রবিবার, মার্চ ২২, ২০২০




ফরিদগঞ্জে কিস্তির টাকা পরিশোধে বিপাকে গ্রাহকরা

এস. এম ইকবালঃ করনোভাইরাস পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে জনসমাগম যাতে না ঘটে সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশনার পর চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে গনমানুষের চলাচল আগের থেকে অনেক কমে গেছে। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যাংক, বেসরকারি এনজিও ও সমিতি থেকে নেয়া টাকার কিস্তি পরিশোধ নিয়ে বিপাকে পড়েছে ঋনগ্রহীতারা। দেশের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে প্রতি সপ্তাহ কিংবা প্রতিমাসে কিস্তির টাকা পরিশোধ কিভাবে করবে এ নিয়ে চিন্তিত রয়েছে স¦ল্প আয়ের মানুষেরা।

কয়টি বেসরকারি এনজিও থেকে ঋন নেয়া টাকার কিস্তি পরিশোধ নিয়ে একাধিক ঋন গ্রহীতার মধ্যে কেউ ক্ষুদ্র চায়ের দোকানদার, আবার কেউবা সিএনজি অটোরিক্সা চালক কিংবা দিনমজুর। তারা বলেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে এখন আর আগের মতে মানুষের চলাচল না থাকায় বেচাবিক্রি আগের মতো নেই। যানবাহনে কাংক্ষিত যাত্রী পারাপার করা যাচ্ছে না। কিন্তু টাকা রোজগার হউক আর না হউক এমন এক দুঃ সময়ে ঋনের কিস্তির টাকা যোগাড় করা সম্ভব হচ্ছে না। কিস্তির টাকার জন্য এনজিও এর লোকরা যথাসময়ে টাকা না দিলেও বাড়ি ছাড়ছে না।
এমন এক নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে
সাধারন মানুষ।

ফরিদগঞ্জ বাজারে রতন বাবু নামে এক ব্যক্তি যার কাজ হলো জুতা সেলাই করে সংসার চালানো। তিনি বলেন একটি এনজিও থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋন নিয়েছেন। এই টাকার কিস্তি প্রতি সপ্তাহে ৮শ টাকা যোগাড় করতেই হয়। কিন্তু করোনার কারনে রাস্তায় মানুষের চলাচল কম থাকায় আমি আগের মত রোজগার করতে পারছি না। একই ভাবে দিনমজুর মাসুদ বলেন, এখন কেউ কাজের জন্য আগের মতো ডাকে না। কাজ না থাকলেও প্রতি সপ্তাহে আমার ঋনের কিস্তির টাকা কিভাবে পরিশোধ করবো তা নিয়ে এখন দঃচিন্তায় আছি। তবে দেশের বর্তমান দঃ সময়ে কিস্তির টাকা আদায় স্থগীত রাখার দাবি তুলেছে ভুক্তভোগীরা।
অপরদিকে ফরিদগঞ্জে প্রথম শুরু হওয়া চান্দ্রা শিক্ষিত বেকার যুব সমিতির সভাপতি, সমাজ সেবায় বিশেষ অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে জাতীয় পুরুষ্কার প্রাপ্ত মোঃ জসিম উদ্দীন এপ্রতিনিধিকে বলেন, শুধুমাত্র করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারনে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরাই কিস্তির টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে তাদেরকে সময় দেয়ার দাবিটি যৌক্তিক। তবে এ ক্ষেত্রে কোন সুযোগসন্ধানী কেউ যাতে আমাদের আমানতকারীর টাকা আত্বসাৎ করার সুযোগ না পায় সেই বিষয়টি আমাদের আমানতকারীদের স্বাথের্ই ঋনগ্রহীতাদের মাথায় রাখতে হবে।

ফরিদগঞ্জের গ্রামীন ব্যাংকের ম্যানেজার আল আমিম মাসুদ বলেন, দেশের বর্তমান দুঃ সময়ে অল্প আয়ের মানুষের ঋনের কিস্তি আদায় স্থগীত রাখার বিষয়ে আমরা উপরিমহলের কোন নির্দেশনা পাইনি। তবে উক্ত দাবিটি যৌক্তিত বলে তিনিও একমত পোষন করেছেন।

এ নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যংকের জৈনিক
কর্মকর্তা বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে কেবলমাত্র ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাথের্ই তাদের সাময়িক ভাবে কিস্তির টাকা আদায় স্থগীত রাখার স্বার্থে অল্প আয়ের মানুষের ঋনগ্রহীতাদের যৌক্তিত ওই দাবির পক্ষে সরকার এখনো কোন নির্দেশনা দেয়নি।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিউলী হরি এ
প্রতিনিধকে বলেন, করোনাভাইস পরিস্থিতির কারনে দেশে এখন মূলত দুঃসময় বিরাজ করছে। অল্প আয়ের মানুষের ঋন নেয়া কিস্তির টাকা আদায় দেশের এই দুঃসময়ে স্থগিত রাখার এই যৌক্তিক দাবির পক্ষে আমিও একমত। তারপও কেউ যেন অল্প আয়ের মানুষের কাছ থেকে দেশে চলমান এই দুঃ সময়ে কিস্তির টাকা আদায়কে কেন্দ্র করে কোন বেশী বাড়াবাড়ি না করে সে বিষয়ে আমি ঋনদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category