মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৯




দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রার্থীর নাম পাঠিয়েছে মুন্সিগঞ্জ আওয়ামী লীগ

ষ্টাফ রিপোর্টার:  আসন্ন উপজেলা পরিষদ সামনে রেখে তৃণমূল আওয়ামী লীগের কাছে কেন্দ্রের নির্দেশনা ছিল প্রতি পদে তিনজনের নামে সুপারিশ পাঠানোর। এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগের মুন্সিগঞ্জ জেলা শাখা গজারিয়া উপজেলা পরিষদের দলীয় প্রার্থী হিসেবে অসত্য তথ্য দিয়ে কেন্দ্রে একক প্রার্থীর নাম পাঠিয়েছে ।

এ নিয়ে দলীয় সভাপতির কাছে নালিশ জানিয়েছে গজারিয়া উপজেলার নেতা-কর্মীরা।

দলীয় সভানেত্রীর বরাবর পাঠানো অভিযোগে বলা হয়েছে, তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে অস্বচ্ছ ও অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জাসদ ও জাতীয় পার্টির সাবেক নেতা আমিরুল ইসলামকে গজারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। দলীয় মনোনয়নের জন্য প্রার্থীর রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয়ে বলা হয়েছে, আমিরুল ইসলাম একজন মুক্তিযোদ্ধা ও ১৯৭৪ সালে গজারিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। তবে সত্য হচ্ছে, সে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করলেও মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তার নাম নেই। আর ছাত্রলীগের সভাপতি দাবি করলেও ওই সময় তিনি জাসদ করতেন।

লিখিত অভিযোগে আরো বলা হয়, ১৯৯৭ সালে গজারিয়া নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিহত হন আওয়ামী লীগের বিজয় বল্লম রায়। এ হত্যা ঘটনার মীমাংসা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ ঘটে আমিরুল ইসলামের।

অথচ গত ২৯ জানুয়ারি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বরাবরে গজারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী হিসেবে তার নাম পাঠিয়েছে জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগ। ফলে বাদ পড়েছে পরপর দুইবারের উপজেলা চেয়ারম্যান তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা আওয়ামী পরিবারে বেড়ে উঠা রেফায়েত উল্লাহ তোতার নাম। এ নিয়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভের।
ওই অভিযোগে গজারিয়া উপজেলার ৮ জন ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে ৬ জন ও তৃণমূল পর্যায়ের এক ডজনেরও বেশি নেতা-কর্মী স্বাক্ষর করেছেন।

 

সেখানে বলা হয়েছে,  গত ২৬ জানুয়ারি তৃণমূলের যে ভোট গ্রহণের কথা বলা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তৃণমূল নেতাদের ভোট গ্রহণের আগের দিন রাতে আমিরুল ইসলাম জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের সহায়তায় তার বাড়িতে নিয়ে তাদের স্বাক্ষর নিয়ে নেন। পরদিন গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে আমিরুল ইসলামকে ১১ ভোট প্রাপ্তি দেখিয়ে প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়। এ সময় বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা ৪ ভোট ও মনসুর আহমেদ জিন্না ৩ ভোট পেয়েছেন বলে জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে রেফায়েত উল্লাহ খান তোতার কাছে হেরে যান আমিরুল ইসলাম। আর ২০১৪ সালের নির্বাচনেও তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

এ বিষয়ে প্রার্থী আমিরুল ইসলাম কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি।

তবে রেফায়েত উল্লাহ খান তোতা বলেন, আমি কারো বিরুদ্ধে কথা বলতে চাই না। আমি কেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছি। আমার শেষ ভরসা, দল ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category