বুধবার, জুন ২৪, ২০২০




এবার কেউ হজে যেতে পারছেন না; সৌদির দুঃখ প্রকাশ

স্টাফ রিপোর্টারঃ করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সৌদি আরব এবার বাইরের দেশের হজযাত্রীদের সে দেশে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশসহ বাইরের দেশের মুসলিস্নরা এবার সৌদি আরবে গিয়ে পবিত্র হজ পালন করতে পারবেন না। সোমবার সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ঘোষণায় বলা হয়, সৌদি আরবে বর্তমানে যারা বসবাস করছেন, তাদের মধ্যে খুবই সীমিতসংখ্যক মুসলিস্ন এবারের পবিত্র হজে অংশ নিতে পারবেন।

সৌদি আরবের এ সিদ্ধান্তের ফলে অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশ থেকে নিবন্ধন করা ৬১ হাজার মুসলিস্ন হজে যেতে পারছেন না। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে এবার বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার মুসলিস্নর হজে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু এবার নিবন্ধন করেন মাত্র ৬১ হাজার মুসলিস্ন। সৌদির সিদ্ধান্তের পর তাদের এবার আর হজে যাওয়ার সুযোগ থাকছে না।

এদিকে পবিত্র হজে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশ থেকে যারা নিবন্ধন করেছিলেন তারা যেকোনো সময় তাদের নিবন্ধনের টাকা তুলে নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, টাকা তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন সে বিষয়টিও খেয়াল রাখা হবে।

মো. নূরুল ইসলাম বলেন, নিবন্ধিত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ যদি টাকা না তুলে মনে করেন যে আগামী বছর হজে যাওয়ার জন্য তা রেখে দেবেন তাহলে সে বিষয়টিকেও স্বাগত জানাবে মন্ত্রণালয়।

মো. নূরুল ইসলাম আরও জানান, বুধবার (আজ) এ বিষয়ে একটি সভা ডাকা হয়েছে। সে সভা থেকেই কীভাবে কী করতে হবে তা বলে দেওয়া হবে।

ধর্ম সচিব বলেন, নিবন্ধনের টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে। যেভাবে তারা (হজের জন্য নিবন্ধিত ব্যক্তি) টাকা জমা দিয়েছিলেন, সেভাবেই টাকা ফেরত নেবেন। তবে টাকা তোলার ক্ষেত্রে যেন সবাই একসঙ্গে ভিড় না করেন সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে যেন টাকা তোলা হয়, সে বিষয়টি দেখা হবে। তিনি বলেন, ‘আশা করি, আমরা এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা পাব।’

মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বুধবারের (আজ) সভার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানানো হবে। কারণ ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শেখ মো. আব্দুলস্নাহ মারা যাওয়ার পর এখন প্রধানমন্ত্রীই ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। তার অনুমতি নিয়ে পরে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।

ফোন করে সৌদি আরবের

দুঃখ প্রকাশ

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে এ বছর বিদেশ থেকে হজে যাওয়ার সুযোগ বন্ধ রাখায় সৌদি আরব সরকার ‘দুঃখ প্রকাশ’ করেছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম সচিব মো. নুরুল ইসলাম।

মঙ্গলবার তিনি বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সোমবার রাতে টেলিফোনে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে আমাকে ফোন করা হয়। জানানো হয়, করোনাভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকায় তারা এ বছর বাংলাদেশ তথা বাইরের কোনো দেশ থেকে কোনো হাজি নিতে পারছেন না। এজন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তারা।’

অন্ধকার দেখছে হজ

ট্রাভেল এজেন্সি

অন্যদিকে এবারের মৌসুমে হজ ‘সীমিত’ করার ঘোষণায় চোখে অন্ধকার দেখছে বাংলাদেশের হজ ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলো। মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। প্রতি হজ মৌসুমে দেশে সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার লেনদেন হলেও এ বছর এই অঙ্ক শূন্যের কোঠায় থেকে যাচ্ছে। ফলে অনেক হজ ও টিকিট বিক্রি করা ট্রাভেল এজেন্সিকে প্রতিষ্ঠানে তালা দিতে হবে। আর করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) কারণে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধে ধুঁকতে থাকা বিমান হারাবে রাজস্ব আয়ের সবচেয়ে বড় সুযোগটি। ফলে তাদের সামনে আরও ‘মহাসংকট’।

হজসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সৌদি সরকারের এ সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে হজ এজেন্সিগুলো। হজ ভিসা থেকে শুরু করে মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া, গাড়ি ভাড়া, হজযাত্রীদের খাওয়া- সার্বিক ব্যবস্থাপনার প্রতিটি ক্ষেত্রেই আয় হতো তাদের। তবে হজ সীমিত করার সিদ্ধান্তে তারা এই আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

হজ এজেন্সিস অব বাংলাদেশ (হাব) জানায়, তাদের বর্তমান সদস্য এক হাজার ২৩৮ (এজেন্সি)। এজেন্সিগুলোর মালিকসহ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। এছাড়া এ পেশার সঙ্গে পরোক্ষভাবে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবে আরও প্রায় এক লাখ লোক নিয়োজিত। সৌদির সিদ্ধান্ত এ বছর তাদের অনেক ভোগাবে বলে মনে করছে হাব।

এ বিষয়ে হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, এ বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ৩৭ হাজার জন হজে যাওয়ার কথা ছিল। হজকেন্দ্রিক প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার লেনদেন হতো। তবে সৌদির সিদ্ধান্তের কারণে এই বড় লেনদেনটি হচ্ছে না। এতে ছোট-বড় সব হজ এজেন্সিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমনকি অনেক এজেন্সির টিকে থাকাও কষ্ট হয়ে যাবে।

হজযাত্রীদের সৌদি পাঠাতে না পেরে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে টিকিটিং এজেন্সিগুলোকেও। এ বছর হজের বিমান ভাড়া ধরা হয়েছিল এক লাখ ৩৮ হাজার টাকা। প্রতিটি টিকিটিং এজেন্সি টিকিটপ্রতি ৭ শতাংশ হারে কমিশন পেত। হজ সীমিত হওয়ার কারণে তারাও এ কমিশন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এছাড়া আটাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল এইচ ভূঁইয়া বলেন, দেশে ৬০০ থেকে ৬৫০টি এজেন্সি সক্রিয়ভাবে হজযাত্রী বহন করে। প্রতিটি এজেন্সি থেকে কমপক্ষে ১০০ থেকে ৩০০ জন হজযাত্রীর টিকিট কাটা হতো। হজ সীমিতকরণের ঘোষণায় আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেল। অনেক এজেন্সি কয়েক মাস ধরে চরম সংকটে রয়েছে। হজ সীমিত করার সিদ্ধান্তে এ সংকট আরও প্রকট হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category