মঙ্গলবার, নভেম্বর ১২, ২০১৯




দেশের ইতিহাসে ভয়াবহ ১১টি রেল দুর্ঘটনা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে ১৯৮৯ সালের ১৫ই জানুয়ারি।

কখনো লাইনচ্যুত হয়ে কখনো বা মুখোমুখি সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত মোট ১১টি বড় রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহত ও আহত হয়েছেন শত শত মানুষ। দেশে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছিল ১৯৮৯ সালের ১৫ জানুয়ারি টঙ্গীতে। ওই দুর্ঘটনায় ১৭০জন নিহত হন। আহত হন আরও ৪০০ যাত্রী।

১৯৮৩ সালের ২২শে মার্চ ঈশ্বরদীর কাছে সেতু পার হওয়ার সময় কয়েকটি স্প্যান ভেঙে পড়ে। নিচে শুকনো জায়গায় গিয়ে পড়ে ট্রেনের কয়েকটি বগি। এতে ৬০ জন যাত্রী নিহত হন।

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রেল দুর্ঘটনাটি ঘটে ১৯৮৯ সালের ১৫ই জানুয়ারি। টঙ্গীর কাছে মাজুখানে দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৭০ জন যাত্রী নিহত হন, আহত হন আরও ৪০০ জন।

ওই একই বছরের ২রা ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের কাছাকাছি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ১৩ জন নিহত হন ও ২০০ জন আহত হন।

১৯৮৫ সালের ১৩ই জানুয়ারি খুলনা থেকে পার্বতীপুরগামী সীমান্ত এক্সপ্রেসের কোচে আগুন ধরে যায়। এতে ২৭ জন যাত্রী নিহত হন এবং ২৭ জন আহত হন।

১৯৮৬ সালের ১৫ই মার্চ সর্বহারা পার্টির নাশকতায় ভেড়ামারার কাছে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে নদীতে পড়ে যায়। এতে ২৫ জন যাত্রী নিহত হন এবং ৪৫ জন আহত হন।

১৯৯৫ সালের ১৩ই জানুয়ারি রাত সোয়া ৯টায় হিলি স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা গোয়ালন্দ থেকে পার্বতীপুরগামী লোকাল ট্রেনকে ধাক্কা দেয়ে সৈয়দপুর থেকে খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস। মুখোমুখি সংঘর্ষে লোকাল ট্রেনের ইঞ্জিনসহ দুটি বগি আন্তঃনগর ট্রেনের উপর উঠে যায়। এতে দু’টি ট্রেনের ৫০ জনের বেশি যাত্রী নিহত হন। আহত হন দুই শতাধিক যাত্রী।

২০১০ সালে নরসিংদীতে চট্টগ্রামগামী মহানগর গোধূলি এবং ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি ট্রেনের ইঞ্জিন দুমড়ে-মুচড়ে যায়। চালকসহ মোট ১২ জন নিহত হন।

ভুল সিগন্যালের কারণে ২০১৬ সালে নরসিংদীর আরশীনগর এলাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী তিতাস কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিন লাইনচ্যুত হয়। এতে দুইজন নিহত ও অন্তত ১০ আহত হন।

২০১৮ সালের ১৫ই এপ্রিল টঙ্গীতে ঢাকা-জয়দেবপুর রেললাইনে একটি কমিউটার ট্রেনের ৫টি বগি লাইনচ্যুত হলে ৫ জন নিহত হন। এতে আহত হন ৫০ জনের বেশি।

তবে, এবছরই রেলপথে দুটি বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ২৩শে জুন কুলাউড়ার বরমচাল রেলক্রসিং এলাকায় সিলেট থেকে ঢাকাগামী উপবন এক্সপ্রেসের ৪টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে খালে ছিটকে পড়ে। এতে, ৬ যাত্রী নিহত হন।

সবশেষ গেল ১২ই নভেম্বর ভোররাত পোনে ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্দবাগ রেল স্টেশনে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসের পেছনের কয়েকটি বগিকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে আসা তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস। এতে এখন পর্যন্ত ১৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন শতাধিক যাত্রী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category