শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২০




কোথায় আমার পীর মুর্শিদ কেবলা বাবাজান!

দেশে এখন মহামারি, একের পর এক অনাহারে মাটির নীচে সেচ্ছায় আশ্রয় নিচ্ছে ক্ষুদার্থ মানুষ গুলো। এখন কোথায় আমার পীর মর্শিদ কেবলা বাবাজানরা। আপনারা ঘরে কেনো, এসি রুমের দরজা খুলে দেশের পরিস্থিতি দেখুন, এ দেশের মানুষ কিভাবে আছে, খেয়ে না খেয়ে অভাব অনটনের মাঝে দিনাতিপাত করছে। তাদের খাবার দিন, তাদের সহযোগিতা করুন, তাদের পাশে এসে সংক্রমন রোগের প্রতিকারের পরামর্শ দিন। আজকে হয়তো আপনি দলীয় নেতা কিংবা কোনো মাজারের খেদমতকারী পীর সাহেব।
করোনা এখন মহামারি রূপ ধারন করেছে, একের পর এক মানুষ মরে যাচ্ছে, তাদের জানাজার ব্যবস্থাও করছে পুলিশ, যারা বেঁচে আছে তাদের সতর্ক করা হচ্ছে। তারা যেনো ঘর থেকে বের না হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, স্ত্রী সন্তান, মা বাবা, ভাই নোনের সাথে যোগাযোগ না করে এ দেশের জনগনকে বাঁচানো জন্য প্রানপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা নিজ কাঁধে ত্রানের বস্তা নিয়ে অসহায় দরিদ্র পরিবারের দরজায় গিয়ে নক করছে। সেই সাথে রয়েছে স্থানীয় ধনবান, নেতাকর্মীরা। তারাতো ঘরে বসে নেই, তারা নিজ দায়িত্ব পালন করছে আপন মহিমায়। খোদা যেনো এসব মানুষদের অসহায় মানুষদের খেদমত করার তওফিক দান করে। আমরা সে দোয়া করি।
আমি বলতে চাই, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলার মানুষেরা কারো পীর সাহেবের বক্ত হয়েছে। হাজার হাজার টাকা খরচ করে ঔরস মাহফিলে হাজির হচ্ছে গরু ছাগল কিংবা বিভিন্ন উপাদি নিয়ে। আরাম আয়েশ আর জমকালো অনুষৃঠানের মধ্য তাফসিরুল কোরআন নামক অনুষ্ঠানে ভিড়ি ভোজ হচ্ছে। কিন্তু যারা বেক্কল হয়ে উপচে পড়ছে পীর সাহেবের পা চাটতে, তারা কি জানেনা, তারাও একদিন আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর হাত ধরে কিংবা খোদার কাছে আমার আপনাকে নিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবেন।
মুল কথা হলো, এ দেশের মাজার গুলোতে বাৎসরিক উরস মাহফিলে মুরীদরা হাজার হাজার লাখ লাখ টাকস খরচ করে। কিন্তু বর্তমানে দেশে করোনা ভাইরাস নামক একটি মরন ঘাতী রোগ নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়েছি। কিন্তু মাজারের পীর সাহেব কিংবা কেনো মুরীদরা অসহায়দের পাশে এখনো দাড়াচ্ছে না। এমনি পীর সাহেবরা দেশের এ মহামারি রক্ষায় কোনো রকম পন্থা অবলম্বন করছে ন। আমার কথা হলো, খাজা বাবা, শরীয়তপুরী বাবা, কেবলাবাবা, জাকের পার্টির দিনদার পীর সাহেব, ফরিদপুরী পীর সাহেবসহ দেশের হাজার হাজার মাজার নিয়ন্ত্রণকারীরা এ মহামারি সময়ে কোথায় পালিয়ে আছেন, তা আমার জানা নেই। তবে আমার কথা হলো, এ দেশের কিছু নামধারী মাওলানারা তাবলীগ জমায়েতের বিরুদ্বে ব্যাপার নিষেদাজ্ঞাজারী করে, দেশের আইন শৃংখলা অবমাননা এবং অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয় এসব নামধারী মাজার পীর সাহেবদের বিচার খোদা তায়লা আগে করবেন।
আমার শেষ কথা হলো, দেশের মহামারলগ্নে তারা কোথায় আছে, যারা প্রতি বছর ঔরস মোবারকের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে মাজারকে সৌন্দর্যবর্ধন করেন, ঔরস শরীফ এলে সাজ সজ্জায় সজ্জিত করে ফেলে মাজার এলাকাসহ একই অঞ্চল। দলে দলে মুরীদরা যাচ্ছে আনন্দ উৎসব নাচানাচি করে। যা চোখে দেখা। সার কথা হলো মাটিতে শুয়ে থাকা কোনো পীর নাচানাচি করতে বলেননি। পীর সাহেবরা বলেছিলো, পাঁচওয়াক্ত নামাজ পড়ো আল্লাহ তায়লা তোমার ব্যবসা বানিজ্য প্রসারিত করবে, মনে ও ঘরে সুখ দিবে। কিন্তু আমরা করছি উল্টোটা। এটা পরিপন্থী নিয়ম ভাঙ্গা বলে অভিহিত রয়েছে। আসুন আমরা পীর সাহেব, কিংবা কোনো মাজারের পুজারী না হয়ে আমাদের যা যা আছে তা নিয়ে দেশের অসহায় মানুষের দু মুঠো ভাতের ব্যবস্থা করি। এরাই হোক আমাদের অঙ্গীকার এবং মহানবতার আমল। আর দেরী নয়, করোনা ভাইরাস আরো মহামারি আকার ধারন করার আগে রাস্তায় নেমে পড়ি, আতংক নয় সচেতন করার প্রক্রিয়া গ্রহন করি। শেষান্ত বলবো আমরা মানুষ হয়ে মানুষের কল্যানে নিজেকে বিলিয়ে দেই, এর চেয়ে বড় পীর কিংবা কসমেলদার মানুষ আর হতে পারবেন না, বন্ধ করেন আপনাদের মাজার নিয়ে হৈচৈ আর টাকার ছড়াছড়ি। একটু সচেতন হই, নিজেকে বলি মানব সেবাই পৃথিবীর বড় আমল কিংবা আখেরাতের দরজা খোলার একমাত্র বাহক।
লেখকঃ এম আর হারুন
সাংবাদিক, চাঁদপুর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category