মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২৯, ২০১৯




ফরিদগঞ্জে আ’ লীগের দুই গ্রুপের সংর্ঘষে রনক্ষেত্র ॥ সাংবাদিক ও পুলিশসহ আহত ২৫

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ  ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুটি পরস্পর বিরোধী গ্রুপের দফায় দফায় সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে।  ২৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকালে ঘন্টাব্যাপি চলমান এই সংর্ঘষের ঘটনায় সভাস্থল ও আশেপাশের সড়ক রনক্ষেত্রে পরিনত হয়।
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে লাঠিচার্জ করে ও দেড় শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়ে। এ সময় সাংবাদিক ও পুলিশ সহ আওয়ামী লীগের উভয় পক্ষের প্রায় ২৫ জন আহত হয়েছে। সংর্ঘষের সময় বাজারের ব্যবসায়ীরা আতংঙ্কগ্রস্ত হয়ে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আ’লীগের দলীয় সূত্র জানায়, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্যে আ’লীগের কেন্দ্রিয় নির্দেশনা অনুসারে ফরিদগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ স্থানীয় বিআরডিবি অফিসের সামনে বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করে। সকাল ১১টায় সভা মঞ্চে ফরিদগঞ্জের সরকার দলীয় সাবেক এমপি ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এ্যাড. জাহিদুল ইসলাম রোমান সহ আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা চলাকালীন এক পর্যায়ে উপজেলা সদরের সবুজ মার্কেটের সামনে থেকে ড. শামছুল হক ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে শ্লোগান তুলে আওয়ামী লীগের ক্ষুব্ধ আরেকটি পক্ষ উক্ত সভায় অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এসময় উভয় পক্ষর ইটপাটকেল ও কাচের বোতল ছুড়তে থাকে। উভয় পক্ষের মধ্যে হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। প্রায় ঘন্টাব্যাপী চলমান এই সংর্ঘষে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই রবিউল, স্থানীয় সাংবাদিক টিপু পাঠান, জেলা পরিষদের সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম রিপন, আ’লীগ নেতা আলী আকবর, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি এ্যাড. মো. মাহাবুব আলম, আ’লীগের নেতা দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মাহবুব সউদ, মো. মনির হোসেন, শরিফুল ইসলাম, মো. সুমন, মনু মিয়া, নিবিড় আহম্মেদ, মাসুদ আলম, সাগরসহ ২৫ নেতাকর্মী আহত হয়। আহতরা প্রথমে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ও পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেয়। এদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশংঙ্কাজনক বলে জানাগেছে।
এদিকে বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা সভাস্থলের বাইরে থাকা সাবেক এমপি ড. শামছুল হক ভূঁইয়ার পাজেরো গাড়ি ভাংচুর করে। একপর্যায়ে অবস্থা বেগতিক হলে বিশেষ বর্ধিত সভাটি পন্ড হয়ে যায়। পরে সিনেমা হল মার্কেটর সামেন আরো একদফা সংর্ঘষ হয়।
দলীয় সূত্রে আরো জানা যায়, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে উক্ত সভা আহ্বান করা হয়। উক্ত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ নাছির উদ্দীন আহম্মেদ ও বিশেষ অতিথি হিসেবে সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম দুলাল পাটওয়ারী ঘোষনা থাকার কথা থাকলেও তারা আসেননি।
এ ছাড়াও ওই সভায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সাহেদ সরকারও উপস্থিত ছিলেন না। তবে সভার সভাপতি হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধ আবুল খায়ের পাটওয়ারী উপস্থিত ছিলেন।
 এবিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ হারুন অর রশিদ চৌধুরী জানান, আবারো যেনো কোন সংঘাত না ঘটে সে জন্যে পৌর শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে গিয়ে ইটের আঘাতে ৩/৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।
 উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাহেদ সরকার বলেন, বর্তমান এমপি মুহম্মদ শফিকুর রহমানকে দাওয়াত না দেওয়ার কারনে গতকাল রাতেই জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ আমাদের বলেছেন সভাটি না করে স্থগিত রাখার জন্যে। এ কারনে আমি মিটিং এ যাই নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category