শুক্রবার, আগস্ট ৩০, ২০১৯




ছোট গল্প………..এরই নাম ভালোবাসা

গাঁয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে ঈশিতা। দেখতে অপূর্ব সুন্দরী। বয়স সবেমাত্র ১৯ অনার্সে পড়ুয়া ছাত্রী এখনো বিয়ে হয়নি। ঈশিতার চাল-চলন স্বভাব চরিত্র কথা বার্তায় গাঁয়ের সকলের কাছে সে প্রসংশনীয়। পরিবারের সদস্যারাও তার প্রতি সন্তুষ্ট এবং পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে রেখেছে। কেউ তার প্রতি খবরদারি রাখেনা।পরিবারের লোকজন কর্তব্য হিসেবে বিয়ে-সাধীর কথা বল্লে ঈশিতা ছাপ জানিয়ে দেয় এ নিয়ে কেউ ভাববেন না। সময় হলে আমি বলবো। অনার্স শেষ করে ঈশিতা ডাক্তারী লেখাপড়া শুরু করলো। এরই মধ্যে ঈশিতার পরিচয় হয় বাঁধন নামে এক সু-প্রতিষ্ঠিত যুবকের সাথে। বাঁধন সবেমাত্র লেখাপড়া শেষ করে বড় শহরে বাবার প্রতিষ্ঠিত ফার্মেসী ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। একদিন ঈশিতা অসুস্থ হয়ে পড়লে ওষুধের জন্য বাঁধনের ফার্মেসীতে গেলে এখানেই তাদের পরিচয় হয়। ঈশিতার কলেজের পাশেই বাঁধনের ফার্মেসী দোকান। প্রতিদিন ঈশিতা কলেজে আশা-যাওয়ার মধ্যে বাঁধনের সাথে দেখা হতো এবং কথা হতো। এ দেখা এবং কথা বার্তার একপর্যায়ে দু”জনের হৃদয়ে ভালোবাসার কম্পন সৃষ্টি হলেও উভয় উভয়কে মূখ খুলে প্রকাশ করেনি।

একদিন পরিবারের চাপ সৃষ্টিতে বাঁধন বিয়ে করে ফেললো। ঈশিতা এ কথা শুনে ভেঙ্গে না পড়ে নিজেকে নিয়ন্ত্র রেখে লেখাপড়ায় ডিগ্রি নিয়ে ডাক্তারী পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলো। ঈশিতার বয়স যখন ৩২ তখনও বিয়ে করেনি। একদিন হঠাৎ বাঁধন জটিল রোগে অসুস্থ হয়ে ঈশিতার হাসপাতলে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হলো। ঈশিতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে বাঁধনের দুইটি কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। কিডনি কোথায়ও না পাওয়ায় ঈশিতা নিজের দুইটি কিডনি দিয়ে পরকালে পাড়ি জমানোর মধ্যে বাঁধনকে বাঁচিয়ে তুলে।
ঈশিতা পরকালে পাড়ি দেয়ার পূর্ব মহুর্তে চিঠিতে লিখে যায় বাঁধন আমি তোমাকে খুব ভালোবাসতাম তুমিও বাসতে কিন্তু, যাক জীবনে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম কখনো বিয়ে করবোনা। তাই নিজের জীবন মূল্যহীন মনে করে আমার দু”টো কিডনি দিয়ে তোমাকে ভালোবেসে উৎসর্গ করে গেলাম। স্ত্রী সন্তান নিয়ে ভালো থেকো। আল্লাহ হাফেজ। এরই নাম ভালোবাসা

মফিজুল ইসলাম বাবুল
সহ-সভাপতি
প্রেসক্লাব কচুয়া-চাঁদপুর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category