বুধবার, এপ্রিল ১, ২০২০




চিত্রশিল্পী রশিদ চৌধুরীর জন্মদিন আজ

মো. নাছির উদ্দীন : রশিদ হোসেন চৌধুরী। যিনি রশিদ চৌধুরী নামে বেশি পরিচিত। তিনি ছিলেন বাংলাদেশী চিত্রশিল্পী, ভাস্কর, লেখক এবং অধ্যাপক। বাংলাদেশে শিল্পচর্চার ক্ষেত্রে জয়নুল আবেদীন প্রবর্তিত উত্তর উপনিবেশিক পর্বে সৃজনশীল ও মৌলিকত্বে তিনি ছিলেন সর্বজন প্রশংসিত ব্যক্তিত্ব। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রজন্মের শিল্পীদের মধ্যেও অন্যতম এবং পঞ্চাশের দশকে বাংলাদেশের আধুনিক শিল্প আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে স্বকীয় শিল্পচর্চার সূচনা করেছিলেন।

আজ এই জনপ্রিয় চিত্রশিল্পী রশিদ চৌধুরীর ৮৯তম জন্মদিন। ১৯৩২ সালের ১ এপ্রিল তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের (বর্তমানে বাংলাদেশ) ফরিদপুর জেলার (বর্তমানে রাজবাড়ি) রতনদিয়া গ্রামের একটি জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন রশিদ চৌধুরী। তার পিতা খান বাহাদুর ইউসুফ হোসেন চৌধুরী এবং মাতা শিরিন নেসা চৌধুরাণী। শৈশবেই তাদের পরিবার স্থানান্তরিত হয়ে নিকটবর্তী বর্তমান রতনদিয়া গ্রামে চলে যায়। তার ডাকনাম কনক। তিনি নয় ভাই এবং চার বোনের একজন। তার বড় চাচা খান বাহাদুর আলীমুজ্জামান চৌধুরী তৎকালীন ফরিদপুর জেলা বোর্ডের সভাপতি ছিলেন এবং তার নামেই ফরিদপুরে আলীমুজ্জামান সেতু এবং আলীমুজ্জামান হলের নামকরণ করা হয়।তার দাদা ফয়েজবক্স ছিলেন জমিদার। সরকারি আইনে সেই জমিদারি প্রথার বিলুপ্তি ঘটলে রশিদের পিতা ওকালতি পেশা বেছে নেন।

ভারত উপমহাদেশে বিংশ শতাব্দীর তাপিশ্রী শিল্পী হিসেবে তিনি অন্যতম অগ্রগামী ছিলেন। এর মাধ্যমেই তিনি সর্বাধিক মৌলিক এবং আধুনিক শিল্পধারার চর্চাকারী হিসেবে অগ্রগণ্য হয়ে উঠেন। তাপিশ্রীর পাশাপাশি প্রচলিত তেলরঙ ছাড়াও তিনি কাজ করেছেন টেম্পেরা, গুয়াশ এবং জলরঙ ইত্যাদি অপ্রচলিত মাধ্যমসমূহে। দেশে এবং বিদেশে বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি এবং রাষ্ট্রীয় ও সাধারণ ভবনসমূহে তাপিশ্রী মাধ্যমে বহুসংখ্যক কাজ করেছেন তিনি। এই তাপিশ্রী শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৭৭ সালে তাকে বাংলাদেশের জাতীয় এবং সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক এবং ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।

রশিদ চৌধুরী বিশ্বশিল্পের প্রাণকেন্দ্র মাদ্রিদ এবং প্যারিসে শিল্প বিষয়ক শিক্ষা গ্রহণ করায় তার শিল্পকর্মে পশ্চিমা আধুনিক শিল্পের আঙ্গিক এবং প্রাচ্যের দেশজ ঐতিহাসিক শিল্পের অবয়ব ও বর্ণের উল্লেখযোগ্য সমন্বয় ঘটেছে। তৎকালীন সময়ে ঢাকায় রঙের খুব আক্রা থাকলেও রং ব্যবহারে তার কার্পণ্য ছিল না। তার শিল্পদর্শনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আধুনিক শিল্পের দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়। বাংলাদেশে শিল্প আন্দোলনের পাশাপাশি শিল্প ও শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলার পেছনেও রয়েছে তার বিশেষ অবদান। তার অনেক শিল্পকর্ম বর্তমানে দেশের ও বিদেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং ব্যক্তিগত সংগ্রহে সংরক্ষিত রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category