম্পিয়নের স্বাদ পেয়েছি একাধিকবার। আমি জানি, পরিশ্রমের বিকল্প নেই যদি আমি সফলতা পেতে চাই। এই দলকে এতো দূর নিয়ে আসতে আমি ও আমার সহযোগী শিক্ষকগণ ক্লান্ত হননি বরং শতভাগ উজ্জীবিত হয়ে আছি বিতর্কের চূড়ান্ত সফলতা আনয়নে। ইনশাআল্লাহ সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।

বিতর্কায়ন : বিতর্ক নিয়ে আপনার আনন্দ ও বেদনার অভিজ্ঞতাগুলো কী কী?

আব্দুল্লাহ আল নোমান : আমি বিতার্কিক ছিলাম। অনেকটা সময় বিতর্কের সাথে ছিলাম। বিতর্কের জন্যে ছুটে বেড়িয়েছি বহু জায়গায়। নানান অভিজ্ঞতা রয়েছে তাতে। কিছু স্মৃতি বেদনার হলেও বাকি সবটুকু আনন্দের। আজ বিতার্কিক হতে বিচারক। সাথে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, বাবুরহাট শাখার বিতর্কের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক। তাই আজ নিজের নয় বলব শিক্ষার্থীদের আনন্দ বেদনার খবর।

এখন পর্যন্ত আমার শিক্ষার্থীরা বেদনার মুখ দেখে নি। আশা করবো যেন না দেখে। শুরুটা আনন্দ দিয়ে করেছি শেষটাও আনন্দে আনন্দে থাকতে চাই।

মাত্র দু-দিনের প্রস্তুতি নিয়ে বিতর্কের মঞ্চে যায় শশী বাহিনী। শিক্ষক হিসেবে বুকটা ধফধফ করছিলো। জানি না, কী না কী বলে ফেলে। নাকি শিক্ষক হিসেবে লজ্জা পাবো! না, দারুণ করলো আমার তিন বাঘিনী। জয় পেলাম, আবার পরবর্তী বিতর্কের জন্যে প্রস্তুত। সেটাতেও দারুণ জয়। আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেল। পরদিন আবার বিতর্ক। তাও আবার পরপর দুটো। প্রতিপক্ষ গতবারের চ্যাম্পিয়ন দল। আলহামদুলিল্লাহ জয়ী হলাম। চলে গেলাম ফাইনালে, প্রতিপক্ষ গতবারের রানার্সআপ দল। বিশ্বাস করুন, বিতর্ক শুরু করার পূর্বে ২০ মিনিট শুধু ঘুরতে হয়েছে আমরা কোথায় বসে স্ক্রিপ্ট লিখব। লিখতে গিয়েও হলো সমস্যা। যাই হোক তাৎক্ষণিক ব্রেনওয়াশ করে পাঠিয়ে দিলাম বাঘিনীদের। এতো সুন্দর বিতর্ক করেছে ওরা, উপস্থিত সবাই দারুণ প্রশংসা করেছে। জয়ী হলাম, আনন্দে ভেসেছে দল। চেষ্টা করব এই আনন্দটা নিয়ে শেষ হাসি হাসতে।

বিতর্কায়ন : কতোদিন বিতর্কের সাথে থাকতে চান? বিতর্কে লেগে থাকার জন্যে আসলে কী করা প্রয়োজন?

আব্দুল্লাহ আল নোমান : যার ভিতর একবার বিতর্কের বীজ বপন করা হয়, সে যতই চেষ্টা করে না কেন বিতর্ক থেকে দূরে সরতে পারে না। তাই আমিও সরতে পারবো না। আশা করি মহান আল্লাহ যতদিন সুস্থ রাখবেন বিতর্কের সাথেই থাকব।

আমি আগেই বলেছি কঠোর পরিশ্রম সফলতার জন্যে প্রয়োজন। বিতর্কের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম নয়। পরিশ্রম, শুধুই পরিশ্রম। তবে নিয়মিত তথ্যের সাথে থাকতে হবে। উচ্চারণও সুন্দর হওয়া উচিত।

বিতর্কায়ন : পাঞ্জেরী-চাঁদপুর কণ্ঠ বিতর্কের মান বৃদ্ধিতে আপনার কোনো পরামর্শ আছে কি?

আব্দুল্লাহ আল নোমান : পরামর্শ নয়, আমি একটি আবেদন করব। যে বিতর্কে যাদের বিচারক হিসেবে রাখা হবে, যদি তাদের বিতর্কের বিষয়টা আগে জানিয়ে দেয়া হয়, তাহলে মনে হয় বিচারকদের বিচারকার্য করতে সুবিধা হবে। এতে করে বিচারকম-লীও সুবিধা পাবেন, শ্রোতারাও জানতে পারবে তত্ত্ব ও তথ্য সঠিক ছিলো কি না।

বিতর্কায়ন : উপরোক্ত প্রশ্নমালার বাইরে আপনার কোনো বক্তব্য থাকলে বলুন।

আব্দুল্লাহ আল নোমান : বিশেষভাবে আবেদন করব, সৃজনশীল জাতি গঠনে, সুপ্ত প্রতিভা অন্বেষণে বিতর্ক নামক এই আন্দোলন যেনো কোনোদিন না থেমে যায়। এটি শুধু আবেদন নয়, আমাদের পরম চাওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category