বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২০




থেমে নেই পদ্মা মেঘনায় মা ইলিশ শিকার

চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ প্রশাসনিক নিচ্ছিদ্র অভিযানের পরও মেঘনা পদ্মায় মা ইলিশ শিকার বন্ধ হচ্ছে না। এতে করে দেশের জাতিয় সম্পদ ধ্বংস করছে এক শ্রেনীর অসাধু জেলে। নদীতে ইলিশ শিকার করা অবস্থায় চাঁদপুর ও শরীয়তপুরের  পুলিশ তাদের জাল জব্দ ও জেলেদের আটক করে জেল জরিমানা করলেও মা ইলিশ শিকার বন্ধ হচ্ছে না।
গত ১৪ অক্টোবর থেকে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিনের অভয়াশ্রম ঘোষনা করা হয়। এ সময়ের মধ্যে সাগর থেকে মা ইলিশ গুলো মিঠা পানিতে ডিম ছাড়ার জন্য পদ্মা মেঘনায় প্রবেশ করলেই অসাধু জেলের জালে ধরা পড়ে যায়। এর ফলে মা ইলিশ গুলো ডিম ছাড়ার কোনো সুযোগ না পেয়ে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালে জড়িয়ে পড়ছে। সরকার ঘোষিত ২২ দিনের অভয়াশ্রমে সরকারীভাবে চাঁদপুরের প্রায় ৫১ হাজার তালিকাভুক্ত জেলেদের খাদ্য সহায়তা করলেও জেলেদের সচেতনতার অভাবে এরা রাতের অন্ধকারে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে মা ইলিশ শিকার করে যাচ্ছে। বিশেষ করে চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার ষাটনল থেকে লক্ষীপুর জেলার রামগতির পদ্মা মেঘনার ১’শ কিলোমিটার এলাকায় অভয়াশ্রম দেয়া হয়। এ সময়ের মধ্যে নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড, র্যাব ও প্রশাসন বিভাগ থেকে ১’শ কিলোমিটার এলাকায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রতিদিনই জালসহ জেলে আটক হচ্ছে। জেলেদের কারাশ্রমসহ জরিমানা করা হলেও দাদমদারদের চাপে এবং অধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষে অসাধু জেলেরা মা ইলিশ শিকার করছে।বিশেষ করে রাজরাজেশ্বর, আলুরবাজা, ঈশানবালা, মাইঝারা, ষাটনল এলাকায় মা ইলিশ নিধন হচ্ছে। ইলিশ দেশের জাতিয় সম্পদ, এ সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব শুধু পুলিশ প্রশাসনের একার নয়, মা ইলিশ রক্ষায় আমাদের সকলকেই সচেতন হয়ে অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন। এ দিকে চাঁদপুরের বিভিন্নস্থানে মা ইলিশ শিকার করে সন্ধার পর পরই ৬/৭’শ কেজিতে বিক্রি করতে দেখা গেছে। এমনকি এসব ইলিশ বিক্রেতা বাড়ি গিয়ে পৌছে দিচ্ছে নির্ভয়ে। বিশেষ করে মেঘনা পদ্মার শাখা নদী গুলোতে জেলে নৌকা ছাড়াও স্প্রীড বোর্ড দিয়ে ইলিশ শিকার করতে দেখা গেছে। চাঁদপুর হয়ে ঢাকা যাওয়ার পথে ষাটনল এলাকায় জেলে নৌকা ও স্প্রীড বোর্ড দেখা যায়। মা ইলিশ রক্ষায় দেশের রাজস্ব খাতে চলতি বছর মৎস্য বিভাগ প্রায় ৫ লাখ মেট্রিকটন ইলিশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও চলতি মৌসুমে তা অর্জন হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে সচেতন মহল জানান।
চাঁদপুর, আলেকজান্ডার, আন্দারমানিক ও রামগতি এলাকার ৪টি ইলিশ প্রজনন কেন্দ্রে প্রায় ১’শ কিলোমিটার এলাকায় অভয়াশ্রম ঘোষনা করা হয়। চাঁদপুরের দক্ষিনাঞ্চল এলাকার আলেকজান্ডার, মতিরহাট, খাসেরহাট, হাজীমারা, চরভৈরবী এলাকায় মা ইলিশ নিধন হচ্ছে বলে জানা যায়। আর মাত্র কয়েকদিন বাকি অভয়াশ্রমের, এ সময়ের মধ্যে মা ইলিশ রক্ষায় আমাদেরই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। এমনকি ইলিশ আমদানি ও রপ্তানীকারী দাদনদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হলে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category