বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ২৪, ২০১৯




ফরিদগঞ্জে খোলা আকাশের নিচে তিন ক্লাসের শিক্ষার্থীদের একই সঙ্গে পাঠদান

এস.এম ইকবাল, ফরিদগঞ্জ :  শ্রেণিকক্ষের অভাবে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে বালিথুবা সামছুলিয়া অদুদীয়া মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে। ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত সরকারি অর্থে অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন হয়নি মাদ্রাসাটির। ২০০১ সালে এমপিভুক্ত হওয়া এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকটের কারণে ৫ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর লেখাপড়া হুমকির মুখে রয়েছে।

বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টদের দাবী, বোর্ড পরীক্ষায় ফলাফল ভালো হওয়া সত্ত্বেও এমপিভুক্ত হওয়ার ১৮ বছরেও অজ্ঞাত কারণে এ প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন হয়নি।

সরেজিমনে গিয়ে দেখাযায়, মাদ্রাসা মাঠের দক্ষিণ পাশে খোলা আকাশের নিচে পাশাপাশি তৃতীয়, ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করছেন তিনজন শিক্ষক। তিনটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একই সঙ্গে উচ্চস্বরে পাঠদান, মাঠের পাশাদিয়ে বয়ে যাওয়ার রাস্তার ধূলাবালি ও যানবাহনের বিকট শব্দে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনোসংযোগ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছিল। মাঠের পশ্চিম পাশে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় ইবতেদায়ি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছিলেন শিক্ষক। এছাড়া মাঠের উত্তরে রাস্তার পাশে পুরাতন পরিত্যক্ত আরেকটি ভবনের চারটি কক্ষে ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে চলছিলো অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষা কার্যক্রম।

মাঠে ৬ষ্ঠ শ্রেণির আরবি বিষয়ের ক্লাস নিচ্ছিলেন শিক্ষক মাওলানা হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘খোলা আকাশের নিচে সকালে ঠাণ্ডা ও দুপুরে প্রচণ্ড গরম থাকে। এতে করে শিশু শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। খোলাস্থানে একই সঙ্গে তিন শ্রেণির পাঠদান চলমান থাকায় তারা মনযোগ দিয়ে পাঠগ্রহণ করতে পারে না। তাছাড়াও মাঠ সংলগ্ন যানবাহনের শব্দ ও ধূলাবালিতে পড়ালেখার পরিবেশ নেই বললেই চলে।’

বালিথুবা সামছুলিয়া অদুদীয়া মাদ্রাসায় শ্রেণিকক্ষের অভাবে খোলা আকাশের নিচে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করা হয়। ছবি-সোহাগ

মাদ্রাসা সুপার মো. মাহাবুবুর রহমান সংকটের কথা তুলে ধরে এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘মাদ্রাসায় ব্যবহার উপযোগী মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। বাকি চারটি কক্ষ ২০১০ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন জনের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে টিনশেডের ৩টি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হচ্ছিল। কিন্তু, আর্থিক সংকটের কারণে তাও সম্ভব হচ্ছেনা। তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচে ও পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের শ্রেণি পাঠদান করতে হয়।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই মাদ্রাসায় গত তিন বছরের জেডিসি পরীক্ষায় কয়েকটি এ প্লাসসহ শতভাগ শিক্ষার্থী ও দাখিল পরীক্ষায় শতভাগ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। নিয়মিত ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু, মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষসহ বিভিন্ন সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একটি ভবনের জন্যে ঊর্ধ্বতনদের কাছে ধর্ণা দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। তবে আশা করছি, এই এলাকার কৃতি সন্তান এমপি মহোদয় আমাদের প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন করে দিবেন।’

মাদ্রাসার সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন,‘এই এলাকার কৃতি সন্তান বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বর্তমান সাংসদ মুহম্মদ শফিকুর রহমানের আন্তরিক সহযোগিতায় ২০০১ সালে মাদ্রাসা এমপিভুক্ত হয়। কিন্তু, পরবর্তী এমপিরা সাংবাদিক শফিকুর রহমানের প্রতিষ্ঠান আখ্যা দিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই মাদ্রাসার কোন উন্নয়ন করেনি। বিশেষ করে গত ১০ বছরে ফরিদগঞ্জের অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন ও ডিজিটাল ল্যাবসহ ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হলেও আমাদের এই প্রতিষ্ঠানের দিকে কেউ ফিরেও তাকায়নি। আমি বর্তমান এমপি মহদোয়ের কাছে সমগ্র এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জরুরী ভিত্তিতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা নির্বিঘ্ন করতে নতুন একটি বহুতল ভবন নির্মাণের দাবী করছি।’

এবিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী আফরোজ বলেন,‘মাননীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটার নিয়ে আবেদন করলে অবশ্যই এই প্রতিষ্ঠানে একটি নতুন ভবন হবে। এক্ষেত্রে আমি এমপি মহোদয়কে অনুরোধ করবো যাতে দ্রুত শ্রেণিকক্ষ সংকট দূর করার জন্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এই মুহূর্তে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ যদি যোগাযোগ করেন তাহলে আমি জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাহেদ সরকার বলেন,‘এ সমস্যার কথা কেউ আমাদের জানায়নি। তবে এখন যখন জেনেছি দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করা হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category