মঙ্গলবার, মার্চ ২৪, ২০২০




কচুয়ায় করোনা সন্দহে রাহাতের পরিবার লকডাউন!! প্রায় ১”শ বড়িতে লালনিশানা উত্তোলন

মফিজুল ইসলাম বাবুলঃ করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দহে কচুয়া উপজেলার গোহট দক্ষিন ইউনিয়নের গুবিন্দপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির মৃত আবুল বাসারের ছেলে রাহাত (২৮) করোনা ভাইরাস আক্রান্ত সন্দহে তাকেসহ পরিবারের সদস্যদেরকে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপায়ন দাস শুভ”র নির্দেশ ক্রমে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শাহরিয়া শাহিন গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে বাড়ির সামনে লালনিশানা উত্তোলনের মধ্যে লকডাউনে রাখা হয়েছে। এছাড়াও কচুয়ার সর্বত্রে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রায় ১”শ পরিবার সদস্যদের সাথে কেউ যেন চলাফেরা বা স্পর্শ করতে না পারে সে জন্য উপজেলা প্রশাসন হুম কোয়ারেন্টাইন (লকডাউনে) রেখে বাড়িতে বাড়িতে লালনিশানা জুলিয়ে দিয়েছে।

চেয়ারম্যান শাহরিয়া শাহিন জানান, রায়হাত আরব-আমিরাত থেকে ১০/১২ দিন পূর্বে দুবাই এয়ারলাইন্সে দেশে এসে সরকারের নিয়মবিধি না মেনে হাজীগঞ্জে তার এক সহদর বোনের বাড়িতে আসে। সোমবার (২৩ মার্চ) রাহাত বোনের বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ্য অনুভব করলে সে নিজেই হাজীগঞ্জের এক ডাক্তারের শরনাপূর্ন হয়। ডাক্তার তাকে করোনা আক্রান্ত সন্দহে বলা মাত্র আতংকে সটকে পড়ে তার গুবিন্দপুর গ্রামের বাড়িতে চলে আসে। চেয়ারম্যান আরো জানান, মোবাইল ফোনে ঘটনাটি রায়হাতসহ তার পরিবারের লোকজন আমাকে অবগত করে এবং এ অবস্থায় তারা এখন কি করবে তারও সহযোগিতা চায়। আমি বিষয়টি এদিন সন্ধায় কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপায়ন দাস শুভ কে অবগত করলে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রধান করেন। সোমবার রাত ১০ টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি দল সরজমিনে আসলে রাহাতকে আলাদা একটি ঘরে দেখতে পায়। প্রতিনিধি দলের করোনা রোগি দেখার মতো কোনো সরঞ্জাম না থাকায় রায়হাতের কাছে না গিয়ে একটু দুর থেকে তার শারিরিক খোঁজখবর নেয় এবং তাকে পরামশ্য দেয় ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য।

এমতাবস্থায় রায়হাত একাকির্ত ঘরে থাকলেও তার পরিবাবের লোকজন আজ মঙ্গলবার সকালে আশ-পাশ দোকানপাটে আসলে স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে এবং ক্ষিপ্ত হওয়া লোকজ চেয়ারম্যানকে বিষয়টি অবগত করান। চেয়ারম্যান আজকের পরিস্থিতিটিও ইউএনওকে অবগত করলে ওই নির্দেশ ক্রমে পরিবারটিকে লকডাউনে রাখা হয়। লকডাউনে তাদের কোনো কিছুর প্রয়োজনে হলে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে সর্বাহ করা হবে বলেও চেয়ারম্যান শাহরিয়া শাহিন নিশ্চত করেন।

এদিকে গ্রামবাসীদের আলোচনা থেকে জানাযায়, রাহাত দেশের বেশ-কয়েক জনের কাছ থেকে উল্লেখ জনক অংকের টাকা ধার নেয়ারপর দেইদিচ্ছি করে দিচ্ছেনা। রায়হাত দেশে আসার পর সিলেট থেকেও এক পাওনাদার গুবিন্দপুর গ্রামে আসে। এ নিয়ে গ্রামবাসী মন্তব্য করছে,রায়হাত মানুষের টাকা আত্মসাত করার জন্য সে নিজে এবং পরিবারের লোকজন করোনা ভাইরাসের আক্রান্তের কথা মিথ্যা প্রচার করছে।

ঘানাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার ঝড় বইছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category