বৃহস্পতিবার, মে ২১, ২০২০




করোনাকাল পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মেধাবীদের নেতৃত্ব

 

সমগ্র বিশ্বের মতো বাংলাদেশও আজ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। নভেল করোনাভাইরাস আমাদের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তবে, আমাদের মনে রাখতে হবে এই করোনাকাল থেকে উত্তরণের পর আমাদের আরও অনেক নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে হবে। তার মধ্যে অবশ্যই শিক্ষা ও গবেষণা, জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা, নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতি ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ অন্যতম।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে ওঠার যোগ্যতা পূর্বেই অর্জন করেছে বাংলাদেশ। উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য মর্যাদার। তবে করোনাকাল পরবর্তী যুগে এই উন্নয়নশীল দেশের তকমা মাথায় নিয়ে আমাদের মোকাবেলা করতে হবে নানা চ্যালেঞ্জ, এবং সেসব চ্যালেঞ্জ নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকসহ পর্যবেক্ষক মহলে আলোচনা ও বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের জন্য সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে আগামী দিনের রাজনৈতিক নেতৃত্ব।

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বহুবার তাঁর প্রদত্ত ভাষণে স্বাধীনতার পর যে সাফল্য বাংলাদেশ অর্জন করেছে, আগামী দিনে তাকে আরও এগিয়ে নিতে নতুন প্রজন্মকে তৈরি হতে বলেছেন। অথচ আমাদের দেশে মেধাবী তরুণদের রাজনীতিতে অংশ নেয়া কমছে- যা সুশাসন ও উন্নয়নের পথে অন্যতম অন্তরায়। বেসরকারি এক তথ্য মতে, দেশের অর্ধেকের বেশি তরুণ-তরুণী রাজনীতিতে তাদের অনাগ্রহের কথা প্রকাশ করেছে, যা আমাদের জন্য অশনি সঙ্কেত!

বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা যায়, যারা ভালো রেজাল্ট করে কিংবা যাদের মধ্যে একটু দেশপ্রেম ও মানবতা লক্ষ্য করা যায় তারা রাজনীতিতে আসতে চায় না। আমাদের মনে রাখতে হবে, রাজনীতি হচ্ছে প্রবহমান নদীর মতো। রাজনীতিতে ভালো মানুষ বা মেধাবী নেতৃত্ব না এলে সেই জায়গা ফাঁকা থাকবে না। খারাপ নেতৃত্বের দ্বারা তা পূর্ণ হয়ে যাবে। এই বিষয়ে সবাই একমত হবেন যে, মেধাবীরা রাজনীতিতে না আসলে রাজনীতি মেধাশূন্য হয়ে যাবে।

নেতৃত্ব একটা শিল্প; প্রভাবিত করার শিল্প। রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রকৃতি হতে হবে উদারনৈতিক- সংকীর্ণমনা নয়। একজন ভালো নেতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো মানুষের প্রতি তার সহমর্মিতা ও সমবেদনা এবং অন্যদের দুঃখ-কষ্ট অনুধাবন করতে পারার ক্ষমতা। ভালো রাজনৈতিক নেতাকে অবশ্যই কর্মীর দুঃখ-কষ্টের প্রতিও সমব্যথী হতে হয়। রাজনীতিতে নেতার সঙ্গে কর্মীর সম্পর্ক হবে আদর্শভিত্তিক। কিন্তু, হতাশার বিষয় আমাদের বর্তমান সময়ের রাজনীতিতে নেতা ও কর্মীর মাঝে আদর্শের চেয়ে স্বার্থের গুরুত্ব বেশি! তবে এর ব্যতিক্রমও আছে- সাম্প্রতিক সময়ে আমরা এর বহু উদাহরণ দেখতে পাই।

আমরা আশা করছি এই মহামারী থেকে উত্তরণের পর বহুবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের রাজনৈতিক দলের নীতিনির্ধারকরা তরুণ মেধাবীদের রাজনীতিতে সক্রিয় করার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। নেতা যদি তার কর্মীকে স্বার্থের পথে ব্যবহার না করে রাজনৈতিক আদর্শ ও দেশপ্রেমের পথে উদ্বুদ্ধ করেন, তাহলে নিশ্চিতভাবে তা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের জন্য শ্রদ্ধা ও আস্থার জায়গা তৈরি করবে। করোনাকাল থেকে উত্তরণের পর আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পথে মেধাবীরা আমাদের দেশের নেতৃত্ব দেবেন- এই প্রত্যাশা করছি।

নজরুল ইসলাম : লেখক, প্রাক্তন উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক ও এমফিল রিসার্স ফেলো (শিক্ষা), স্কুল অব এডুকেশন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। ইমেইল : nazrul.russell@gmail.com

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category