বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯




কর্মবিরতির কারনে >মতলবের ১৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃহস্পতিবার কোন ক্লাশ হয়নি

শামসুজ্জামান ডলারঃ ১৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার পূর্নদিবস কর্মবিরতির কারনে মতলব উত্তর উপজেলার ১৮০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোন ক্লাশ হয়নি। প্রাথমিক বিদ্যাল প্রধান ও সহকারী শিক্ষকদের বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের আন্দোলনকারী ১৪ সংগঠনের পূর্ব ঘোষনা মোতাবেক শিক্ষকরা যথাসময়ে স্কুলে যায় কিন্তু কোন ক্লাশ না করে কর্মবিরতিতে অংশ নেয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার পর থেকে মতলব উত্তর উপজেরার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে এমন দৃশ্যই দেখা যায়।

সরেজমিনে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের মতলব উত্তর উপজেলা শাখার আহবায়ক ও সাদুল্যাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলাম, যুগ্ম-আহবায়ক ও ঠেটালিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান, সদস্য সচিব ও ফরাজীকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল বাতেন প্রধান, দক্ষিন ব্যাসদী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬৬এখলাছপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬৫এখলাছপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরকালিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছোট চরকালিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশকয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে শিক্ষকদেরকে পূর্নদিবস কর্মসূচীতে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের মতলব উত্তর উপজেলা শাখার সদস্য সচিব ও ফরাজীকান্দি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ আব্দুল বাতেন প্রধান জানায়, সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড এবং প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন স্কেল নির্ধারণের দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের ১৪টি সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারকে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। আমরা মতলব উত্তর উপজেলায় কর্মসূচীগুলো পালন করলাম এবং সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার পূর্ন দিবস কর্মবিরতি শেষ করলাম। আমাদের দাবীর যৌক্তিকতা ন্যায্য বিধায় ইতিপূর্বেই বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ তাদের নির্বাচনী ইস্তেহারে বেতন বৈষম্যের বিষয়টি অন্তভ’ক্ত করেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের মতলব উত্তর উপজেলা শাখার আহবায়ক ও সাদুল্যাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন দ্বিগুণ করেছে। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন কাঠামোতে এখনও অনেক বৈষম্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে সরকারি অন্যান্য বিভাগের কর্মচারীদের সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন স্কেলের ব্যাপক ব্যবধান রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ¯œতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধীনে ডিপিএড কোর্স সম্পন্ন করে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১২তম গ্রেড ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং একজন সহকারী শিক্ষক ১৫তম গ্রেডে ৯ হাজার ৭০০ টাকা বেতন পান। অথচ অন্য সরকারি ডিপার্টমেন্টে এর চেয়ে কম শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের তুলনায় কয়েক গ্রেডে ওপরের স্কেলে বেতন ভোগ করেন। যেমন স্বাস্থ্য বিভাগের একজন সেবিকা, কৃষি বিভাগের বøক সুপারভাইজার, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ক্যাটালগার, উচ্চমান সহকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চেয়ে কয়েক গ্রেডে ওপরের স্কেলে বেতন পেয়ে থাকেন।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের মতলব উত্তর উপজেলা শাখার যুগ্ম-আহবায়ক ও ঠেটালিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হান্নান বলেন, সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন স্কেল নির্ধারণ এবং প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড মর্যাদাসহ ১০তম বেতন স্কেল নির্ধারণের দাবিতে আমরা প্রাথমিক শিক্ষকরা দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন করে আসছি। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও আজও তা আলোর মুখ দেখেনি। তাই আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হচ্ছি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের প্রায় ১৪টি প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন ঐক্যবদ্ধ হয়ে বেতন বৈষম্য নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

মতলব উত্তর উপজেলার শিক্ষক নেতারা আরো জানান, আমাদের কেন্দ্রিয় সিদ্ধান্ত ছিল ১৩ অক্টোবরের মধ্যে দাবি আদায় না হলে ১৪ অক্টোবর শিক্ষকদের নিজ নিজ বিদ্যালয়ে সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করা। ১৫ অক্টোবর একই কর্মসূচি এবং ১৬ অক্টোবর নিজ নিজ বিদ্যালয়ে অর্ধ দিবস কর্মবিরতি। পরবর্তীতে ১৭ অক্টোবর নিজ নিজ বিদ্যালয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সেই কর্মসূচী মোতাবেক আমরা কর্মসূচীগুলো যথাযথভাবে পালন করি।এরপরেও দাবি আদায় না হলে আগামী ২৩ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে পরবর্তী লাগাতার কর্মসূচি দেওয়ারও ঘোষণা কেন্দ্রিয় নেতারা। এটা আমাদের অস্তীত্বের লড়াই তাই আমরা স্বতঃফুর্তভাবে ঢাকার মহাসমাবেশ ও পরবর্তী কর্মসূচীর জন্য প্রস্তুত রয়েছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category